kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

করোনার কারণে যখন হৃদরোগ

লে. কর্নেল নাসির উদ্দিন আহমদ, মেডিসিন ও হরমোন বিশেষজ্ঞ, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), ঢাকা

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার কারণে যখন হৃদরোগ

প্রাথমিকভাবে কভিড-১৯-কে শ্বাসতন্ত্রের রোগ মনে করা হলেও অল্পদিনের মাঝেই পরিষ্কার হয়ে গেল, এটি দেহের প্রতিটি অঙ্গকেই কমবেশি আক্রমণ করে। বিশেষত এটি হৃৎপিণ্ডে অনেক জটিলতা তৈরি করে। উন্নত বিশ্বের গবেষণা বলছে, করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশই হৃৎপিণ্ডের ক্ষতির শিকার হয়। মূলত কভিডের কারণে হতে পারে এলোমেলো হৃদস্পন্দন, হার্ট অ্যাটাক, হৃদপেশির প্রদাহ ও হৃৎপিণ্ডের বৈকল্য (হার্ট ফেইলিওর)। কভিডে মৃত্যুর নেপথ্যে হৃৎপিণ্ডের এই ব্যাধিগুলোর বিরাট যোগসূত্র রয়েছে।

 

অ্যারিদমিয়া বা এলোমেলো হৃদস্পন্দন

করোনা আক্রান্ত রোগীর মনে হতে পারে, বুক ধড়ফড় করছে, হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে বা কমে যাচ্ছে। কখনো স্পন্দনের তাল-লয় হয়ে পড়ছে এলোমেলো। এমনটি হতে পারে রক্তে অক্সিজেনস্বল্পতার কারণে। ভাইরাস বা ভাইরাসসৃষ্ট জটিলতা সরাসরি ধ্বংস ডেকে আনতে পারে হৃদপেশির। এতেও এমন এলোমেলো দশা নেমে আসতে পারে। এ ছাড়া অনেক করোনা রোগীর রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা কমে যায়, যা হৃদস্পন্দনকে ব্যাহত করে। কভিড-১৯ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন বা অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো কিছু ওষুধও এর পেছনে দায়ী।

 

হার্ট অ্যাটাক

যাদের আগে থেকেই হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস রয়েছে, কভিডে তাদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি। এটাও সত্য যে কভিড আক্রান্তদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক বেশি। কভিডে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তনালি আটকে ঘটতে পারে হার্ট অ্যাটাক। এ ছাড়া কভিড-সৃষ্ট রাসায়নিক ঝড় (সাইটোকাইন স্ট্রম) হৃৎপিণ্ডের বিপত্তি ডেকে আনতে পারে। হার্ট অ্যাটাক ঘটিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে।

 

হৃদপেশির প্রদাহ

করোনাভাইরাস হৃদকোষের প্রত্যক্ষ ক্ষতি করে। অনেক ভাইরাসই হৃদকোষে প্রদাহ করে থাকে। করোনা এ ক্ষেত্রে এক কাঠি এগিয়ে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় এক-চতুর্থাংশ রোগীর এমনটি হওয়ার নজির মিলেছে। এমনকি মৃদু করোনা রোগী যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়নি, তাদেরও হৃদপেশি আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে গবেষণায়। ইকোকার্ডিওগ্রাফি করে অনেক সময় এটি বোঝা যায় না। রক্ত পরীক্ষায় দেখা যায় হৃদপেশি ক্ষত হওয়ার আলামত।

 

হৃৎপিণ্ড বিকল

গবেষণা বলছে, কভিডের কারণে ২৩ শতাংশ রোগীর হৃৎপিণ্ড বিকল হতে পারে, যা প্রকারান্তরে মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। সে জন্য করোনা আক্রান্ত রোগীদের হৃৎপিণ্ডের হালহকিকত যাচাই করা জরুরি।

 

উপসর্গ

কিছু উপসর্গ হৃৎপিণ্ডের রোগ নির্দেশ করে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে। এগুলো হলো—বুকে ব্যথা, প্যালপিটেশন বা বুক ধড়ফড় করা, পায়ে পানি আসা, চিত হয়ে শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট অনুভূত হওয়া, ঘুমের মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসা, মাথা ঘোরানো, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঠোঁট-মুখ নীলাভ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

এসব উপসর্গ অন্য কারণেও হতে পারে। তবে এসব লক্ষণের যৌক্তিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

 

করণীয়

♦ করোনা আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামে থাকা।

♦ পর্যাপ্ত পানীয় গ্রহণ করে পানিশূন্যতা রোধ করা।

♦ উপরোল্লিখিত উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসককে অবহিত করা।

♦ নিয়মিত পালস অক্সিমিটারের সাহায্যে অক্সিজেনের মাত্রা পরখ করা। মাত্রা ৯২-এর নিচে নেমে গেলে দ্রুত অক্সিজেন সাপোর্ট নেওয়া।

♦ ঘাটতি দেখা দিলে পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা।

♦ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা পরখ করা।

♦ প্রয়োজনে ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফিসহ রক্তের আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা।



সাতদিনের সেরা