kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

পড়তে পারো

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একাত্তরের দিনগুলি

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রুমির মা, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। ‘একাত্তরের দিনগুলি’ সেই শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ব্যক্তিগত দিনলিপি আকারে রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ। কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র, গেরিলা যোদ্ধা শহীদ শফী ইমাম রুমি।

উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে রুমি আইএসসি পাস করে বিদেশে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। যাওয়ার দিনক্ষণও ঘনিয়ে এসেছিল। তখন মার্চ মাস, দেশ উত্তাল হতে শুরু করেছে। রুমির মা চাইছেন, ছেলে বাইরে চলে যাচ্ছে, ভালোই হলো। কিন্তু রুমির মনে অন্য কিছু। তিনি ঠিক করে ফেললেন, যুদ্ধে যাবেন। এই প্রস্তাব মা-বাবার সামনে তুলতেই প্রথমে বেঁকে বসেন মা জাহানারা ইমাম নিজেই। তুখোড় তার্কিক, মেধাবী, চৌকস এ তরুণ কিনা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানিতে সাড়া না দিয়ে যাবেন যুদ্ধে? মায়ের মনে কাঁটা দেবে—এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু ছেলের জেদের কাছে শেষমেশ রাজি না হয়ে উপায় ছিল না। ছেলেকে ছেড়ে দিলেন দেশের ময়দানে। এর পরের বিভীষিকাময় দিনগুলো, প্রতিটি মুহূর্ত কেমন কেটেছে তাঁর? ছেলে ফেরেননি, কিন্তু দেশ করে গেছেন স্বাধীন, মাকে এনে দিয়েছেন শহীদ জননীর সম্মান।

মুক্তিযুদ্ধে সন্তান বিয়োগের বেদনা বিধুর মাতৃহূদয় এবং যাতনা মূর্ত হয়েছে ‘একাত্তরের দিনগুলি’তে। দিনলিপি যেহেতু, তাই বইটি পড়া শুরু করতেই পৌঁছে যাবে একাত্তরের রক্তক্ষয়ী টানটান উত্তেজনাময় দিনগুলোতে। মনে হবে, তুমি নিজেও আছ যুদ্ধে। যারা বইটা মিস করেছ, তারা এবারের বিজয় দিবসে ঘটা করে দল বেঁধে পড়ে নিতে পারো বইটি।

মূলধারা ৭১

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল বলা চলে একে। লেখক মঈদুল হাসান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। একাত্তর সালের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পটভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক, সামরিক, কূটনৈতিক—সব উপাদান একত্রিত করেই তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত গ্রন্থটির পরিসর বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে ২৫শে মার্চের কালরাত, বঙ্গবন্ধুর গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাজউদ্দীন আহমদের সীমান্ত অতিক্রম, সরকার গঠন, স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রকৃত অবস্থা, মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ, তাজউদ্দীন আহমদের বেতার ভাষণ, ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগ, সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ, ভারতের সহায়তা ও সব শেষে বিজয় অর্জন; এসবই ঠাঁই পেয়েছে বইটিতে।

 

জাহান্নম হইতে বিদায়

‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ শওকত ওসমানের লেখা প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। যুদ্ধ শুরুর মাস কয়েক পর একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক গাজী রহমানের নাম ওঠে কালো তালিকায়। কারণ তাঁর স্কুলটি স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বিভিন্ন ভূমিকা রাখতে শুরু করে। জীবন বাঁচাতে অন্য এক এলাকায় আশ্রয় নেন তিনি। প্রথমে আশ্রয় নেন প্রত্যন্ত একটি গ্রামে, তাঁর পুরনো এক ছাত্রের বাড়িতে। তারপর জানতে পারেন, এই এলাকায়ও পাকি মিলিটারি পৌঁছে যাবে। তাই সেখান থেকে তিনি অন্যত্র পালানোর সিদ্ধান্ত নেন। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা, যুদ্ধ, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা, অস্থিরতা, পাকিস্তানি সেনাদের হাতে ধরা পড়ার ভয় এবং এ কঠিন যাত্রাপথে দেখা নানা ঘটনাই এ উপন্যাসের উপজীব্য। জাহান্নম থেকে কি মুক্তি পেয়েছিলেন গাজী রহমান? বলা হয়ে থাকে, সত্যি ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই উপন্যাসটি লিখেছিলেন শওকত ওসমান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা