kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শিশুদেরও আছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি

প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিশুদেরও আছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি

বয়স্কদের তুলনায় শিশু বয়সে উচ্চ রক্তচাপ কম দেখা যায়। তবে বর্তমান সময়ে এই হার বাড়তির দিকে। বাড়ার এই কারণ হলো শিশুর অতিরিক্ত ওজন, ফাস্ট ফুড খাবারদাবার, কম কায়িক শ্রম ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ। সাধারণভাবে ১ থেকে ৫ শতাংশ শিশু উচ্চ রক্তচাপে ভোগে।

বিজ্ঞাপন

 

শিশুর উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকিসমূহ

♦ শৈশবের দিকে শিশুর রক্তচাপ কম থাকে, যা শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের সঙ্গে বাড়ে।

♦ শিশুর রক্তচাপ তার ওজনের সঙ্গে মিল রেখে বাড়তে থাকে। পাঁচ বছর বয়স থেকে এই মিল লক্ষ করা যায়।

♦ শিশু বয়সে প্রথম ১০ বছরে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের রক্তচাপ কিছুটা বেশি থাকে। পরবর্তী সময়ে শিশু বয়সে রক্তচাপ তার বয়স, লিঙ্গ ও উচ্চতা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

♦ যেসব পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস আছে, সেসব পরিবারে শিশুদের উচ্চ রক্তচাপ বেশি দেখা যায়।

♦ যেসব শিশু কম ওজন নিয়ে ভূমিষ্ঠ হয়, সেসব শিশুতে উচ্চ রক্তচাপ দেখা যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

শিশু বয়সে উচ্চ রক্তচাপের ধরন

♦ প্রাইমারি হাইপারটেনশন : শিশুর জেনেটিক ও পরিবেশগত নানা ঝুঁকি মিলিয়ে এ ধরনের উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে। এটি হয় সাধারণভাবে ১০ বছরের বেশি বয়সী স্থূলদেহী শিশুতে। এ ধরনের উচ্চ রক্তচাপ বয়স্ক অবস্থায়ও বজায় থাকে।

♦ সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন : শিশু বয়সে উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণ এটি। এ ধরনের উচ্চ রক্তচাপের সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে এবং তার চিকিৎসাও করানো যায়। এটির জন্য ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী অসুখ হলো কিডনি সংক্রমণ বা জটিলতা। কখনো বা হার্ট, অ্যান্ডোক্রাইন ও টিউমারজনিত কারণে সেকেন্ডারি উচ্চ রক্তচাপ শিশু বয়সে হতে পারে।

 

উপসর্গসমূহ

♦ অতিরিক্ত কান্না, ওজন না বাড়া, ক্ষুধামান্দ্য, গায়ে অল্পস্বল্প জ্বর—এসব নিয়ে দুই থেকে তিন বছরের শিশু উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে পারে। আর বেশি বয়সী শিশুতে কিডনিজনিত কারণে উচ্চ রক্তচাপের প্রধান উপসর্গাদি হলো—পেট ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, শরীরে পানি আসা ও রাতে বিছানায় প্রস্রাব।

♦ অ্যামিনিয়া, খর্বাকৃতি ও শিশুর বাড়ন কম হওয়া ক্রনিক কিডনি রোগের প্রধান লক্ষণ।

♦ কখনো বা বুক ধড়ফড়, মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম এবং ওজন পড়তে থাকা লক্ষণাদি নিয়ে স্নায়ু-অ্যান্ডোক্রাইম টিউমারজনিত কারণে উচ্চ রক্তচাপের প্রকাশ ঘটে। এ ছাড়া মাংসপেশি কামড়ানো ও শারীরিক দুর্বলতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশু বয়সে উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ।

 

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা

♦ শিশু উচ্চ রক্তচাপ অসুখে ভুগছে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার রক্তচাপ সঠিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল ও অ্যানোরয়েড মেনোমিটারের দ্বারা যথাযথ কাফ ব্যবহারপূর্বক মাপা হয়। এই রক্তচাপ যদি শিশুর বয়স, লিঙ্গ ও উচ্চতা অনুযায়ী এক থেকে তিন সপ্তাহের বিরতিতে কমপক্ষে তিনবার রক্তচাপের চার্টে ৯৫তম সারণি রেখার ওপরে পাওয়া যায়, তবে শিশুর উচ্চ রক্তচাপ আছে বলে ধরা হয়।

♦ প্রাথমিকভাবে রক্ত, প্রস্রাব, বুকের এক্স-রে, ইসিজি, চক্ষু পরীক্ষা ও কিডনির আলট্রাসাউন্ড করে দেখা হয়। পরে রোগের উপসর্গ অনুযায়ী উচ্চ রক্তচাপের কারণ নির্ণয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু ল্যাবরেটরি টেস্টের সাহায্য নিতে হয়।

♦ উচ্চ রক্তচাপে ভোগায় শিশুর খাবারদাবারে অতিরিক্ত লবণ নিষিদ্ধ করার কথা বলা আছে। শিশু যেন পরিমাণমতো তাজা ফলমূল, শাক-সবজি, দানাদার ও চর্বিহীন ডেইরিজাত খাবার গ্রহণ করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। শিশুর খাবারে কম সোডিয়াম, কম চর্বি থাকা বাঞ্ছনীয়। পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং আঁশযুক্ত খাবারের প্রাধান্য থাকা উচিত।

♦ শিশুর অতিরিক্ত ওজন (বিএমআই হিসেবে শিশুর বয়স ও লিঙ্গ অনুপাতে ৯৫তম সারণি রেখার ওপরে) কমিয়ে আনতে হবে। এ জন্য প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে চার দিন শিশু যেন ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের শরীরচর্চা করে।

♦ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে রোগের কারণ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা এবং উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধের ব্যবহার।

 

লেখক : সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল



সাতদিনের সেরা