kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মজার ঘটনা

শ্মশানে কে?

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্মশানে কে?

অঙ্কন : মাসুম

২০১৩ সালের শীতের রাত। গ্রামের ঠিক মাঝ বরাবর চারটি পারিবারিক শ্মশানঘাট। চারদিকে কুয়াশা। রাত দশটা কি এগারোটা। শ্মশানের সামনে যে দুটি ঘর আছে, সেখানকার একটি ঘরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে।

হঠাৎ ওই বাড়ির একজন শ্মশানের মাঝে অস্বাভাবিক কিছুর অস্তিত্ব আঁচ করল। লোকটার সাহস কম। তাই সাদা মূর্তিটা দেখেই ‘ওরে বাপ পর, শ্মশানে ওটা কী!’ বলে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে ঘরটায় ঢুকে গেল। তার চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গে সবাই তটস্থ।

এক সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড, তিন সেকেন্ড! নিস্তব্ধ সব কিছু। একে অপরের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে অনেকে। হঠাৎ নীরবতা ভেঙে কেউ একজন বলল, টর্চ আর দা-টা দে! দেখি ওটা কী। মুহূর্তের মধ্যে ওনার সঙ্গে যোগ দিল অন্যরাও। হাতের কাছে যে যা পেয়েছে, তা নিয়ে তৈরি সবাই। এই বুঝি রণক্ষেত্র হতে চলল শ্মশানঘাট।

কেউ বলছে, ‘ব্যাটার আজ মুণ্ডু কেটে নেব!’ কেউ বলছে, ‘ব্যাটাকে ওখানেই পুড়িয়ে ছাড়ব।’ আরো কত হম্বিতম্বি। এদিকে শ্মশানে কিন্তু ঠায় দাঁড়িয়ে আছে লম্বা সাদা মূর্তিটা।

এর মধ্যে আরো লোকজন এসে জড়ো হলো বাড়িটার সামনে। তবে সাহস করে কেউ এগিয়ে আসছে না। একদিকে কুয়াশা, অন্যদিকে অন্ধকার।

খানিক পর সবাই সিদ্ধান্ত নিল, কয়েকজন আগে শ্মশানের মাঝে থাকা ওই মূর্তিটাকে দেখতে যাবে। একজন, দুজন করে বের হলো কয়েকজন। সাহস করে এক পা এগোলেও পাঁচ পা পেছানোর মতো অবস্থা। বড়রা নিজেদের শক্ত রাখলেও, ছোটরা ভয়ে জবুথবু। এর মধ্যে আবার একটা দল টর্চ হাতে শ্মশানের দিকে হাঁটা শুরু করল। শ্মশানের মাঝে কে দাঁড়িয়ে? কী চায় ওই অতৃপ্ত প্রেতাত্মা? এমন কত প্রশ্ন নিশ্চয়ই ঘুরছে তাদের মাথায়। মানুষগুলো শ্মশানের কাছাকাছি যেতেই আচমকা লম্বা সাদা মূর্তিটা নড়ে উঠল। সবাই আবার থমকে দাঁড়ালো। এরপর তারা দেখতে পেল, মূর্তিটা ধীরে ধীরে পিছু হটছে। ব্যস! মুহূর্তে মহা সাহসী হয়ে উঠল একেকজন। হৈহৈ-রৈরৈ করে তেড়ে এলো। সাদা মূর্তিটাও জান বাঁচাতে পড়িমড়ি দৌড়। কেউ আর তার নাগালই পেল না।

পরের দিন সকালে সবার মুখে মুখে রটে যায় ঘটনা। কী ছিল ওটা, প্রশ্ন সবার। রহস্যটা অমীমাংসিতই থেকে গেছে অনেকের কাছে। উদ্ঘাটন হয়নি কূল-কিনারা। তবে যাঁরা এখন লেখাটি পড়ছেন, তাঁরা জেনে যাবেন যে ওই ছায়ামূর্তি আর কেউ নয়, আমিই ছিলাম! একটা সাদা কাপড় পরে দাঁড়িয়ে ছিলাম শ্মশানে। উদ্দেশ্য সবাইকে ভয় দেখানো। আর যে সবার আগে চিৎকার করে লোক জড়ো করেছিল, সে আমারই বন্ধু।

তবে ভয় দেখানোর পরিবর্তে নিজেই ভয় পেয়ে পড়িমড়ি করে পালিয়েছিলাম। তা না হলে কপালে যে কী ছিল! আর এক মিনিট থাকলে হয়তো ওই শ্মশানেই আমার...। গ্রামে এলে এখনো লোকজনের মুখে ওই গল্প শুনি আর মুচকি হাসি।

হিমু চন্দ্র শীল, কক্সবাজার সরকারি কলেজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা