kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

করোনাকালে দাঁত ও মুখের যত্ন

অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী, সিনিয়র সাম্মানিক উপদেষ্টা. ডেন্টাল বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল, অধ্যাপক, ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজ

১১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাকালে দাঁত ও মুখের যত্ন

করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের গবেষণাকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পৃথিবীব্যাপী। আশার কথা যে সম্প্রতি কভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে মাউথওয়াশের কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা শুরু হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, ক্লোরহেক্সিডিন বা পভিসেপজাতীয় মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ কুলকুচা করলে মুখের ভেতরে থাকা নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। কিন্তু মাউথওয়াশ দিয়ে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া দূর হলেও করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে কতখানি কার্যকর তা এখনো পরীক্ষাধীন।

 

দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় করণীয়

দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য রক্ষা সব সময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় এসব বিষয়ে কিছু পরামর্শ আন্তর্জাতিক ডেন্টাল সংস্থাগুলো প্রদান করেছে। এর মধ্যে কিছু বিষয় হলো :

 

টুথব্রাশ সাবধানে সংরক্ষণ করুন

টুথব্রাশ রাখার জন্য বিভিন্ন পাত্র ব্যবহার করা হয়। এক পাত্রে বা এক গ্লাসে দুজন বা অনেক টুথব্রাশ রাখা হয় সাধারণত। এখন কিন্তু তা করা ঠিক হবে না; এটা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ একজনের দেহে থাকা ভাইরাস টুথব্রাশের শলাকার ছোঁয়া বা সংস্পর্শে আরেকজনের ব্রাশের শলাকায় যেতে পারে, ঠিক যেভাবে অন্যজনের মধ্যে কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

টুথব্রাশ পরিবর্তন করুন

দাঁত পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত টুথব্রাশটি অন্তত তিন মাস পর পর পরিবর্তন করা প্রয়োজন। যদি ব্রাশের শলাকাগুলো তিন মাসের আগেই বাঁকা হয়ে যায়, তাহলেও টুথব্রাশ বদলানো প্রয়োজন। কেননা তখন তা আর আগের মতো কার্যকর থাকে না। নিয়মিত ব্রাশ পরিবর্তন করার ফলে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুর সংক্রমণ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।

 

অন্যের ব্রাশ নয়

কারো টুথব্রাশ শেয়ার করা যাবে না। অর্থাৎ একজনের টুথব্রাশ আরেকজন কোনোভাবেই ব্যবহার করতে পারবে না। কারণ এতে খুব সহজেই কভিড সংক্রমণ হতে পারে।

 

রুটিন ডেন্টাল চেক আপ নয়

রুটিন ডেন্টাল কার্যক্রমগুলো করোনার এই সময়ে না করাই ভালো। তবে কারো যদি কোনো জরুরি প্রয়োজন হয়। যেমন দাঁতের গোড়া বা মুখ ফুলে যাওয়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করা, হাঁ করতে অসুবিধা হওয়া, মুখে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া, ধারালো ভাঙা দাঁতের কারণে ঘা বা ক্ষত ইত্যাদির উপস্থিতি থাকলে বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নিয়ে চিকিৎসা করা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই পিপিই বা সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে চিকিৎসক, রোগী, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সবাইকেই।

 

কমোডের ঢাকনা খোলা নয়

বেশির ভাগ মানুষ বাথরুমেই সাধারণত টুথব্রাশগুলো রাখে। এ জন্য বাথরুমে থাকা কমোডের ঢাকনা সব সময় ঢেকে রাখতে বলা হচ্ছে। বিশেষত কমোডে মল ত্যাগের পর ফ্লাশ করার সময় জলীয়বাষ্পের সঙ্গে ড্রপলেট আকারে ভাইরাস বাতাসের সঙ্গে এসে টুথব্রাশ ও অন্যান্য জায়গায় কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। তাই প্রতিবার মলমূত্র ত্যাগের পর কমোডের ঢাকনা দিয়ে তারপর ফ্লাশ করাটাই নিরাপদ।

 

খাবারদাবার গুরুত্বপূর্ণ

প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং লাল, সবুজ, হলুদ বর্ণের সব ধরনের শাকসবজি যেমন লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক খাওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি এক বাটি সালাদ (শসা, টমেটো, গাজর, লেটুসপাতা, লেবুর রস মিশিয়ে) খাওয়া উচিত।

ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ টক ফল বিশেষ করে আমলকী, কমলা, জাম্বুরা, কামরাঙা, পেয়ারা ইত্যাদি খেলে দাঁত ও মাড়ি শক্ত হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। করোনাকালীন এই সময়ে বেশি প্রয়োজন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘ডি’সমৃদ্ধ খাবার।

 

আরো কিছু করণীয়

♦ প্রতিদিন দুই বেলা (সকালে নাশতার পর এবং রাতে আহারের পর ঘুমানোর আগে) ফ্লোরাইডযুক্ত টুথব্রাশের সাহায্যে দাঁত পরিষ্কার করা।

♦ নিয়মিত অন্তত এক বেলা রাতে খাবার পর ব্রাশের আগে ডেন্টাল ফ্লস (এক ধরনের পিচ্ছিল সিল্ক সুতা) দিয়ে দুই দাঁতের মধ্যবর্তী স্থান থেকে খাদ্যকণা পরিষ্কার করা।

♦ প্রতিদিন দুই বেলা দাঁত ব্রাশের আগে জিবছুলা বা টাং ক্লিনার দিয়ে জিহ্বার ওপরে আটকে থাকা খাদ্যকণা গলা থেকে জিহ্বার ওপর দিয়ে সামনের দিকে টেনে নিয়ে জিহ্বা পরিষ্কার করা। এতে জিহ্বার ওপর লেগে থাকা অসংখ্য ক্ষুদ্র খাদ্যকণা দূর হয় এবং মুখের দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

♦ করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হলে দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে হবে, সেই সঙ্গে মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে।

♦ সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি ১৪ গুণ বেশি, অতএব সব ধরনের তামাক বিশেষত ধূমপান, জর্দা, গুল, সাদাপাতা, ই-সিগারেট, সিসা ও গাঁজা বর্জন করা খুব জরুরি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা