kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

চোখের মাধ্যমেও ঘটে সংক্রমণ

অধ্যাপক ডা. আশরাফ সাঈদ, বিভাগীয় প্রধান, চক্ষু বিভাগ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজ

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চোখের মাধ্যমেও ঘটে সংক্রমণ

হাত দিয়ে বারবার চোখ স্পর্শ নয়

মুখ ও নাকের পর কভিড-১৯ সংক্রমণের অন্যতম মাধ্যম চোখ। মাস্ক পরা সত্ত্বেও মনের অজান্তে যখন-তখন চোখে হাত দেওয়ার কারণে অসংখ্য মানুষ করোনাভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়। এ জন্য চোখের ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে।

 

যেভাবে সংক্রমণ ঘটে

করোনা আক্রান্ত রোগী ১ মিটারের (৩ ফুট) মধ্যে থাকলে রোগীর হাঁচি-কাশি থেকে নিঃসৃত ড্রপলেট সরাসরি অন্য আরেকজনের চোখে যেতে পারে। অথবা করোনাভাইরাস আছে এ রকম কোনো জড় বস্তুর ওপর হাত দিয়ে সেই হাত চোখে দিলে ভাইরাসটি চোখের মিউকাস পর্দা দ্বারা শোষিত হয়ে রক্তে প্রবেশ করতে পারে।

তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চোখের পানির সঙ্গে এই ভাইরাস চোখের নেত্রনালি হয়ে সরাসরি নাকে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে শ্বাসতন্ত্রে যায় এবং সংক্রমণ শুরু করে।

আক্রান্ত ব্যক্তি নিজ চোখ কচলে যেখানে হাত দেবে সেখানে রয়ে যাবে অসংখ্য করোনা জীবাণু। সেবাদানকারী চিকিৎসক বা সহকারী নিজেরা যেমন রোগীর চোখের পানি দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন আবার করোনা সংক্রমিত চিকিৎসক সহকারী তা ছড়াতেও পারেন।

 

যাদের আশঙ্কা বেশি

করোনাভাইরাস চোখে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে তার কোনো তথ্য এখনো পর্যন্ত আমেরিকান অপথ্যালমোলজি সোসাইটি বা অন্য কোনো সংস্থা বের করতে পারেনি। কিন্তু যারা আগে থেকে বিভিন্ন ধরনের চোখের সমস্যায় ভুগছেন, যেমন : গ্লুকোমা, ইউভিয়াইটিস, রেটিনাইটিস ও রেটিনোপ্যাথি, ভিট্রিয়াল হিমোরেজ ইত্যাদি রোগীর ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো আরো বেড়ে দৃষ্টি ব্যাহত করতে পারে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘমেয়াদি চোখের রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিস, প্রেসার, হার্টের সমস্যা যাদের রয়েছে তাদেরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

 

চোখ থেকে ফুসফুস

চোখে যখন তরল (ধরা যাক আইড্রপ) দেওয়া হয় তখন তার অনেকটা কনজাংটিভা, স্ক্লেরা বা কর্নিয়া গ্রহণ করে। কিন্তু বাকি অনেকটাই নাকের পেছনে গলার ঊর্ধ্বাংশে (ন্যাসোফেরিঞ্জিয়াল ট্র্যাকট) ধাবিত হয়। এ ছাড়া ভাইরাস টিয়ার উৎপাদনকারী ল্যাক্রিমাল নল দিয়েও প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ নিতে পারে। শেষে ট্রাকিয়া হয়ে ফুসফুসে পৌঁছাতে পারে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ঠিক এভাবে চোখ দ্বারা করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটিয়ে ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। 

 

কন্টাক্ট লেন্সে ঝুঁকি বেশি

যাঁরা কন্টাক্ট লেন্স পরেন তাঁদের কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কারণ তাঁরা অন্যদের চেয়ে বেশিবার চোখ স্পর্শ করেন।

 

লক্ষণ

শুকনা কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি চোখ সংক্রমিত হলে যেসব লক্ষণ প্রকাশ পায় তা হলো :

♦ চোখের মিউকাস পর্দার প্রদাহ বা কনজাংটিভাইটিস।

♦ চোখ লাল বা গোলাপি বর্ণ ধারণ করা।

♦ চোখ লাল হয়ে পানি ঝরা এবং চোখ চুলকানো।

 

তবে ইউভিয়াইটিস, রেটিনাইটিস ও গ্লুকোমার মতো জটিল সমস্যাগুলোও হচ্ছে কি না তা এখনো পর্যন্ত গবেষণাধীন।

 

করণীয়

♦ কন্টাক্ট লেন্স যাঁরা পরেন তাঁরা যেন হাত বেশি বেশি পরিষ্কার রাখেন। লেন্স খোলা বা পরার সময় অবশ্যই হাত জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।

♦ যেকোনো উপায়ে হাত যেন চোখে-মুখে না যায় সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। নিতান্তই চোখে হাত দিতে হলে টিস্যু পেপার ব্যবহার করা।

♦ বাইরে বের হলে মাস্ক ও চোখ ঢাকে এ রকম গগলস (চশমা) পরা।

♦ বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা বা সাবান দিয়ে গোসল করা, কাপড়চোপড় কেচে ফেলা।

♦ বারবার ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে সর্বনিম্ন ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া।

♦ স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে নিশ্চিত বা সন্দেহজনক রোগী ব্যবস্থাপনার সময় ফেস শিল্ড ব্যবহার করা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা