kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রোজকার ভুল

হৃদরোগ নিয়ে প্রচলিত কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে মানুষের। অথচ এসবের কোনো ভিত্তি নেই। এমন কিছু ভুল ধারণার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



 রোজকার ভুল

বংশে থাকলে অন্য কারোরও হৃদরোগ হতে পারে

হ্যাঁ, বংশে কারোর হৃদরোগ থাকলে ওই পরিবারের অন্য কারোরও হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হৃদরোগ নানা ধরনের হয়। যেমন—করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হৃদস্পন্দনজনিত সমস্যা বা অ্যারিদমিয়া, কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ বা জন্মগত হৃদরোগ, হার্টের ভালভের সমস্যা, হৃদপেশির সমস্যা, হার্টে সংক্রমণ ইত্যাদি।

হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে কারো করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে বাবা বা মা যদি কম বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কম বয়স বলতে বাবার ক্ষেত্রে ৫৫ এবং মায়ের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর। এমনকি ভাই বা বোনও যদি এতে আক্রান্ত হন, তাহলেও হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। এ ছাড়া অ্যারিদমিয়া, কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ, হাই ব্লাড কোলেস্টেরল ইত্যাদিরও বংশগত ঝুঁকি রয়েছে।

 

রক্তচাপ কমে গেলে ওষুধের দরকার নেই

উচ্চ রক্তচাপের কিছু রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে বা নিয়ন্ত্রণে এলে ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেন। মনে রাখতে হবে, ওষুধ খাওয়ার ফলেই কিন্তু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আর ওষুধ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আরো কিছু জটিলতা থেকে রক্ষা করে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ডোজ বা মাত্রা কমানো যেতে পারে। কিন্তু হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করে দিলে যেকোনো সময় রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করা উচিত নয়।

 

টক খেলে রক্তচাপ কমে যায়

এই ধারণা ভুল। কারোর রক্তচাপের পরিমাণ বেশি দেখা গেলে অনেকে লেবুর রস বা তেঁতুল মিশ্রিত পানি পান করান। অনেকের ধারণা, এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে। কিন্তু এটি বৈজ্ঞানিক তথ্যনির্ভর নয়। বরং রক্তচাপের পরিমাণ বেশি দেখার ওই মুহূর্তে টক খেলে অনেক সময় এসিডিটির সমস্যা হয়ে জটিলতা বাড়তে পারে।

 

কম বয়সীদের হার্ট অ্যাটাক হয় না

অনেকেই মনে করেন, কম বয়সীদের হার্ট অ্যাটাক হয় না। এ ধারণাটা ভুল এবং এসব ভ্রান্ত ধারণার কারণে বহু মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। হৃদরোগ, এমনকি হার্ট অ্যাটাক যেকোনো বয়সেই যে কারোর হতে পারে। কম বয়সী কোনো ব্যক্তি যদি ধূমপান করে, কায়িক পরিশ্রম না করে, সে যদি অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভোগে, চর্বি ও তেলজাতীয় খাবার বেশি খায়, রক্তে যদি কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে—বয়স কম হলেও সে হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকে।



সাতদিনের সেরা