kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

ফ্যাশন

টিপটপ টিপ

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টিপটপ টিপ

মিতালির খালামণির বিয়ে বিয়ের জন্য সাজতে গিয়ে থমকে গেল শাড়ি পরবে, হাতভর্তি চুড়িও থাকবে খোঁপায় গুঁজে দেবে ফুলও কিন্তু একটা জিনিস তো নেই! টিপ কোথায় পাই! টিপ পরবে না তা তো হয় না! ওটা হলে আর কিচ্ছু চাই না সেই টিপটা কেমন হবে? বাদবাকি সব পোশাকের সঙ্গে মানানসই হবে তো? গল্পে গল্পে টিপের কথা জেনে নেওয়া যাক সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টির কাছ থেকে

 

টিপকাহিনি

মানুষ কবে থেকে টিপ পরতে শুরু করল—এটার নির্দিষ্ট ইতিহাস জানা নেই। তবে এটা ঠিক যে টিপের কথা বলে গেলে শেষ করা যাবে না। সুপ্রাচীনকাল থেকেই কপালে নানা আকৃতির ফোঁটা দিয়ে এসেছে মানুষ। কখনো ধর্মীয় কারণে, কখনো গোষ্ঠীগত সংস্কৃতির নিদর্শন হিসেবে। তবে এখন অন্য আর যারাই পরুক, বাঙালি সংস্কৃতির সাজগোজে টিপের অবস্থান বেশ শক্ত।

টিপের রকমফেরের শেষ নেই। বিন্দি নামে যে রঙিন ছোট্ট টিপ ফোঁটাটি কপালের মাঝে পরা হয়, সেটি এসেছে হিন্দু ও জৈন ধর্মাবলম্বী নারীদের কাছ থেকে। টিপের ক্ষেত্রে আকৃতি একটি বড় ব্যাপার। ছোট, বড়, মাঝারি, তিনকোনা—যেমন খুশি বেছে নিতে পারো।

টিপ পরা যায় প্রায় সব পোশাকের সঙ্গেই। অনেকে টিপের ওপর নিজের মতো করে পেইন্টিং করেও কপালে পরছে। তাতে পছন্দের নানা ছবি এঁকে নিতে পারো। এই যেমন ইডেন কলেজের সুমীর পছন্দ নানা রকম ফুলের ছবিওয়ালা টিপ। শুধু কিনে নয়, সে নিজেও গোলগাল টিপের ওপর অ্যাক্রিলিক রং দিয়ে এঁকে নেয় ফ্লোরাল মোটিফ।

‘প্রথমে নতুন ট্রেন্ড হিসেবে এমনিতেই অনুসরণ করেছিলাম। পরে এত ভালো লেগে যায় যে নিজের জন্য তো বটেই, অন্যদের টিপেও ডিজাইন করে দিই। আর এ কাজে মাঝে মাঝে নানা রঙের প্যাটার্নও তৈরি করি।’ জানাল সুমী।

তোমাদের অনেকে আবার টিপের ওপর পাথর বসিয়ে পরতে পছন্দ করো। তবে সেটি নির্ভর করছে বাকি সাজপোশাকের ওপর।

কোথায় কেমন দাম

নিউ মার্কেট, গাউছিয়াসহ আরো অনেক দোকান ও শপিং মলে টিপ কিনতে পারবে তুমি। বাইরে যেতে ইচ্ছা না হলে অনলাইনেও অর্ডার করতে পারো। সে ক্ষেত্রে অনেক নতুন টিপের দেখা মিলবে। ২০-২০০ টাকার মধ্যে নানা রকম টিপ পেয়ে যাবে তুমি। একেবারে সাদামাটা টিপের এক পাতা কিনতে খরচ পড়বে কম। পরিচিত ও জনপ্রিয় অনলাইন টিপের দোকানগুলোর ভেতরে আছে বিবি প্রডাকশন, প্রিয়তমেষু, সারানা, বেগুনি প্রজাপতি, গীতিকা, দয়ীতা, কথার দোকানসহ বেশ কিছু পেজ। এর মধ্যে দয়ীতায় তুমি টিপ পাবে ১০০, ১২০ ও ১৫০ টাকায়। বাকিগুলোতেও দামটা এর আশপাশেই ঘোরাফেরা করবে। রিকশা পেইন্টসহ নানা রকম রঙে আঁকা এই টিপ পছন্দ করেন বিদেশিরাও।

কোনটা মানাবে?

চেহারার আকৃতির ওপর নির্ভর করে, কোন টিপ তোমাকে সবচেয়ে ভালো মানাবে। অনেকের কপাল বড় হয়, অনেকের চেহারার আকৃতি একটু ছোটখাটো গড়নের হয়। সব কিছু মিলিয়ে তার পরই বেছে নিতে হবে টিপ। রাজধানীর ফ্যাশন ডিজাইনার ও স্টাইল বিশারদ রামিম রাজ বলেন, ‘বড় কপাল আর দীঘল চুলের মেয়েরা বড় টিপ পরে কপাল একটু ঢেকে দেওয়ার জন্য। ছোট কপালের সঙ্গে ছোট টিপ, বড় কপালের সঙ্গে বড় টিপ। ছোট কপাল আরো সুন্দর দেখায় একটু লম্বাটে টিপ পরলে। তবে কপাল যদি খুব ছোট হয়, তাহলে একটা ছোট্ট ফোঁটা দেওয়াই যথেষ্ট।’

 

খেয়াল রেখো

♦  বেশির ভাগ টিপ ওয়ানটাইম। মানে একবারের বেশি পরা সম্ভব হয় না। তবে এখন কারুকাজ করা দামি টিপও পাওয়া যায়। সেগুলো একটু সাবধানেই ব্যবহার করো। ব্যবহার শেষে নির্দিষ্ট একটা এয়ারটাইট বক্সে রেখে দেবে। পরে আবার পরার সময় বাড়তি আঠার প্রয়োজন মনে করলে সেটি ব্যবহার করবে। তা না হলে পছন্দের টিপটা কোন ফাঁকে টুপ করে পড়ে যাবে, টেরই পাবে না।

♦  কোন অনুষ্ঠানে যাচ্ছ, সেটি খেয়াল করে টিপ নির্বাচন করো। এই যেমন দেশীয় অনুষ্ঠানে কাপড় বা হাতে আঁকা টিপ, জমকালো অনুষ্ঠানে গেলে পাথরের টিপ পরতে পারো।

♦  পশ্চিমা লুকের সঙ্গে যদি বড় টিপ পরতে ইচ্ছা করে, তাহলে চুল হালকা ফুলিয়ে পনিটেল করে নিতে পারো।

 

অনলাইন শপ দয়ীতায় আরো অনেক কিছুর সঙ্গে আছে বাহারি সব টিপ। প্রতি পাতা গড়পড়তা ৮০ টাকা করে।

‘কথার দোকান’-এ প্রতি পাতা টিপ পাবে ১২০ টাকায়।

অনলাইন শপ সারানার টিপ কালেকশনের একটি অংশ। ছয়টির দাম পড়বে ১০০ টাকা।

মন্তব্য