kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

পুষ্টি

মধুমাসে খান মধুফল

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধুমাসে খান মধুফল

গ্রীষ্মের অসহনীয় দাবদাহের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ নিয়ে হাজির হয় রসালো সব ফল। এগুলো যেমন সুস্বাদু ও লোভনীয়, তেমনি পুষ্টি উপাদানে ভরা। নিচে গ্রীষ্মের প্রধান কয়েকটি ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

 

আম

আম খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল। আমে প্রিবায়োটিক ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও পলিফেনোলিক ফ্ল্যাভিনয়েডস অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে। নতুন কিছু গবেষণায় জানা গেছে, কাঁচা ও পাকা আমে কোলন, স্তন, লিউকেমিয়া ও প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে রক্ষার উপাদান আছে। ভিটামিন ‘এ’, বিটা ক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন নামের ফ্ল্যাভিনয়েডসের ভালো উৎস আম। এগুলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা দৃষ্টিশক্তি, ত্বক ভালো রাখে। তাজা আম পটাসিয়ামের খুব ভালো উৎস। হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আমে স্বল্প পরিমাণে কপার পাওয়া যায়, যেগুলো লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। নিয়মিত আম খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিক থাকে।

 

জাম

ভিটামিন ‘সি’, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন ‘এ’, পটাশিয়াম ইত্যাদির ভালো উৎস জাম। এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ ও ‘ই’ ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত জাম খেলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এই ফল লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। যাঁরা রক্তস্বল্পতাজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাঁরা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ও অ্যান্টিভাইরাল হিসেবে কাজ করে ফলটি। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বক ভালো রাখে এবং ত্বকের নানা জটিলতা কমায়।

 

লিচু

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স, ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস ফ্লাভিনয়েডসের ভালো উৎস লিচু। এতে ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, আয়রন ও ফলিক এসিড পাওয়া যায়; যা লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় বয়সের ছাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লিচুতে থাকা উপাদান টিউমারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা তৈরি করে থাকে।

 

কাঁঠাল

কাঁঠালের বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত উপকারিতার পাশাপাশি কাঁঠালের বিচিও পুষ্টিগুণে ভরা। কাঁঠাল পটাসিয়ামের ভালো উৎস, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যালস আছে, যেগুলোর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে, ত্বক ভালো রাখে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, হজম প্রক্রিয়া ভালো রাখতে সাহায্য করে, রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে ও ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। কাঁঠালের বিচি হৃদরোগ ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর। এ ছাড়া কাঁঠালের বিচি প্রিবায়োটিকের ভালো উৎস হিসেবে কাজ করে, যা অন্ত্রের পরিবেশ ঠিক রেখে হজমপ্রক্রিয়া ভালো রাখে।

 

জামরুল

আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘সি’র ভালো উৎস জামরুল। এর গাছের বাকলে জাম্বোসিন নামের একপ্রকার উপাদান পাওয়া যায়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। লিভার ও কিডনি পরিষ্কার রাখা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বক ভালো রাখতেও বেশ কার্যকর। গর্ভবতী মায়েদের নানা পুষ্টি চাহিদা মেটাতেও জামরুল ভূমিকা রাখে।

গ্রন্থনা : নাহিদা আহমেদ, পুষ্টিবিদ



সাতদিনের সেরা