kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এবারও শীতে কমবে গরমে বাড়তে পারে করোনা

দেশের করোনা সংক্রমণের বর্তমান অবস্থা, ভাইরাসটির নতুন ধরন ওমিক্রনসহ নানা বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন পিন্টু রঞ্জন অর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবারও শীতে কমবে গরমে বাড়তে পারে করোনা

ইউরোপে এখন করোনার সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু আমাদের এখানে বেশ কম। কারণ কী?

আমাদের দেশে মার্চ-এপ্রিল থেকে সংক্রমণ হার বেড়েছে, আবার সেপ্টেম্বর থেকে কমতে শুরু করেছে। এখন তো সংক্রমণ শতকরা ২ ভাগেরও কম। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেও এমন থাকবে। মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৫ শতাংশের কম থাকবে। আর মার্চের মাঝামাঝি থেকে আবার বাড়তে শুরু করবে। অন্য দেশে কিন্তু এমনটা হচ্ছে না। শীতে সেখানে সংক্রমণ হার বাড়ে, গ্রীষ্মে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

 

গত বছরও বলেছিলেন, এখানে শীতে করোনার সংক্রমণ কমবে। গরমে বাড়বে। হয়েছেও তাই। কেন এমন হচ্ছে?

এটা বলেছিলাম একটা হাইপোসিস থেকে। মানুষের যেমন সমাজ আছে, ভাইরাসেরও তেমনি সমাজ আছে। আমাদের দেশে কতগুলো ভাইরাস আছে, যেগুলো শীতকালে মানুষকে আক্রান্ত করে। ফলে দেখবেন শীতে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া বেশি হয়। সাধারণ মানুষ কী করছে? এই কয়দিন জ্বর জ্বরভাব লাগলে প্যারাসিটামল খায়, ভালো হয়ে যায়। একই ভাইরাস একজন প্রাপ্তবয়স্ককে আক্রমণ করলে তার সাধারণ জ্বর কিংবা সর্দি-কাশি হচ্ছে। আর শিশুদের আক্রান্ত করলে ওর নিউমোনিয়া হয়ে যায়। কারণ ও নতুন এসেছে পৃথিবীতে। ওর ইমিউনিটি ডেভেলপ করেনি। আর প্রাপ্তবয়স্করা প্রতিবছর এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়েছে। মানে তার অসুখ হোক বা না হোক ভাইরাসটা তো তার শরীরে প্রবেশ করছে। আমরা দেখেছি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, রাইনোভাইরাস, অ্যাডানো ভাইরাসের মতো আমাদের দেশে কয়েকটা ভাইরাস এই কাণ্ড করে। একটা ভাইরাস যদি ফুসফুসে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করে, তাহলে সে অন্য ভাইরাসকে আর ঢুকতে দেয় না। এটা ভাইরাসের কমন বৈশিষ্ট্য। আমাদের মনে হচ্ছে, দেশীয় ভাইরাসগুলো শীতে মানুষের শরীরে ফুসফুস কাভার করে ফেলছে। করোনাভাইরাস তখন একেবারে কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছে। গরমে দেশীয় ভাইরাসগুলো যখন আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে, তখন করোনা আবার কাবু করে ফেলছে। এখানে ভাইরাসের উথান-পতনের চিত্রটা এ রকম। এটা আমার অনুমান বা হাইপোথিসিস। এটা নিয়ে বিশদ গবেষণা শুরু করব সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে।

 

ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের ভয় পাওয়ার কারণ আছে?

ওমিক্রন আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানা থেকে শুরু হয়েছে। প্রথমে বতসোয়ানার আশপাশে কয়েকটা দেশে ছড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, এটা দ্রুত ছড়ায়, সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতি আরো তথ্যবহুল হলে ভালো হতো। যেমন—এটা দ্রুত ছড়ায় বলছে, কিন্তু রোগীর শরীরে মারাত্মক অবস্থা তৈরি করে কি না এমন তথ্য নেই। মানে রোগীর শরীরে সিভিয়ার ডিজিজ প্রডিউস করে এমন তথ্য কিন্তু আমরা পাইনি। ফলে দ্রুত ছড়ালেও যদি মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি না করে তাহলে ভয় পাওয়ার দরকার আছে বলে মনে করি না। আমরা সাবধান হব, কিন্তু মানুষকে ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে তাদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করার দরকার নেই। অযথা ভয় সৃষ্টি করলে সেই রাখাল বালক আর বাঘের গল্পের মতো অবস্থা হবে। সত্যিকারের বাঘ যেদিন আসবে সেদিন কেউ বিশ্বাস করবে না। মানুষকে আসল কথাটা বলতে হবে—ওমিক্রন দ্রুত ছড়ায়, কিন্তু রোগটা গুরুতর নয়। ফলে তোমরা আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে সাবধান হও। কিন্তু অবহেলা কোরো না। কারণ যারা ডায়াবেটিস, কিডনিসহ আগে থেকেই নানা জটিলতায় ভুগছে, এটা তাদের ক্ষতি করতেই পারে।

 

তাহলে জনসাধারণের করণীয় কী?

নতুন কোনো বিধি-নিষেধ নয়, আগের স্বাস্থ্যবিধি পালন করতে হবে। ব্যাংক, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে গণপরিবহন—সর্বত্র মাস্ক পরতে হবে। এটা নিশ্চিত করা গেলে আমাদের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। আমরা হাত দিয়ে সব কিছু করি। হাতটা বারবার ধুতে হবে। তাহলে নিজে ভালো থাকা যাবে। অন্যকে ভালো রাখা যাবে।



সাতদিনের সেরা