kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

তোমাদের গল্প

অবন্তি নিখোঁজ

তাহিরা তাসনিম   

৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অবন্তি নিখোঁজ

অঙ্কন মাসুম

দুপুর ১টা ১৫ মিনিট। অবন্তি বাড়িতে একা। মা-বাবা বেড়াতে গেছেন। ৪টায় কোচিং আছে বলে যায়নি। কোচিংয়ের পড়া পড়ে গোসলের জন্য Reading room থেকে বেরিয়ে নিজ রুমে যাচ্ছে। বাসাটা বেশ বড়। যেকোনো মানুষের ভয় লাগার কথা। কিন্তু ও ভয়টয় কিছু পাত্তা দেয় না। আগে অনেকবার ও বাসায় একা থেকেছে। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, পেছনে কেউ হাঁটছে। পেছন থেকে কে যেন ওকে টানছে। অবন্তি রুমে গিয়ে আলমারি থেকে জামা-কাপড় বের করছে। হঠাৎ কেমন যেন বাতাস ওর গায়ে এসে আছড়ে পড়ল। ভয় পেলে পেছনে ফিরে দেখে, না কিছুই নেই। একি, বাতাসটা কোথা থেকে এলো? জানালা তো বন্ধ। ‘মনের ভুল ধারণা’ মনে করে গান গাইতে গাইতে Wash room  -এর দিকে যাচ্ছে। একি, এতক্ষণ হাঁটছি, পথ এগোচ্ছে না কেন? ওর নিজেকে কেমন ভার ভার লাগছে। মনে হচ্ছে, ওর সঙ্গে কেউ হাঁটছে, কে যেন ওর পিছু নিয়েছে। পেছনে ফিরে তাকাল। না, কেউ নেই। নিজে বিড়বিড় করে বলল—‘ওসব বাজে ধারণা। ভূত বলে কিছু নেই।’ Wash room  -এর দরজা আটকানোর সময় একটা আওয়াজ শুনতে পেল। ‘অবন্তি, তুমি একা যেয়ো না। ওরা ভালো না।’ ‘কে? কে কথা বলছে?’ অবন্তি ভয়ে কাঁচুমাচু হয়ে জিজ্ঞেস করছে। ভয় তো পাওয়ারই কথা, কণ্ঠটা হুবহু ওর চার বছর আগে মরে যাওয়া ভাইয়ের মতো। দরজা খুলে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। না, কেউ নেই। ভয়টা এড়ানোর জন্য ঝরনা ছেড়ে জোরে গান গাইতে শুরু করে। না, ভয়টা যাচ্ছে না। হঠাৎ করে পানি ঠাণ্ডা মনে হচ্ছে। অনেক শীত লাগছে। গিজারটার দিক তাকিয়ে দেখে, না, গিজারটাও অন করা। বিদ্যুৎও চলে যায়। মনের ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঝরনাটা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু হচ্ছে না। ভেন্টিলেটরের আলোতে হঠাৎ খেয়াল করল, ওর গায়ে রক্ত মাখা। একি? ঝরনা থেকে পানি না, রক্ত পড়ছে। জোরে জোরে চিত্কার করছে। না, ওর গলা থেকে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছে না। অবন্তি কিছু দেখতে পাচ্ছে না। ওর চোখের সামনে সব অন্ধকার লাগছে। তারপর...। আজ তৃতীয় বছর হলো অবন্তির খোঁজ পাওয়া যায়নি। কেউ জানতে পারেনি কিভাবে অবন্তি নিখোঁজ হলো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা