kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

গর্ভকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি

ডা. নাদিরা হক, সিনিয়র কনসালট্যান্ট. স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, ঢাকা

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গর্ভকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি

করোনা মহামারির কারণে গর্ভবতী নারী ও তাঁদের গর্ভস্থ শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা নিয়ে মায়েদের উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বেড়েই চলেছে বিশ্বব্যাপী। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের রয়াল কলেজের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞরা, যুক্তরাষ্ট্রের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা সংগঠন ও ফিটোম্যাটারন্যাল সোসাইটি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন পৃথক পৃথকভাবে গর্ভবতী নারীদের করোনাভাইরাসের ঝুঁকি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কিছু দিকনির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

 

গর্ভবতীদের ঝুঁকি

চীনে গর্ভবতী নারীদের ওপর এক গবেষণায় দেখা যায়, করোনা আক্রান্ত গর্ভবতী নারীরা বেশির ভাগই তাঁদের দেহে মৃদু ফ্লু-জাতীয় লক্ষণ অনুভব করেছেন। তবে যাঁদের গর্ভাবস্থায় অন্যান্য জটিলতা ছিল যেমন—ডায়াবেটিস, হৃদেরাগ, শ্বাসকষ্ট, কিডনি রোগ, তাঁরা কভিড-১৯ আক্রান্ত হলে তাঁদের দেহে নিউমোনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংক্রমণ দেখা দেয়। গর্ভবতীদের অন্যান্য ঝুঁকি হলো—

♦ গর্ভাবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বলে এ সময় স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো ভাইরাল ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

♦ গর্ভাবস্থার শুরুতে জ্বর থাকলে গঠনগত জন্মগত ত্রুটি হতে পারে এবং অন্যান্য ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহের জন্য অপরিণত শিশু ও কম ওজনের শিশু জন্মদান হতে পারে।

♦ গর্ভস্থ শিশুর সংক্রমণ না ঘটলেও জন্মের পর মায়ের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে নবজাতক সংক্রমিত হতে পারে।

 

লক্ষণ 

♦ সাধারণ সর্দি ও ফ্লু, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা। এগুলো ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে দেখা দিতে পারে।

♦ হালকা থেকে মাঝারি লক্ষণগুলো হলো—কাশি, জ্বর।

♦ গুরুতর লক্ষণ হলো গুরুতর শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, অন্যান্য ঠাণ্ডা/ফ্লু-জাতীয় লক্ষণ, নিউমোনিয়া ও চিহ্নিত হাইপোক্সিয়া।

 

প্রতিরোধে করণীয়

♦ গর্ভবতী মায়েরা সুস্বাস্থ্যের জন্য চেষ্টা চালাবেন। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন।

♦ তাঁরা অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। প্রয়োজনে বাড়িতে বসে কর্মস্থলের কাজ সম্পাদন করবেন।

♦ গর্ভকালীন দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাসে এবং যাঁদের অন্যান্য জটিলতা রয়েছে তাঁদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

♦ কর্মক্ষেত্রে এবং ঘরে ফিরে বারবার সাবান ও পানি বা অ্যালকোহলযুক্ত সামগ্রী দিয়ে হাত ধোবেন।

♦ বিশেষ প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে মুখে মাস্ক ব্যবহার করবেন।

♦ গণপরিবহন যথাসম্ভব এড়িয়ে চলবেন।

♦ ভ্রমণ, গণজমায়েত, জনসমাগম, বিয়ে ও অন্যান্য পারিবারিক মিলনমেলা এড়িয়ে চলবেন।

♦ কাশি, ঠাণ্ডা, জ্বরের লক্ষণ আছে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলবেন।

♦ হাঁচি-কাশির সময় নাকে-মুখে টিস্যু ব্যবহার করবেন। সম্ভব হলে কনুইয়ের ভাঁজে হাঁচি-কাশি দেবেন।

♦ যত দূর সম্ভব চোখ, নাক এবং মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকবেন।

♦ সরাসরি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না গিয়ে প্রয়োজনে টেলিফোনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।

♦ ডিজিটাল মেশিনে নিয়মিত ওজন ও রক্তচাপ পরিমাপ, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নির্ধারণ ও গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়ার উপলব্ধি পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে নিয়মিত আাালট্রাসনোগ্রাফি করার সময়ের কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারেন। 

 

লক্ষণ দেখা দিলে যা করবেন

যদি কোনো গর্ভবতী মায়ের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যায়, তবে তাত্ক্ষণিকভাবে তাঁকে প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) অথবা প্রদত্ত জরুরি মোবাইল নম্বরে কল করে সমস্যার কথা জানাতে হবে যেন তারা গর্ভবতী নারীর নমুনা সংগ্রহ করতে পারে।

করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে গর্ভবতী নারীদের আইসোলেশন অর্থাৎ সবার থেকে আলাদা হয়ে পরবর্তী ১৪ দিন পর্যন্ত বাসায় আবদ্ধ থেকে কারো সংস্পর্শে না যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই সময় অতিক্রান্ত হলে নিয়মিত মাতৃত্বকালীন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা