kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

রহস্যজট

সদানন্দের আংটি

আবদুল্লাহ আল ফারুক

২৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সদানন্দের আংটি

অঙ্কন : মাসুম

অনামিকায় সব সময় একটা পিতলের আংটি পরেন আনন্দমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদানন্দ। ক্লাসে ব্যাকরণ পড়ান। বিজ্ঞান পড়ালে লোকে বলত, বিজ্ঞানের স্যার হয়েও এসব আংটিতে বিশ্বাস করেন। কিন্তু ব্যাকরণের কারণে আংটি নিয়ে সরাসরি কেউ কিছু বলে না। ওটা যে সদানন্দ স্যারের বড়ই প্রিয় বস্তু, সেটা ক্লাসে নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রটাও জানে। তাই এ নিয়ে গল্পের শেষ নেই।

কেউ বলে, এই পিতলের আংটির আশ্চর্য ঔষধি গুণ আছে। যার কারণে সদানন্দকে কোনো দিন একটা হাঁচিও দিতে দেখেনি কেউ। কেউ বলে, এটা হাজার বছর আগের কোনো মুনি ঋষির আংটি। অদ্ভুত বশীকরণ ক্ষমতা আছে এটার। কিন্তু সদানন্দ সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন না। এর মাঝে আবার ছড়িয়েছে নতুন গুজব—অমরত্বের চাবি আছে আংটিটার ভেতর। তাই এটা যক্ষের ধনের মতো আগলে রাখেন তিনি। কিন্তু যক্ষের ধনও যে অক্ষত থাকে না। একদিন চুরি হয়ে গেল আংটিটা! তা-ও আবার দিনদুপুরে, স্কুল থেকেই!

টানা তিনটা ক্লাস নিয়ে বেশ ক্লান্ত ছিলেন। ফ্যানের সুইচ অন করে দেখলেন, বিদ্যুত্ নেই। চেয়ারে বসে একটা খাতা দিয়ে গায়ে বাতাস করতে করতে জিরোচ্ছিলেন সদানন্দ। একপর্যায়ে ঘুমে একেবারে কাদা। ঘুম ভাঙার পর চোখ কচলাতেই টের পেলেন, একটা কিছু মিলছে না। আঙুলগুলো খালি। আংটি উধাও! মানে অমরত্বের গুজবে কান দিয়ে কেউ একজন সত্যিই মরিয়া হয়ে গিয়েছিল আংটিটার জন্য। তা না হলে এত বড় ঝুঁকি নেবে কেন!

স্কুলের অন্য কোনো শিক্ষক এ কাজ করবে না, কারণ বেশির ভাগই এসবে বিশ্বাস করে না। ক্লাসের সব ছাত্রকেও চেনেন সদানন্দ। এরা বড়জোর স্কুলের নারকেলগাছ থেকে দু-একটা ডাব চুরি করতে পারবে, স্যারের হাত থেকে আংটি চুরির কথা কল্পনাও করবে না। অগত্যা সমন জারি হলো তিন দপ্তরির নামে। তিনজনেরই বয়স হয়েছে। ভয়ে কাঁচুমাচু প্রত্যেকেই। সদানন্দ ভীষণ কড়া। তাঁর ডাক পড়লে এমনিতেই সবাই তটস্থ থাকে।

‘আমি যখন ঘুমুচ্ছিলাম তখন কে কোথায় ছিলে শুনি?’

‘জি... জি... স্যার... ইয়ে...।’

আমতা করছে তিনজনই।

‘একজন একজন করে বলো!’

নুরুল আলম। বয়স ষাটের কাছাকাছি। ‘স্যার, আমি তো ভাত খাইয়া একটু সাইকেলে তেল লাগাইতেছিলাম। এর মইদ্দে আবার জরুরি কাজে এক লোক আসছিল। আপনে ঘুমাইতেছেন দেইখা আর ডাক দেই নাই।’

হরিপদের বয়স সত্তরের কাছাকাছি। ‘স্যার, আমি একটু ঘোরাঘুরি করতেছিলাম। এমন সময় দেখি পিলারের আগায় পতাকাটা উল্টা। ওইটা সোজা করে আবার উপরে তুলে দিছি। এরপর দেখি আপনে ঘুম দিছেন। আর... আর... আর আপনার টেবিলে একগ্লাস জল রেখে এসেছিলাম, স্যার। এরপর কী করছি তা তো মনে পড়ে না।’

জয়নাল খুব ভয়ে ভয়ে আছে। আমতা আমতা করছে খুব। ঠিকমতো গুছিয়ে বলতেই পারছে না। ‘স্যা... স্যা... স্যার... আমি আমি আপনার কাছেই যাইতেছিলাম। ছু... ছু... ছুটির জন্য। দেখি হরিপদ পানি রাখতেছে আপনার টেবিলে। পরে আর আপনারে ডাক দেই নাই। আমি কমনরুমে গিয়া একটু টিভি দেখছি।’

‘হুমমম।’

আংটির জোরে হোক আর নিজের সূক্ষ্ম দৃষ্টি, সদানন্দের ভেতর একটা গোয়েন্দা লুকিয়ে আছে। খপ করে ধরে ফেললেন চোর। সরাসরি তাকিয়ে বললেন, আংটিটা ফেরত দাও, সঙ্গে রিজাইন লেটারটাও।

এবার বলো, সদানন্দ স্যারের আংটি কে চুরি করেছে? নিশ্চিত হবে কী করে?

 

গত রহস্যজটের উত্তর

উত্তর : চুরির কথা শুনে টেনশনে সবার মুদ্রাদোষের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সবাই ছিল চুপচাপ। বাকি থাকে গৃহকর্মী। সুতরাং সে-ই চুরি করেছে। অভ্যাসবশত ডলার সরিয়ে কাপড় ঠিকই সে গুছিয়ে রেখেছিল।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা