kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রযুক্তি

কৃত্রিম অঙ্গে নতুনত্ব

চামড়ার তৈরি তিন হাজার বছর আগেকার কৃত্রিম পায়ের আঙুল পাওয়া গিয়েছিল মিসরে। হাত হারানো জলদস্যুদের পরতে দেখা যেত ভয়ানক হুক। বিজ্ঞানের সঙ্গে বদলে গেছে এ সব কৃত্রিম অঙ্গ। এখন এমন সব আর্টিফিশিয়াল লিম্ব তথা কৃত্রিম অঙ্গ আবিষ্কার হয়েছে মনে হবে যেন সায়েন্স ফিকশন সত্য হয়ে গেছে! কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হালনাগাদ খবর জানাচ্ছেন কাজী ফারহান পূর্ব

২৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




কৃত্রিম অঙ্গে নতুনত্ব

আই-লিম্ব

পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিকভাবে নির্মিত বায়োনিক হাত হল আই-লিম্ব। ২০০৭ সালে প্রথম হাতটির বিক্রি শুরু হয়। এর উদ্ভাবক যুক্তরাজ্যের ডেভিড গাও। গত শতাব্দীতে ব্রিটেনের সেরা আটটি আবিষ্কারের একটি এটি (বিবিসি)। গত এক যুগে এ হাতে এসেছে দারুণ সব আপডেট। কী আছে এই নকল হাতে? হংকিয়াট ডটকম সাইট থেকে জানা গেল বায়োনিক হাতটি কোনো ব্যক্তির কাটা হাতের শেষ অংশের পেশীর নড়াচড়া বুঝতে পারে। পেশী থেকে প্রাপ্ত সিগনালটা হলো মায়োইলেক্ট্রিক সিগনাল। আই লিম্ব-এ এই সিগনাল বোঝার জন্য ইলেকট্রোড থাকে। এগুলোই পেশীর নড়াচড়া থেকে সঙ্কেত নিয়ে হাতটিকে ব্যবহারকারী কীভাবে চালাতে চাচ্ছেন তা বুঝে নেয়। ফলে বুদ্ধিমান হাতটিকে ব্যক্তি তার ইচ্ছামতো নাড়াতে পারে। বিবিসি থেকে জানা যায় এই বায়োনিক হাত দিয়ে চাইলে ধাতব বুড়ো আঙুলকেও ইচ্ছেমতো ঘোরানো যায়। ডেভিড গাও বিবিসিকে বলেন, ‘আমি বিকলাঙ্গ মানুষদের জীবনকে সহজ করার জন্য প্রযুক্তিকে ব্যবহারের চেষ্টা করেছি। কিন্তু কখনই কল্পনা করতে পারিনি যে আমার কাজ এ বিষয়ে পথিকৃত হবে!’ আই-লিম্ব সম্পর্কে আরো জানতে ভিডিওটি দেখতে পারো— https://www.youtube.com/watch?v=fZOYPlxtAMk

 

বায়োনিক চোখ

নাম আরগাস-২। এটি রেটিনাল প্রসথেসিস। সেকেন্ড সাইট নামের একটি কম্পানির অনন্যসাধারণ আবিষ্কার। রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা হল এমন এক জিনেটিক রোগ যা রেটিনার কোষ নষ্ট করে দেয়। কোনো বস্তু থেকে আলো রেটিনায় পড়লে আমরা ওটা দেখি। তাই এ রোগে আক্রান্ত রোগী ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারায়। বিজ্ঞানীরা এর সমাধানের জন্য রোগীর চোখে রেটিনাল প্রসথেসিস প্রতিস্থাপন করেন। এরপর তাকে প্রসেসরওয়ালা একটি ক্যামেরা সংযুক্ত চশমা পরতে দেন। ক্যামেরায় ছবি রেকর্ড হয়ে সঙ্কেত আকারে চলে যায় রেটিনাল ইমপ্ল্যান্টে। এই সিগনালটা ইলেকট্রোডে গেলে  বৈদ্যুতিক সঙ্কেতে রূপান্তরিত হয়ে রেটিনার কোষগুলোকে উজ্জীবীত করে মস্তিষ্কের অপটিক স্নায়ুর মধ্যে পৌঁছায়। এতে রোগী আলোর একটা বিন্যাস দেখতে পান। পুরোপুরি অন্ধত্বের শিকার হওয়া ব্যক্তিকে  কোনো বস্তুর অবয়ব কিংবা আলোর বিন্যাস দেখাতে পারাটাও বিশাল অর্জন বটে।

 

মনচালিত হাত!

জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড ফিজিকস ল্যাবরেটরি ২০১০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ‘মডুলার প্রসথেটিক লিম্ব’ নামের বায়োনিক হাত তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি এর পৃষ্ঠপোষক। তারা এমন একটি বায়োনিক হাত চেয়েছিল, যা পুরোপুরি আসল হাতের মতোই কাজ করবে এবং সেটি চিন্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রণও করা যাবে। ল্যাবরেটরির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, হাতটিতে মোট ১০৯টি সেন্সর আছে। আশার কথা হলো, যে স্বেচ্ছাসেবীরা পরীক্ষা করার জন্য এ হাত ব্যবহার করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের আঙুলের উপস্থিতি ‘অনুভব’ করতে পেরেছেন। এমনকি কোন বস্তু কতটুকু শক্ত, তা-ও বুঝতে পেরেছেন। এ হাত এখনো বাজারে আসেনি। চলছে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এর সম্পর্কে আরো জানতে দেখতে পারো ভিডিওটি  @https://www.youtube.com/watch?v=DjzA9b9T3d8

 

নকল হাঁটু ও পায়ের পাতা

যখন হাঁটুর মধ্যে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না, তখন চলে আসে অসুরের নাম! এ অসুর মানে দৈত্য নয়। এটি আইসল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠান। কৃত্রিম অঙ্গ বানানো যাদের কাজ। তাদের হাঁটুর নাম পাওয়ার নি। প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, পাওয়ার নি পৃথিবীর প্রথম এবং একমাত্র মোটরচালিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বায়োনিক হাঁটু। পা ভাঁজ করার জন্য পেশির মধ্যে যে জৈবিক কার্যকলাপ ঘটে, তা নকল করতে পারে এটি। দুই কেজি ৭০০ গ্রাম ভরের নকল হাঁটুটি ব্যবহারকারীর হাঁটার অভ্যাসও শিখে নেয়। এতে একপর্যায়ে এটাকে আর নকল মনেই হবে না। পাওয়ার নির মতো প্রপ্রিও ফুট নামের কৃত্রিম পায়ের পাতাও তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। যাদের পায়ের পাতা নেই, তারা এটি ব্যবহার করে উঁচু-নিচু পথে সহজেই হাঁটতে পারবে।

 

 

টারমিনেটর বাহু

জেমস ক্যামেরনের টারমিনেটরের রোবটিক হাতের সঙ্গে মিল আছে এই বায়োনিক হাতের। তাই এর ডাকনামই হয়ে গেছে টারমিনেটর আর্ম। আসল নাম ‘বেবায়োনিক-৩ মায়োইলেকট্রিক হ্যান্ড’। আই-লিম্বের মতোই বাজারে মিলবে এটি। ব্রিটিশ কম্পানি আরএসএল স্টিপারের তৈরি হাতটি কার্বন ফাইবারের তৈরি। অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে হালকা হলেও ইস্পাতের চেয়ে পাঁচ গুণ দৃঢ়। স্টিপারের মহাব্যবস্থাপক রিচার্ড শ্যাপকট বলেন, ‘বেবায়োনিক-৩ এর প্রতিটি আঙুলের জন্য আলাদা মোটর আছে। তাই এটি আসল হাতের মতো কাজ করে।’ আই-লিম্বের মতো বেবায়োনিক-৩’ও পেশি থেকে মায়োইলেকট্রিক সিগন্যাল নেয়। এ হাতের কবজি আসল হাতের মতো ঘোরানো যায়। ফলে বোতল থেকে পানি ঢালায় কোনো সমস্যাই নয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা