kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শিখে নাও

টেনিসে ওরা কম কিসে!

পছন্দের খেলোয়াড় রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল, সানিয়া মির্জা? আমাদের দেশেও কিন্তু টেনিস তারকা আছে। এমনকি তাদের কেউ কেউ তোমাদের বয়সী। বিশ্বের ময়দানে যারা বড় কিছু ঘটিয়ে দিতে পারে শিগগিরই। তাদের কজনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন গাজী খায়রুল আলম

২৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



টেনিসে ওরা কম কিসে!

কিছুদিন আগেই হয়ে গেল বিকেএসপি ও জাতীয় টেনিস ফেডারেশন আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৪ এশিয়ান টেনিস গেম। সেখানে বালক ও বালিকা একক ও দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আমাদের রোমান, জোবায়েদ, মাসফিয়া, জেরিন সুলতানা ও আলভি।

জাতীয় টেনিস ফেডারেশন আয়োজিত এশিয়ান গেমসে বালক এককে চ্যাম্পিয়ন ও দ্বৈতে রানার আপ এবং বিকেএসপি আয়োজিত এশিয়ান গেমসে বালক এককে চ্যাম্পিয়ন হয় বিকেএসপির টেনিস খেলোয়াড় মোহাম্মদ রোমান হোসেন। ২০১৫ সাল থেকে বিকেএসপিতে টেনিস খেলছে ও। স্থানীয়ভাবে টেনিসে তার অর্জন অনেক। রোমান জানাল, ‘ছোট থেকে টেনিসের প্রতি মায়া ছিল। টিভিতে টেনিস দেখতাম নিয়মিত। ভাবতাম, ওদের মতো যদি খেলতে পারতাম। ভাবনার কথা মা-বাবাকে জানাতে তাঁরা আমাকে বিকেএসপিতে ভর্তি করান। এখন পর্যন্ত টেনিস ফেডারেশন ও বিকেএসপি আয়োজিত বেশ কিছু খেলায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হয়েছি। তা ছাড়া ২০১৭ সালে নেপালে এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলাম।’

রোমান আরো জানাল, ‘খেলায় নামার আগে নিজে যতটুকু জানি তার পুরোটা দিতে চেষ্টা করি। এ খেলার প্রথম শর্ত হলো, কোনোভাবেই মাথা গরম করা চলবে না। যে যত মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারবে আর পরিশ্রম করতে পারবে, সে তত ভালো ফল পাবে। কারণ টেনিস খেলতে গেলে শরীরের ওপর অনেক চাপ পড়ে। এতে মানসিক চাপও পড়তে পারে। এর জন্য শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস লাগবেই। বড় হয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করাই আপাতত লক্ষ্য।’

জোবায়েদ উত্স পাঁচ বছর ধরে বিকেএসপিতে টেনিস প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এশিয়ান অনূর্ধ্ব-১৪ এর ডাবলসে চ্যাম্পিয়ন ও। নেপালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যও ছিল। উত্স বলল, ‘প্রতিপক্ষকে হারাতে প্রথমে নিজেকে মানসিকভাবে তৈরি করি। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ভাবি, যেভাবে হোক জিততে হবে। নিজের দেশের প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের চেয়ে বাইরের দেশের প্রতিপক্ষের সঙ্গে ভালো খেলতে পারি। এটা এক ধরনের মানসিক ব্যাপার। তখন আমার নিজেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি মনে হয়। মনে হয় যেন আমি হারলে বাংলাদেশ হারবে। তাই বাড়তি একটা কিছু কাজ করে। আর টেনিসে পায়ের কাজ ও হাতের কাজগুলো ভালোভাবে রপ্ত করতে পারলে জয় পাওয়া সহজ। এ পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে কয়েকবার চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হয়েছি।’

উেসর সঙ্গে দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন মেহেদী হাসান আলভি আট বছর ধরে জাতীয় টেনিস ফেডারেশনের নিয়মিত খেলোয়াড়। এ বছর জাতীয় টেনিস ফেডারেশন আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৪ এশিয়ান গেমসে দ্বৈত চ্যাম্পিয়ন। নেপালে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড আন্ডার-১২ টেনিসে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সদস্য ছিল এবং ভিয়েতনামে বালক দ্বৈতের সেমিফাইনালিস্ট। মেহেদী বলল, ‘প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে চর্চা করি। যদিও এটি যথেষ্ট নয়। তবে ছুটির দিনে একটু বেশি পরিশ্রম করি। জাতীয়ভাবে আমার অর্জন আছে অনেক। এখন আন্তর্জাতিকভাবে ভালো কিছু করতে চাই। টেনিস খেলে বড় তারকা হওয়ার সুযোগ থাকে। রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদালদের আইডল মেনে পরিশ্রম করে চলেছি। আশা করি, বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ভালো কিছু অর্জন করতে পারব।’

ছোটবেলা থেকেই টেনিসের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে মাসফিয়া আফরিনের। বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের নিয়মিত সদস্য ও। বিকেএসপি আয়োজিত চ্যাম্পিয়নশিপে জেরিন সুলতানার সঙ্গে দ্বৈতভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় ও। মাসফিয়া জানাল, ‘টেনিস মজার খেলা। এতে অনেক উত্তেজনাময় মুহূর্ত থাকে। যখন প্রথম সেট জিতে দ্বিতীয়টায় হেরে যাই, তখন আবার প্রথম সেটে জেতার মানসিকতা নিয়ে তৃতীয় সেট খেলতে হয়। দিনে পাঁচ ঘণ্টার মতো প্র্যাকটিস করি। টেনিসে শেখার শেষ নেই। আপাতত সেরেনা উইলিয়ামসের মতো খেলতে পারাটাই আমার লক্ষ্য।’

উৎস

ভালো খেলতে ও শিখতে

টেনিস খেলতে শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হবে। থাকতে হবে অ্যাথলেটিক বডি। বয়স অনুযায়ী উচ্চতাও থাকা চাই। শরীরের গতিবিধি হবে মসৃণ ও নমনীয়। প্রতিপক্ষের গতিপথ ও পরিকল্পনা বুঝতে আইকিউও ভালো থাকতে হবে।

বিকেএসপির টেনিসের প্রধান কোচ রোকন উদ্দিন আহমেদ জানালেন, ‘একজন খেলোয়াড়কে গড়ে তুলতে প্রথমে যে কাজটি করি তা হলো, তার মস্তিষ্কের কিছু কিছু অংশের উন্নয়ন (ইংরেজিতে যাকে বলে মোটর কম্পোনেন্ট)। খেলোয়াড়ের ভেতর সহনশীলতা, শক্তি, গতি, তত্পরতা, নমনীয়তা ও সমন্বয়ের উন্নতি করতে হয়। এগুলো ঠিকঠাক থাকলে জিগজ্যাগ দৌড় শেখানো হয়। বারবার দৌড়ানোর চর্চাও করাতে হয়। পায়ের বিভিন্ন ধরনের নড়াচড়া আছে। হাত দ্রুত চালানোর কৌশল আছে। এমনকি হাতের পেশির ব্যায়ামও শেখাতে হয়। শুরুতে তিন-চার ঘণ্টা প্র্যাকটিস করতে হয়। খেলা শিখে ফেললে নিয়মিত ৫-৬ ঘণ্টা চর্চা করলেই চলে। তবে খেলোয়াড়ের শারীরিক সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করবে প্র্যাকটিসের সময়সীমা। খেলায় নামার আগে অবশ্যই ওয়ার্মআপ করে নিতে হবে। এর মধ্যে একটি শারীরিক ওয়ার্মআপ, অন্যটি কৌশলগত। এটা না করে খেলতে নামলে আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ খেলার জন্য আলাদা করে কোনো ডায়েট নেই। তবে চিনিমুক্ত ও পুষ্টিকর তরল খাবার বেশি খেলে ভালো। বিশেষ করে পর্যাপ্ত পানি ও ফলের রস।’

রোমান

ভর্তির খোঁজখবর

জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স : শারীরিক পরীক্ষা দিয়ে যেকোনো সময় ভর্তি হওয়া যায়। ৬-১২ বছর বয়সের শিশুদের জন্য প্রশিক্ষণ ফি নেই। ভর্তি ফি তিন মাসের বেতনসহ চার হাজার ৭০০ টাকা। তিন মাস পর থেকে মাসিক ফি ৭০০ টাকা। যোগাযোগ : জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স, রমনা, ঢাকা, ০১৮১২৮৭৪৫৮৭।

আলভি

বিকেএসপি : প্রতিবছরই ভর্তির সার্কুলার দেওয়া হয়। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। বিকেএসপিতে গিয়ে মেডিক্যাল পরীক্ষা দিতে হয়। তাতে টিকে গেলেই ভর্তি হওয়া যায়।

ভর্তি ফি তিন হাজার টাকা, মাসিক ফি এক হাজার টাকা। ক্লাস প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যোগাযোগ-বিকেএসপি, জিরানী বাজার,সাভার, ফোন : ০২-৭৭৮৯৫১৩, টেনিসের প্রধান প্রশিক্ষক রোকন উদ্দিন (০১৭১১৩৪৮২৫৩)।

নারায়ণগঞ্জ টেনিস কমপ্লেক্স : এর নিয়ম-কানুন জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্সের মতোই। রবিবার ছাড়া বাকি ছয়দিনই দুপুর ২টা থেকে ক্লাস হয়। যোগাযোগ : ৯৫ বঙ্গবন্ধু রোড, নারায়ণগঞ্জ, ফোন ০২-৭৬৪০১২৭।

গুলশান ইয়ুথ ক্লাব : এখানে টেনিস শেখানো হয়। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ : ১০৯, গুলশান প্লে-গ্রাউন্ড, গুলশান, ঢাকা (০১৮৪৪০২৭৩৯৭)।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা