kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দূরে থাক হৃদরোগ

অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন, পরিচালক, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দূরে থাক হৃদরোগ

লাইফস্টাইল বা জীবনধারার পরিবর্তন, কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম, ধূমপান বা নেশাদ্রব্য বর্জন এবং সহায়ক ডায়েট বা পুষ্টি গ্রহণ করলে হৃদরোগকে দূরে রাখা যেতে পারে। এমন কিছু নিয়ম বা ভালো অভ্যাস হলো—

 

চাই নিয়মিত ভালো ঘুম

ঘুম শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করে। সঠিক মাত্রায় ঘুম না হলে হৃদযন্ত্রে ব্যাঘাত ঘটে। যাঁরা নিয়মিত রাত জেগে থাকেন, তাঁদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। তাই প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন। প্রতিদিন অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। ভালো ঘুম না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 

শারীরিক ব্যায়াম করুন

হার্ট ভালো রাখতে পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করাতে হবে। এ জন্য বলা হয়, হার্টের খাবার হলো বাতাস। হালকা ব্যায়াম, খেলাধুলা, জগিং বা সাইকেল চালালে স্ট্রেস হরমোন কমে গিয়ে হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত মানুষকেও হালকা খেলাধুলা বা ব্যায়াম প্রফুল্ল রাখে। তাই সম্ভব হলে কার্ডিওটাইপ ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করার অভ্যাস করুন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক গবেষণা বলছে, হৃদপিণ্ডের সঙ্গে যুক্ত প্রধান ধমনিগুলোর আড়ষ্ট হয়ে পড়া রোধে সপ্তাহে অন্তত চার দিন শরীরচর্চার প্রয়োজন। এতে হৃদপিণ্ড নতুন করে সতেজ হয়ে উঠতে পারে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন নিয়মিত কিছু ব্যায়াম হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।

 

মানসিক চাপ কমান

টেনশনমুক্ত জীবন ভালো স্বাস্থের জন্য জরুরি। যাঁরা প্রায়ই মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন তাঁদের ডিপ্রেশন, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো অসুখ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে যাঁরা সারা দিন কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন, মানসিক চাপে তাঁদের রক্তে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন গড়ে তুলুন। যোগব্যায়াম, ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামগুলো মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের নিয়ম হলো, লম্বা করে দম নিয়ে ধীরে ধীরে দম ছেড়ে দিতে হবে। ধ্যানের সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম শরীরকে শিথিল করে। ধ্যান আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করে।

 

ধূমপান বা নেশা নয়

ধূমপান ত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ত্বক অনুজ্জ্বল ও ফ্যাকাশে দেখাতে পারে। সিগারেট, বিড়ি, হুঁকো ইত্যাদিতে থাকা তামাক থেকে উৎপন্ন নিকোটিন রক্ত চলাচলে বাধা দেয়। অনেক সময় অতিরিক্ত ধূমপানের ফলে রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে।

 

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। তাই স্বাভাবিকের চেয়ে কারোর ওজন বেশি হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। এ জন্য ক্যালরি জাতীয় খাবার বেশি খাবেন না। চিনি, স্যাচুরেটেড চর্বিযুক্ত খাবার কম খান। ভিটামিন ও মিনারেল আছে এ রকম খাবার বেশি খান। পেটে, কোমরে চর্বি জমা হলে নিয়মিত ব্যায়াম করে কমিয়ে ফেলুন। পুরুষের কোমর ৩৭ ইঞ্চি আর নারীর কোমর ৩১.৫ ইঞ্চির বেশি হলে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।

 

চিকিৎসা করান

কারোর হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিলে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করুন। কারণ শুরুতে শনাক্ত হলে শুধু হৃদরোগ নয়, অনেক রোগ থেকে সেরে ওঠা যায়। তাই হৃদরোগের চিকিৎসায় অবহেলা নয়। এর উন্নত সব ধরনের চিকিৎসা এখন আমাদের দেশেই আছে।



সাতদিনের সেরা