kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

নবজাতকের যখন জন্ডিস

অধ্যাপক ডা. খালেদ নুর, বিভাগীয় প্রধান, শিশু বিভাগ, কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবজাতকের যখন জন্ডিস

নবজাতকেরও জন্ডিস হয়। তখন রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। তবে সময়মতো চিকিৎসা নিলে এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে নবজাতকের জন্ডিস ঠিক হয়ে যায়।

 

উপসর্গ

♦ নবজাতকের দেহ হলুদাভ হয়

♦ প্রথমে মুখ, আস্তে আস্তে শরীর, এমনকি হাত ও পায়ের তালু পর্যন্ত হলুদ হয় (তবে পুরো শরীর হলুদ হয়ে গেলে বিলম্ব না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে)।

♦ দুধ পান করে না

♦ পেট ফুলে যায়

♦ নড়াচড়া কম করে

♦ তীব্র জ্বর হতে পারে। আবার শরীর অতিরিক্ত ঠাণ্ডাও হয়ে যেতে পারে।

♦ কোনো কোনো ক্ষেত্রে খিঁচুনিও হতে পারে।

 

কারণ

নানা কারণে নবজাতকের জন্ডিস হতে পারে। যেমন—

হেমোলাইটিক এনিমিয়া : এ ক্ষেত্রে নবজাতক রক্তশূন্য হয়ে পড়ে। লিভার ও প্লীহা বড় হয়ে যায়। চোখ বেশি হলুদাভ হয়। দ্রুত চিকিৎসা নিতে হয়।

রক্তের গ্রুপজনিত জন্ডিস : নবজাতকের বা শিশুর রক্তের গ্রুপ যদি পজিটিভ, আর মায়ের নেগেটিভ গ্রুপের হয়—এ ক্ষেত্রে বিপজ্জনক ধরনের জন্ডিস হতে পারে। এ ছাড়া মায়ের রক্ত পজিটিভ হলেও এ ধরনের বিপদ ঘটতে পারে।

ইনফেকশন : নবজাতকের রক্তে ইনফেকশন ছড়িয়ে গেলে সেপটিসেমিয়া হয়ে জন্ডিস হয়। এ ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে ৭ থেকে ১০ দিনের মতো সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করাতে হয়।

প্রি-ম্যাচিউরিটি : অপরিণত জন্ম হলে নবজাতকের জন্ডিস হতে পারে। মাত্রা বেশি হলে ফটোথেরাপি দিতে হবে। আবার জন্ডিসের মাত্রা কম হলে (১৪ মি.গ্রা./ডেসিলিটারের নিচে হলে) সূর্যের আলোয় ভালো হয়ে যায়।

মায়ের ডায়াবেটিস : কোনো নবজাতকের মায়ের ডায়াবেটিস থাকলে জন্মগ্রহণের পর নবজাতকের জন্ডিস হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নবজাতকের শর্করা লেভেল স্বাভাবিক রাখতে হবে।  রাউন্ড দ্য ক্লক ফিডিং বা ঘন ঘন বুকের দুধ দিতে হবে।

হাইপোথাইরয়েডিজম : এ ক্ষেত্রে বুকের দুধ খেলেই জন্ডিস হয়। এ রকম হলে শিশুর থাইরয়েড হরমোন রিপ্লেসমেন্ট করাতে হয়।

এ ছাড়া লিভার ব্লকেজ, অরগান ডিফেক্ট, পিত্তথলিতে কোনো সমস্যা, গ্লুকোজ সিক্স ফসফেটস এনজাইম  ডেফিসিয়েন্সি, পাকস্থলীতে খাদ্য নির্গমনে কোনো বাধা থাকলেও জন্ডিস হতে পারে।

 

পরীক্ষা

রক্তের প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা যেমন—রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা এবং তা প্রত্যক্ষ না পরোক্ষ তা নির্ণয়, মা ও নবজাতকের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট, কুম্বস টেস্ট, রেটিকুলোসাইট কাউন্টসহ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়।

 

চিকিৎসা ও করণীয়

♦ সাধারণত জন্মগত কারণে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জন্ডিস পরিলক্ষিত হয়। এসবের বেশির ভাগই ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিস বা সাধারণ জন্ডিস। এই জন্ডিসের ক্ষেত্রে নবজাতককে প্রতিদিন আধা ঘণ্টা করে ১০ দিন সূর্যের আলোতে রাখলেই ভালো হয়ে যায়। তবে জন্ডিসের মাত্রা বেশি মনে হলে (বিলিরুবিন ১৪ বা তার বেশি হলে) হাসপাতালে এনে ফটোথেরাপি দিতে হয়।

♦ নবজাতকের জন্ডিস হলে সাধারণত বেশি করে বুকের দুধ খাওয়াতে হয়। এতে বারবার পায়খানা হয়, পায়খানার মাধ্যমে শরীরে জমে থাকা বিলিরুবিন বের হয়ে যায়।

♦ হাসপাতালে চিকিৎসা হিসেবে সাধারণত ফটোথেরাপি প্রয়োগ করা হয়। এক ধরনের বেগুনি আলোর মধ্যে, হালকা গরম আবহাওয়ায় শিশুটিকে কিছু সময়ের জন্য রাখতে হয়। শিশুকে সাধারণত চোখ ঢেকে দেওয়া হয়। শিশুর শারীরিক অবস্থা ঠিক থাকলে এ সময়ও কিছুক্ষণ পরপর বুকের দুধ পান করানো উচিত।



সাতদিনের সেরা