kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

যাতায়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন

ডা. আবীর হাসান, রেসিডেন্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যাতায়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন

চারদিকে করোনার ভয়াবহ প্রকোপের মধ্যেও জরুরি প্রয়োজনে এখন মানুষকে দূরদূরান্তে যেতে হচ্ছে। এসব ভ্রমণে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা ছাড়াও অনেক ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে। এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা খুব জরুরি বলে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

 

সমস্যা হতে পারে যাদের

►        যারা যানবাহনে আসনের সামনে স্বল্প জায়গায় পা ভাঁজ করে দীর্ঘক্ষণ অনড় হয়ে বসে থাকে, তাদের ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা ডিভিটি হতে পারে। এর কারণে পায়ের কাফ মাসল লাল হয়ে ফুলে যায়, ব্যথা হয়। প্রতি ছয় হাজার ভ্রমণকারীর (চার ঘণ্টার বেশি ভ্রমণকালে) মধ্যে একজনের এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা গবেষণায় উঠে এসেছে। বিমান যাত্রায় ডিভিটি হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। যাদের রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস রয়েছে বা নিকট-অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে শল্যচিকিৎসা হয়েছে, তাদেরও এই ঝুঁকি অনেক বেশি।

►        যারা কোনো রোগ বা আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন অচল রয়েছে, যেমন—ফ্র্যাকচার বা স্ট্রোকের রোগী, তাদের ভ্রমণকালীন বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

►        শিরার প্রদাহ, জরাগ্রস্ত রোগী, ৬০ বা এর অধিক বয়সীদের ভ্রমণে ঝুঁকি বেশি।

►        গর্ভবতী, স্থূল, ধূমপায়ী, ইস্ট্রোজেনযুক্ত ওষুধ, যেমন—মুখে খাওয়ার পিল ব্যবহারকারীদের ভ্রমণে ঝুঁকি বেশি থাকে।

 

যা করবেন

►        সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যানবাহনে উঠুন, অবস্থান করুন ও নামুন। যানবাহনের হাতলে বা অন্য কোথাও স্পর্শ করবেন না।

►        ভ্রমণে বা বাসার বাইরে বের হওয়ার সময় সম্ভব হলে এন৯৫ মাস্ক ব্যবহার করুন। সম্ভব না হলে অবশ্যই সার্জিক্যাল বা ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করুন।

►        ভ্রমণের সময় হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করুন।

►        ব্যাগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ রাখুন। ভ্রমণকালীন এক ঘণ্টা পর পর হাত স্যানিটাইজ করুন, তবে হ্যান্ড গ্লাভস পরা থাকলে তেমন দরকার নেই। বিরতিতে বা গাড়ি থেকে নেমে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোবেন।

►        বাসা থেকে খাবার পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে যান। রাস্তাঘাটে পানির বোতল কিনে ব্যবহার না করাই ভালো।

►        পানিস্বল্পতা এড়াতে প্রচুর বিশুদ্ধ পানীয় পান করুন। অ্যালকোহল ও ক্যাফেইনযুক্ত পানি পান করবেন না।

►        নিজস্ব টিস্যুবক্স ব্যবহার করুন। অন্যের কাছ থেকে টিস্যু নেবেন না।

►        দীর্ঘ ভ্রমণকালে, বিশেষ করে বিমানে পায়ের ব্যায়াম করবেন। বসা অবস্থায় ৩০ মিনিট পর পর বারবার পা ভাঁজ ও সোজা করুন। আঙুল ও পায়ের পাতা দিয়ে মেঝে বা পাদানিতে কিছুক্ষণ পর পর চাপ দিন। এসবে ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা ডিভিটি রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

►        পায়ের গোড়ালি ঘুরিয়ে এবং আঙুল নেড়ে পা সচল রাখুন। কিছুক্ষণ পর পর পা আসন বরাবর উঁচু করে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন।

►        ধূমপান সম্পূর্ণ পরিহার করুন।

►        ভ্রমণে ঘুমের ওষুধ খাবেন না, এটি শারীরিক সচলতা কমিয়ে দুর্ঘটনা বাড়াতে পারে।

►        আঁটসাঁট পোশাক বা মোজা পরবেন না। ভ্রমণকালীন ইলাস্টিক স্টকিং ব্যবহার করতে পারেন।

►        অনেকের বিমানে বা গাড়িতে উঠে বমি হতে পারে, যাকে বলে মোশন সিকনেস। এ জন্য ওঠার আগেই সংশ্লিষ্ট ওষুধ খেয়ে নিন বা ব্যাগে, পকেটে রাখুন।

►        অনেকের মাথা ঘোরায়। এই সমস্যার সমাধানে চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ শ্বাস নিন। বেশি করে পানি পান করুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা