kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

ঈদে সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য

ডা. ইসমাইল আজহারি, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ

২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদে সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য

কোরবানির ঈদের পর এবং বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানে খাবারদাবারের পর কেউ কেউ সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। এর মূল কারণ হিসেবে বলা যায়, অতিরিক্ত গুরুপাক খাবার কিংবা মাংস ভক্ষণ।

 

কোষ্ঠকাঠিন্য কী?

খুব শক্ত মলত্যাগ, সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ, মলত্যাগ করতে প্রচুর সময় ব্যয় করা, খুব জোরাজুরি করে, বল প্রয়োগ করে বা মলদ্বারে কোনো কিছু প্রবেশ করিয়ে মলাশয় খালি করা, মলত্যাগ করার পর মনে হওয়া যে মলাশয় খালি হয়নি ইত্যাদি হলো কোষ্ঠকাঠিন্য।

 

ধরন

কোষ্ঠকাঠিন্য দুই ধরনের। একুইট কনস্টিপেশন বা সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ক্রনিক কনস্টিপেশন বা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য।

 

সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য

যদি অল্প কয়েক দিনের জন্য কোষ্ঠকাঠিন্যের উপসর্গ দেখা দেয় অথবা কোষ্ঠকাঠিন্যের সময় যদি তিন মাসের কম হয়, তাহলে এই অবস্থাকে সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য বলে।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রচুর পরিমাণ মাংসজাতীয় খাবার খাওয়ার পর দেখা গেল দুই-তিন দিন মলত্যাগ হচ্ছে না কিংবা খুব শক্ত অল্প অল্প মলত্যাগ হচ্ছে।

অথবা দেখা গেল, প্রতিদিন তিন বেলা মাংস, মাছ, ডিম ইত্যাদি দিয়ে ভাত খাচ্ছে, তাই নিয়মিত মলত্যাগ হচ্ছে না, হলেও শক্ত মলত্যাগ হচ্ছে কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তা যদি তিন মাসের কম সময় হয়। অথবা সারা বছর সুস্থ; কিন্তু কোরবানির ঈদের সময় প্রচুর পরিমাণ গোশত খাওয়ার পর দেখা গেল মলত্যাগ হচ্ছে না, পেট ফুলে যাচ্ছে, পেটে ব্যথা হচ্ছে, তাহলে এ অবস্থাও সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য।

 

উপসর্গ

►     শক্ত মলত্যাগ

►     মলত্যাগের সময় মলাশয়ে ব্যথা

►     জোর প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেক সময় ব্যয় হওয়া

►     অল্প অল্প মলত্যাগ হওয়া

►     পেট ফুলে যাওয়া

►     পেটে ব্যথা

►     খাওয়ার অরুচি ইত্যাদি।

 

কারণ

সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য মূলত অস্বাভাবিক লাইফ স্টাইলের কারণে দেখা দেয়। যেমন—

►     আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, তথা শাক-সবজি কম খাওয়া

►     নিয়মিত মলত্যাগ না করা, মলত্যাগ আটকে রেখে কাজকর্ম করা

►     নিয়মিত খাবার না খাওয়া

►     ঠিকমতো ঘুম না হওয়া

►     চিন্তা বা অবসাদগ্রস্ত থাকা

►     আইবিএসের সমস্যা থাকা

►     ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

►     দৈনিক অত্যধিক প্রোটিন খাওয়া যেমন অধিক পরিমাণে মাংস খেলে সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

 

কতটুকু প্রোটিন দরকার?

ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন, ইউএসএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা হচ্ছে ১ গ্রাম/কেজি বডি ওয়েট। অর্থাৎ একজন মানুষের ওজন যদি ৬০ কেজি হয়ে থাকে, আর তিনি যদি ভারী কোনো কাজ না করেন, তাহলে তার দৈনিক প্রোটিন দরকার পড়ে ৬০ গ্রাম। আর ভারী কাজ করলে আরো ৩০ গ্রাম বাড়বে, অর্থাৎ ৯০ গ্রাম প্রোটিন দরকার। এটা হচ্ছে স্বাভাবিক শারীরিক ক্রিয়া-প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন। তবে একজন সুস্থ মানুষ কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ব্যতীত দৈনিক সর্বোচ্চ ২ গ্রাম/কেজি বডি ওয়েট ধরে প্রোটিন খেতে পারবে। সুতরাং একজন ৬০ কেজি ওজনের মানুষ দৈনিক সর্বোচ্চ ১২০ গ্রাম প্রোটিন খেতে পারবেন কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া ব্যতীত। এর চেয়ে বেশি খেলে ডায়রিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। প্রোটিনের উপাদান হচ্ছে গোশত, মাছ, ডিম ইত্যাদি।

 

পরিমাপ

অনেকে মনে করেন, এক গ্রাম মাংস মানে এক গ্রাম প্রোটিন, যা ভুল ধারণা। আমেরিকার ইনস্টিটিউট অব মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম রান্না করা মাংসে ২৬ গ্রাম প্রোটিন, ১০ গ্রাম ফ্যাট, ৬১-৬৩ গ্রাম পানি থাকে।

তার মানে, মাংস থেকে ২৬ গ্রাম প্রোটিন পেতে হলে ১০০ গ্রাম মাংস প্রয়োজন। ১ গ্রাম প্রোটিনের জন্য প্রায় ৪ গ্রাম মাংসের দরকার।

একজন ৬০ কেজি ওজনের সুস্থ, হালকা পরিশ্রমী মানুষের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা হচ্ছে ৬০ গ্রাম। সুতরাং সে স্বাভাবিক মাংস থেকে সেই পরিমাণ প্রোটিন নিতে চাইলে ৬০x৪=২৪০ গ্রাম মাংস খেলেই যথেষ্ট।

আবার ৬০ কেজি ওজনের মানুষ দৈনিক সর্বোচ্চ ১২০ গ্রাম প্রোটিন কিংবা ৪৮০ গ্রাম মাংস খেতে পারবেন। তবে তা হতে হবে তিন বেলায় ভাগ করে অল্প অল্প করে। অন্যথায় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেবে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ২০০ গ্রামের বেশি মাংস খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

 

কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে করণীয়

►     প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাক-সবজি খান

►     পর্যাপ্ত পানি পান করুন

►     ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার কম খান

►     চর্বি জাতীয় বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার পরিহার করুন

►     দৈনিক ১০০-১৫০ গ্রামের চেয়ে বেশি মাংস খাওয়া নয়

►     মাংস খাওয়ার পাশাপাশি শাক-সবজি, গাজর, শসা ইত্যাদি খান

►     সকাল, দুপুর, রাতে এক গ্লাস পানিতে দুই টেবিল চামচ ইসবগুলের ভূসি মিশিয়ে খান। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা ৯০ শতাংশ কমে যায়।

►     সম্ভব হলে প্রতিদিন আপেল খান

►     নিয়মিত ব্যায়াম করুন

►     পর্যাপ্ত ঘুমান ইত্যাদি।



সাতদিনের সেরা