kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শুধুই মুখরোচক নাকি স্বাস্থ্যকরও

নাহিদা আহমেদ   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শুধুই মুখরোচক নাকি স্বাস্থ্যকরও

স্বাদ ও গন্ধের জন্য ইলিশ অনন্য। বাঙালির থালায় গরম ভাত আর ইলিশের যেকোনো পদ হলেই তা যেন জমে যায়। ইলিশ যতটা সুস্বাদু, ঠিক তেমনি পুষ্টিগুণে ঠাসা। যে ইলিশ তেলযুক্ত, সেই ইলিশ বেশি মুখরোচক।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের বেশ কিছু জায়গায় ইলিশ প্রসিদ্ধ। এর মধ্যে অন্যতম বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, চাঁদপুর, ভোলা ও শরীয়তপুর। সব স্থানের পানিভেদে ইলিশের স্বাদ ও পুষ্টিগুণের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন—বরিশালের ইলিশে প্রায় ৮.২১ শতাংশ ফ্যাট বা চর্বি পাওয়া যায় এবং ভোলার ইলিশে পাওয়া যায় ৪.৯৭ শতাংশ চর্বি। ১০০ গ্রাম ইলিশ মাছে ০.৩৫ গ্রাম থেকে ০.৭২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১৮.৯৫ গ্রাম থেকে ২০.৫৬ গ্রাম প্রোটিন, ৩৩.৫ মাইক্রোগ্রাম থেকে ৯৫.৫৪ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ‘এ’, ১১.২০ মাইক্রোগ্রাম থেকে ১৪.২৮ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ‘সি’, ১৪৪.২১ মিলিগ্রাম থেকে ৩৭২.৮৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৯.০৪ মিলিগ্রাম থেকে ১৩.০৭ মিলিগ্রাম আয়রন, ১১৮.১৭ মিলিগ্রাম থেকে ২০৪.০৬ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ৩৪.১৮ মিলিগ্রাম থেকে ৪৫.০৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ৮.৫৪ মিলিগ্রাম থেকে ১২.৬৮ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজ, ০.৯৪ মিলিগ্রাম থেকে ১.৫৪ মিলিগ্রাম কপার, ০.৯৪ মিলিগ্রাম থেকে ১.৩১ মিলিগ্রাম জিংক পাওয়া যায়।

 

স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

♦ প্রোটিনের চমৎকার উৎস মাছ, এটির প্রোটিন সহজে হজমযোগ্য এবং এতে উচ্চ মাত্রায় লাইসিন ও সালফারসমৃদ্ধ অ্যামাইনো এসিড, যেমন—মিথিওনিন ও সিস্টিন পাওয়া যায়।

♦ মাছের তেল ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড, ডিএইচএ ও ইপিএ-সমৃদ্ধ, যেগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতা ঠিক রাখে। পাশাপাশি আর্থ্রাইটিসজনিত সমস্যা প্রশমনেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড খুব কার্যকর।

♦ ডিপ্রেশন কমাতেও কার্যকর। কিছু স্টাডিতে পাওয়া গেছে কারো শরীরে আরজিনিনের (অ্যামাইনো এসিড) মাত্রা কম থাকলে তাদের মেজর ডিপ্রেশন ডিস-অর্ডার হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ইলিশ মাছ আরজিনিনের ভালো উৎস।

♦ ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত এ মাছ খেলে পাকস্থলীর আলসার ও কোলিটিসের ঝুঁকি কমে।

♦ ত্বক ভালো রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে বিদ্যমান ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং নিয়মিত এ মাছ খেলে ত্বকের একজিমা হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। তা ছাড়া এতে বিদ্যমান কোলাজেন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রেখে তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।

♦ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ইলিশ মাছ জিংকের ভালো উৎস, যা বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর বিভিন্ন ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

♦ ইলিশ মাছ হার্টের জন্য খুবই ভালো এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের উচ্চ মাত্রার ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে, রক্তচাপ কমিয়ে এবং রক্ত জমাট বাঁধা কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার করে।

♦ ভিটামিন ‘এ’র উৎস, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত এই মাছ খেয়ে থাকে, তাদের রাতকানাজনিত সমস্যা ও বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে চোখের দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি প্রশমনে সাহায্য করে।

♦ জাতীয় কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, মাছে বিদ্যমান ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রক্তের চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

♦ রক্ত সঞ্চালন ক্রিয়া ও রক্তনালি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

♦ ইলিশ মাছ ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়াম, পটাসিয়াম ও জিংকসমৃদ্ধ, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

♦ জিংক হলো একটি খনিজ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করতেও সাহায্য করে।

♦ ক্রোমিয়াম হলো আরেকটি খনিজ, যা শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

♦ সেলেনিয়াম কোষকে যেকোনো ক্ষতি এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

♦ সোডিয়াম একটি ইলেকটোলাইট, যা শরীরে পানি এবং অন্যান্য পদার্থের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

♦ আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে ভূমিকা পালন করে।

♦ ইলিশের পুষ্টিগুণ তখনই কাজে লাগবে, যখন এটি সঠিক উপায়ে রান্না হবে। ইলিশ মাছ ভেজে খেলে ফ্যাট ও ক্যালরি ভ্যালু অনেক বেড়ে যায়। সে জন্য ভাপা ইলিশ, সবজি, যেমন—মিষ্টিকুমড়া, পটোল, কচু, শসা ইত্যাদির পাশাপাশি বিভিন্ন শাক দিয়ে কম তেলে ইলিশ মাছ রান্না করে খেলে পুষ্টিমান সঠিক থাকে। তাই সঠিক পুষ্টি পেতে অবশ্যই সঠিক উপায়ে মাছ রান্না করে খেতে হবে।

♦ অনেকের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা বেড়ে যেতে পারে এই মাছ খেলে। সে জন্য যাদের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা আছে, তাদের এ বিষয়ে সতর্ক হয়ে ইলিশ খাওয়া উচিত।

লেখক : পুষ্টিবিদ

গুলশান ডায়াবেটিক কেয়ার



সাতদিনের সেরা