kalerkantho

শনিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৪ রজব ১৪৪২

করোনা সংক্রমণ ও চুল পড়া সমস্যা

ডা. জাহেদ পারভেজ, সহকারী অধ্যাপক, চর্ম, যৌন রোগ বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা সংক্রমণ ও চুল পড়া সমস্যা

মাথার চুল পড়ে গিয়ে আবার গজানো—এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে চিন্তার বিষয় তখনই, যখন চুল পড়ার চেয়ে গজানোর হার কমে যায়। তবে কভিড-১৯ সংক্রমণ পরবর্তী সময়ে চুল উঠতে পারে বলে জানাচ্ছে নতুন গবেষণা। বিশেষত বহুদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত থাকলে চুল পড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিনের সাম্প্রতিক সময়ের একটি সমীক্ষা বলছে, প্রথম ২৫টি উপসর্গের মধ্যে রয়েছে চুল পড়ে যাওয়া।

 

কারণ

সাধারণত বংশগতি, অপুষ্টি, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, শারীরিক রোগ, বিশেষত হরমোনজনিত রোগ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি কারণে অস্বাভাবিক বা মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়তে পারে। ডেঙ্গু, টাইফয়েড, চিকুনগুনিয়া পরবর্তী এমনকি ভাইরাল ইনফেকশন পরবর্তীতেও চুল পড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। তবে কভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে রোগীদের চুল বেশি পড়ে কী কারণে তার সঠিক কারণ জানা না গেলেও কিছু বিষয়কে দায়ী করা হচ্ছে। যেমন :

 

ভিটামিন ডি লেভেল কমে যাওয়া

ধারণা করা হচ্ছে, দেহের অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘ডি’ লেভেল কমে যাওয়ায় চুল পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। যাঁরা ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না, সঠিক মাত্রায় রোদ পাচ্ছেন না, শারীরিক শ্রম কমিয়ে দিয়েছেন—তাঁদেরই ভিটামিন ‘ডি’র যথেষ্ট স্বল্পতা দেখা দেয়। আর সেই পরিণতিতেই ঘটতে পারে চুল পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা।

সার্স কোভ-২ ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রকে বেশি আক্রমণ করলেও আক্রমণকারী ভাইরাসটিকে প্রতিহত করতে গিয়ে সারাক্ষণ যুদ্ধরত দেহের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে ফেলে। তখন রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতার অন্যতম সহচর ভিটামিন ‘ডি’ লেভেল কমে যায়। ভিটামিন ‘ডি’ সঠিক পরিমাণে থাকা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

চুলের জীবনচক্রের পরিবর্তন

চুলের জীবনচক্রের চারটি স্তর রয়েছে। এগুলো হলো—আনাগেন বা ক্রমবর্ধমান পর্যায়, যা দুই থেকে সাত বছর স্থায়ী হয় এবং চুলের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করে। ক্যাটেজেন বা রূপান্তরপর্ব, যা প্রায় ১০ দিন স্থায়ী হয়। টেলোজেন বা বিশ্রামের পর্যায়, যা প্রায় তিন মাস স্থায়ী হয়। প্রায় ১০-১৫ ভাগ চুল এই পর্যায়ে থাকে। পুরনো চুল বিশ্রামে থাকা অবস্থায় নতুন চুল বৃদ্ধির পর্ব শুরু হয়। চতুর্থ স্তর এক্সোজেন বা নতুন চুলের পর্যায়। এই পর্যায়ে পুরনো চুল পড়ে এবং নতুন চুল গজায়। প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ১৫০টি চুল কমে যেতে পারে এই পর্যায়ে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, করোনা পরবর্তী সময়ে রোগীদের চুলের একটা বিরাট অংশ সময় হওয়ার অনেক আগেই এক্সোজেন পর্যায়ে চলে যায়। তখন দ্রুত চুল পড়তে থাকে; কিন্তু সে অনুযায়ী গজায় না। বিশেষ করে যাদের মাথায় এমনিতেই চুল কম, তারা বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

 

চুল পড়া রোধে করণীয়

ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্যের সঙ্গে চুল সরাসরি সম্পৃক্ত। এ জন্য চুল পড়ে গেলে অস্বাভাবিক হতাশা ও বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন মানুষ। অনেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার কারণে পেশাগত ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

করোনা পরবর্তী সময়ে চুল পড়া রোধে কিছু উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন :

♦ প্রতিদিন সহনীয় হালকা শারীরিক ব্যায়াম করুন।

♦ মানসিক চাপ কমান, দুশ্চিন্তামুক্ত ও হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করুন।

♦ পর্যাপ্ত দুধ, ডিমসহ পুষ্টিকর ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান।

♦ প্রতিদিন দ্বিপ্রহরে অর্থাৎ দুপুর ১২টার দিকে যতটা সম্ভব কম কাপড়ে শরীর ঢেকে ২০-২৫ মিনিট গায়ে রোদ লাগানোর চেষ্টা করুন। এতে ভিটামিন ‘ডি’ লেভেল বজায় থাকতে পারে বা ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সাহায্য করে।

♦ নিয়মিত চুল ও ত্বকের প্রয়োজনীয় যত্ন নিন।

 

যখন চিকিৎসা

কভিড পরবর্তী সময়ে কম মাত্রায় চুল পড়লে তেমন চিন্তার কারণ নেই। তবে দ্রুত বেশি চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিলে চুল বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। অতি দ্রুত চুল পড়ার সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে বর্তমানে বাংলাদেশে Platelet Rich Plasma Therapy বা PRP Therapy, Microneddling Therapy, Hair Filler, Hair Booster, Growth Factor Therapy ইত্যাদির মতো আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা রয়েছে। এ ধরনের চিকিৎসা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ও বেশ সাশ্রয়ী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা