kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কভিড-পরবর্তী খাদ্য ব্যবস্থাপনা

করোনার এই সময়ে খাদ্যব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেয়া অপরিসীম। বিশেষ করে যাঁরা একবার কভিড আক্রান্ত হয়ে আপাত সুস্থ মনে করছেন নিজেদের, তাঁদের কিছু খাবারকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ বিষয় নিয়ে লিখেছেন ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট পুষ্টিবিদ সিরাজাম মুনিরা

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কভিড-পরবর্তী খাদ্য ব্যবস্থাপনা

ভিটামিন ‘সি’

ভিটামিন ‘সি’র অন্য নাম অ্যাসকরবিক এসিড। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে এর পুষ্টিমূল্য অনেক। লেবু, আমলকী, পেয়ারা, কমলা, মাল্টা, গাজর, আমড়া, জাম্বুরা ইত্যাদি খাবারে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। শজনে পাতায়ও প্রচুর ভিটামিন ‘সি’সহ নানা খাদ্যপ্রাণ থাকে। কেমিক্যাল কখনোই ভালো নয় বিধায় ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্টারি খাওয়া ঠিক না। এর চেয়ে ফলমূলের মাধ্যমে ভিটামিন ‘সি’ খাওয়া বেশি কার্যকর। কেননা এটি ধীরে ধীরে শরীরের সঙ্গে মিশে যায়।

 

ভিটামিন ‘ডি’

বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন, ভিটামিন ‘ডি’ শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বেশ সাহায্য করে। কোনো কোনো গবেষণা এ-ও বলছে, শরীরে পর্যাপ্ত মাত্রার ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে করোনায় মারা যাচ্ছে মানুষ।

তাই ভিটামিন ‘ডি’ পেতে তীব্র রোদে মাত্র কয়েক মিনিট থাকলেই যথেষ্ট। ভালো হয় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে গা এলিয়ে কিছুক্ষণ রোদে থাকতে পারলে।

এ ছাড়া কিছু খাবার, যেমন—দুধ, কডলিভার অয়েল, মাছের তেল, লবঙ্গ, এলাচি, পোস্তদানা, গাজর, গোলমরিচ, হলুদ, জিরা, আদা, কাঁচা মরিচ, রসুন, ডিমের কুসুম, দুধ, আখরোট, কাজুবাদাম ইত্যাদিতে ভিটামিন ‘ডি’ বেশ পাওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ভিটামিন ‘ডি’র সাপ্লিমেন্টস গ্রহণ করা ঠিক নয়।

 

জিংক

স্বাস্থ্যকর প্রতিরোধব্যবস্থার জন্য জিংক খুব প্রয়োজনীয়। এটা শরীরের নতুন কোষ ও এনজাইম তৈরিতে, কার্বোহাইড্রেট প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাবারে ফ্যাট ও প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে, পেশি গঠন ও ক্ষত নিরাময়ে গতি বাড়ায়। সর্দি ও ভাইরাসজনিত অ্যালার্জি ও জ্বরের লক্ষণ হ্রাস করে জিংক। উচ্চ জিংকযুক্ত খাবার যেমন—আঁশযুক্ত মাছ, ডিম, বাদাম, শিম, ছোলা, মসুর, মটরশুঁটি ইত্যাদি বেশি গ্রহণ করুন।

 

আদা

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে আদা একটি জাদুকরী উপাদান। বিশেষত কেউ যদি ঠাণ্ডায় ভুগে থাকেন, সে ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকর। আদায় থাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শীত ও ফ্লু, বমি বমি ভাব ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়াই করে। এ ছাড়া আয়রন, দস্তা, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামে পরিপূর্ণ বলে আদা রোগ প্রতিরোধের লড়াইয়ে দারুণ কার্যকর। কারোর জন্য দারুণ পুষ্টিকর খাবার হতে পারে চিনি ছাড়া আদা চা।

 

আরো যা খাবেন

♦ এই সময় নিয়মিত সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খান। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (এফএও) ও ডায়াটরি গাইডলাইনস অব বাংলাদেশের সুপারিশ অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ১০০ গ্রাম শাক, ২০০ গ্রাম অন্যান্য সবজি ও ১০০ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন।

♦ প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

♦ অতিরিক্ত লবণ খাওয়া নয়।

♦ ভাজাপোড়া, চর্বিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

♦ অতিরিক্ত ভাত, রুটি খাওয়ার অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসুন।

♦ প্রোটিনজাতীয় খাবার একটু বেশি পরিমাণে গ্রহণ করুন।

♦ স্ট্রেস একেবারে নেবেন না। মনে রাখবেন, মনোবল মানুষকে জয়ী করে।

♦ নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন।

♦ বারবার হাত ধোন, বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।

♦ করোনাকালীন সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা