kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে খাবারদাবার

পুষ্টিবিদ লিনা আকতার ডায়াবেটিক ও স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁও

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে খাবারদাবার

থাইরয়েড হলো এমন একটি এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি, যা দেহের বিপাকসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোন তৈরির জন্য গ্রন্থিটির প্রয়োজনীয় পরিমাণ আয়োডিন দরকার হয়। সারা বিশ্বে ২০ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে। বাংলাদেশে প্রতি আটজনে একজন থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে। এ জন্য নারীরাও বন্ধ্যাত্ব বরণ করছে বা সন্তানধারণে নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে। তবে থাইরয়েডসংক্রান্ত রোগ নিয়ন্ত্রণে খাবারদাবারের রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে যা খাবেন তা হলো :

 

পর্যাপ্ত প্রোটিন

ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে প্রোটিন। এ ছাড়া বিপাকক্রিয়া উন্নত করে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা থেকে রক্ষা করে তথা ওজন নিয়ন্ত্রণে বেশ ভূমিকা রাখে। এ জন্য প্রতিদিন দুটি কুসুমসহ ডিম, দুই টুকরা মাছ বা মাংস, বাদাম, ডাল, ছোলা, শিম প্রভৃতি খাওয়া যেতে পারে, যা ভালো প্রোটিনের উৎস।

 

হেলদি ফ্যাট

হরমোনাল ব্যালান্স, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও গর্ভধারণের জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বি বেশ সহায়ক। হেলদি ফ্যাটের উৎস হলো নারকেল তেল, এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, তিসি, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে ঘরে বানানো নারকেল তেল দিয়ে রান্না করে খাওয়া ভালো। যাঁরা নারকেল তেল খেতে পারেন না, তাঁরা নারকেল কোরানো বেশ ভালো পরিমাণে খেতে পারেন। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে যথেষ্ট পরিমাণে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট, পলিফেনল ও ফাইট্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে, যা থাইরয়েড উৎপাদনে বেশ সহায়ক। এই তেল সালাদে ব্যবহার করেও খেতে পারেন।

 

তিসি

তিসি ওমেগা থ্রির একটি ভালো উৎস। এটি সালাদে ছড়িয়ে বা আটায় মিশিয়ে রুটি বানিয়ে খেলে বেশ ভালো পরিমাণ ওমেগা থ্রি পাওয়া যায়।

 

আয়োডিন

থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আয়োডিন। এর উৎস হিসেবে রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করতে হবে। তবে আয়োডিনযুক্ত লবণের সঠিক গুণাগুণ পেতে হলে লবণ অতিরিক্ত তাপমাত্রার মধ্যে বা চুলার পাশে রাখা যাবে না। এ ছাড়া দুধ, চিজ, পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা, আনারস, টমেটো, স্ট্রবেরি, সামুদ্রিক মাছ স্যালমন, স্যামন, সারডিন, হেরিং প্রভৃতি আয়োডিনের ভালো উৎস। 

 

টাইরোসিনযুক্ত খাবার

টাইরোসিন কমে গেলে থাইরয়েডের পরিমাণ কমে যায়। এ জন্য উচ্চ টাইরোসিনযুক্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন। যেমন—লাল মাংস, টার্কি মুরগির বুকের মাংস, স্যালমন মাছ, কলা, মিষ্টি কুমড়ার বিচি ইত্যাদি।

 

জিংক

জিংক থাইরয়েডে হরমোন সংশ্লেষণে কাজ করে। পর্যাপ্ত জিংক পেতে খেতে হবে ডিম, দুধ, পনির, লাল মাংস, তরমুজের বিচি, রসুন, বাদাম, তিল প্রভৃতি। প্রতি ১০০ গ্রাম তিল থেকে ৮ গ্রাম জিংক পাওয়া যায়।

 

সেলেনিয়াম

থাইরয়েড ফাংশনে লিভারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে সেলেনিয়াম। এর ভালো উৎস হলো ব্রাজিল নাটস। এ ছাড়া লাল চাল, চিংড়ি, টুনাফিস, সরিষা, ইলিশ মাছ, শসা ইত্যাদি সেলেনিয়ামের ভালো উৎস।

 

ভিটামিন

থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন ও নিঃসরণে সাহায্য করে পাশাপাশি টি-থ্রিকে টি-ফোরে রূপান্তরে সাহায্য করে ভিটামিন। এর ভালো উৎস হলো গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, হলুদ ও সবুজ শাক-সবজি, ডিম।

 

ক্যালসিয়াম ভিটামিন ডি

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে রক্ত শরীর থেকে চামড়ায় যেতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে হাত-পায়ে প্রচুর ব্যথা হয়। তাই থাইরয়েড হরমোনে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’-এর ভূমিকা অপরিহার্য। ভিটামিন ‘ডি’ পেতে হলে নিয়মিত সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে কমপক্ষে আধাঘণ্টা রোদে থাকতে হবে। যাঁদের রোদে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাঁরা তৈলাক্ত মাছ, গরুর কলিজা, ডিম, পনির, তিল, সবুজ শাক-সবজি পালংশাক, কমলালেবু থেকে পেতে পারেন।

 

ভিটামিন বি১২

থাইরয়েড রোগীদের রক্তস্বল্পতা, অন্ত্রনালির সমস্যা, বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যায় ভিটামিন বি১২ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর ভালো উৎস হলো ডিম, ডাল, মাংস ও মাছ।

 

যেসব খাবার কম খেতে হবে

হাই ক্যালরি ও হাই কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার : আলু, কচু, চিপস, চানাচুর, শিঙাড়া, পুরি ইত্যাদি খাবার কম খেতে হবে। কেননা এতে ক্যালরি বেড়ে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। অতিরিক্ত হাই ফাইবারযুক্ত খাবারও খাওয়া যাবে না। এটিও থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের ওপর চাপ ফেলে।

অতিরিক্ত আয়োডিন : গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্রাতিরিক্ত ডোজের কারণে হাইপোথাইরয়েড রূপান্তরিত হয়ে হাইপার থাইরয়েড হয়ে যায়। তাই মাত্রাতিরিক্ত আয়োডিনযুক্ত খাবার খাওয়া ঠিক নয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা