kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

রহস্যজট

ফন্দিতে গলদ

আশিকুর রহমান   

৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফন্দিতে গলদ

চোখ রগড়ে ঘুম থেকে উঠতেই তাগিদ দিল ইমতিয়াজ।

‘নাফিজ! সাতটা বাজে। জলদি কর। তাড়াতাড়ি না গেলে সকালটা মিস করবি। নীলগিরির সকাল মানেই... নাহ... আমি নিজেও জানি না কেমন। কারণ কখনো যাইনি।’

একটু পর ব্যাগ কাঁধে তুষারও উঁকি দিয়ে গেল।

হাই তুলতে তুলতে নাফিজ বলল, ‘মামা কোথায়?’

‘উনি গাড়ির বনেট খুলে খুটুরখাটুর করছেন। আরাফাত গেছে বাথরুমে।’

‘আর মিজান?’

‘মিজান?’

‘হ্যাঁ, ও কোথায়?’

‘তোর মাথা গেছে। এভাবে ঘুমালে তো যাবেই। সারাটা পথও ঘুমালি। উল্টোপাল্টা বকলি, এখন আবার মিজানকে খুঁজছিস।’

‘মানে কী!’

‘মানে তোর মাথা গেছে।’

‘মিজানের সঙ্গে আমার মাথার কী সম্পর্ক?’

‘মিজান এখন উড়ে আসবে ঢাকা থেকে?’

গটগট করে চলে গেল তুষার। একটু পর ব্যাগ হাতে ছুটে এলো আরাফাত।

‘তুই এখনো শুয়ে?’

‘উঠছি, কিন্তু মিজান কই। ওকে দেখছি না যে?’

নাফিজের দিকে কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল আরাফাত। তারপর বলল, ‘মিজানের কথা মুখেও আনবি না। এত করে বললাম, চল আমাদের সঙ্গে বান্দরবান, শয়তানটা একবার বলে তার বাসা থেকে দেবে না, আরেকবার বলে পেট খারাপ।’

‘ঘটনা কী! আমার পাশের সিটে বসেই তো ও এলো!’

‘স্বপ্নে দেখেছিস! কাল ঘুমের মধ্যে বিড়বিড় করে কি তাহলে মিজানের সঙ্গে কথা বলেছিস?’

পরের ১০টা মিনিট তুমুল তর্কবিতর্কে কাটল। নাফিজের মামা, যার গাড়িতে করে তারা একটু পর নীলগিরির দিকে যাবে, তিনিও আকাশ থেকে পড়লেন। সবার এক কথা, ঘুমের ঘোরে ভুল দেখেছে নাফিজ। এখন উল্টাপাল্টা বকছেও। শেষে বিরক্ত হয়েই ইমতিয়াজ বলল, ‘শোন, তোর এত মিজানপ্রীতি থাকলে তুই থাক, আমরা যাই।’

‘আরে বাবা, জলজ্যান্ত একটা মানুষ...।’

‘জলজ্যান্ত মানুষ জলজ্যান্তই আছে। তার কিছু হয় নাই।’

‘তাহলে গেল কোথায়! আমাদের সঙ্গেই তো...।’

‘ভাঙা রেকর্ড এতবার বাজাসনে। চল!’

নাফিজ ঝিম মেরে ভাবল কিছুক্ষণ। নাহ, কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। টানা চার দিন সরকারি ছুটি। কলেজ বন্ধ। বান্দরবান ট্যুরের প্ল্যান করল সবাই মিলে। নাফিজের মামা বান্দরবানে থাকে। তাঁর গাড়ি থাকায় চিন্তা করেনি কেউ। একসঙ্গে বাসে উঠল ঢাকা থেকে। কথাবার্তা, হৈ-হুল্লোড়, জোকস। তারপর...। তারপর তার খানিকটা ঘুম এসেছিল ঠিকই। কিন্তু...। নাহ, ভুল হয় কী করে। তারা যে রিসোর্টে উঠেছে, তার আশপাশে এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বসতি নেই। সব নীরব-নিথর। মিজান গেলই বা কোথায়।

‘আচ্ছা বাবা! টাইম নাই হাতে। তোর এত খুঁতখুঁতানি থাকলে ওকে একটা কলই দে না হয়।’

আরে তাইতো! তড়াক করে লাফিয়ে উঠল নাফিজ। চটজলদি ডায়াল করল মিজানের নম্বর। রিং হতেই টানটান উত্তেজনা। কল রিসিভ হতেই চমকে উঠল নাফিজ। ওপাশে টুংটাং, পেঁ-পোঁ শব্দ পেয়ে ভড়কে গেল নাফিজ।

‘হ্যালো। নাফিজ?’

‘মিজান! তুই..!’

‘বল...। আমি একটু বাইরে এসেছি। বাজার করব। গেস্ট আসবে একটু পর।’

‘তুই বান্দরবানে...।’

ভিড়বাট্টা, হৈচৈ আর লোকজনের চেঁচামেচিও কানে আসছে। মিজানরা থাকে ঢাকার শনির আখড়া এলাকায়। পাশ থেকে বাসের হেলপারের চেঁচামেচিও কানে এলো, অ্যাই ফার্মগেট, শাহবাগ, মহাখালী...চেঁচিয়েই যাচ্ছে। কে যেন আবার বলল, মিজান ভাই, কলেজে যাওয়ার সময় আমাকে ডাক দিয়েন। ডিমওয়ালার চিত্কারও কানে এলো, মিজান ভাই, ডিম নিয়া যান, ডজন আশি, ডজন আশি।

‘তো... তো... তুই...।’

‘আচ্ছা, পরে কথা বলব। তোরা ফিরেই আমাকে ফোন দিস।’

ফোন রেখে আবারও চুল চেপে ধরল নাফিজ। ১০ সেকেন্ড পর আবার লাফ দিয়ে উঠল। সবাই হাঁ করে তার কাণ্ড দেখছিল।

‘গাড়ি স্টার্ট দাও মামা। আমার জাস্ট ১০টা মিনিট লাগবে। আর মিজান কোথায় লুকিয়েছে? টয়লেটে? ওকে জানাও, ধরা পড়ে গেছে। রেকর্ড করা শব্দ শুনিয়ে আমাকে বোকা বানাতে পারবে না।’

এবার বলো, নাফিজ কী করে নিশ্চিত হলো যে মিজান ও বাকিরা মিলে তাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে।

 

মন্তব্য