kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

জরুরি

হুট করে পেটব্যথা?

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হুট করে পেটব্যথা?

হঠাৎ বৃষ্টি ও সঙ্গে গরম, একটু পর আবার হিমেল হাওয়া লেগেই আছে। এ ধরনের আবহাওয়া আমাদের পরিপাকতন্ত্রের তাপীয় ভারসাম্যের জন্য একটি বড় বাধা। এতে যখন তখন দেখা দিতে পারে পেটের ব্যথা। পরামর্শ দিয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিত্সক ডা. লুবাবা চৌধুরী

হঠাৎ শুরু পেট কামড়ানো, তারপর বমি বমি ভাব আর পানির মতো মল—এই হলো গরমের পেট খারাপ বা গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের লক্ষণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এর কারণ নানা ধরনের ভাইরাস। এ সমস্যার আরেক নাম স্টমাক ফ্লু। মাঝে মাঝে এটা ব্যাকটেরিয়াজনিতও হয়।

এ ধরনের সমস্যায় শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ সবচেয়ে জরুরি। বমি ও ডায়রিয়ার মাধ্যমে শরীর পানি হারায়, তার ওপর কিছু খেতেও ইচ্ছে করে না। তাই বারবার মুখে খাবার স্যালাইন নিতে হবে।

খেতে পারেন ডাবের পানি, চিঁড়ার পানিও। কফি, কালো চা, চকোলেট, মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। মসলাযুক্ত লোভনীয় খাবার না হয় গরমকালে কমই খেলেন। ভাইরাসজনিত পেট খারাপ সারাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। এটা এমনিতেই সেরে যায়। তাই হুট করে কারো কাছ থেকে শুনেই অ্যান্টিবায়োটিকের পেছনে দৌড়াবেন না।

প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ আর বিশ্রামই এ ক্ষেত্রে আসল চিকিত্সা। প্রচণ্ড পেটব্যথা, মলের সঙ্গে রক্তক্ষরণ ও বমির জন্য কিছু খেতে না পারা—এসব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।

 

কিছু টিপস

খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এবং কিছু বিষয় মেনে চলার মাধ্যমে পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

♦ অতিরিক্ত গরমে আমাদের পরিপাকতন্ত্রের এনজাইমগুলোর কর্মক্ষমতা কমে যায়, তাই রিচ ফুড (যেমন বিরিয়ানি, পোলাও ইত্যাদি) যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

♦ পানির বিকল্প নেই। পেট খারাপ হলে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তিন গ্লাস পানি বেশি পান করুন। চলার পথে অস্বাস্থ্যকর পানীয় পরিহার করতে হবে।

♦ খাদ্যের তালিকায় সালাদ রাখুন। বিশেষ করে খাবারের সঙ্গে শসা খাবেন। এতেও পেটের সমস্যা দূর হবে।

♦ ফাইবার তথা আঁশজাতীয় খাদ্য (যেমন ডাঁটা শাক, ঢেঁড়স) বেশি খান। সবজি পরিপাকনালি পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। বেশি করে ফলমূল খাবেন।

♦ খাবারের মাঝে অল্প অল্প ঢোকে হালকা কুসুম গরম পানি পান করুন। খাওয়ার শেষে কখনোই অতিরিক্ত পানি পান করবেন না। খাওয়ার কিছুটা সময় পর কুসুম গরম পানি পান করুন।

♦ কখনোই পেট পুরে খাবেন না। কিছুটা জায়গা খালি থাকতেই খাওয়া শেষ করুন। লেবুর শরবত, ইসপগুলের ভুসি, বেলের শরবত পান করুন। এজাতীয় পানীয় পরিপাকতন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী।

♦ অন্তত একবেলা খাবার শেষে টক দই খেতে পারেন। খাবার শেষে সঙ্গে সঙ্গে না ঘুমিয়ে বরং একটু হাঁটাহাঁটি করুন। ডান দিকে কাত হয়ে শোবার চেষ্টা করুন। এতে অ্যাসিডিটি হওয়ার আশঙ্কা কমে। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস ঠাণ্ডা দুধ পান করতে পারেন।

♦ এই নিয়মগুলো যে শুধু পেটের ব্যথা কমাবে তা কিন্তু নয়। বরং মহামারির এ সময়টা নিয়মিত এসব অভ্যাস মেনে চললে রোগমুক্ত থাকতে পারবেন।

 শ্রুতলিখন : জুবায়ের আহমেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা