kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তর দিয়েছেন : অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ
বিভাগীয় প্রধান, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
অধ্যক্ষ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা

সর্দি, হাঁচি-কাশি হলেই কি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে?

না। সাধারণ সর্দি, কাশি এমনিতেই হতে পারে। করোনাভাইরাস কোনো একক ভাইরাস নয়; বরং দুই হাজারের একটি গোষ্ঠীবদ্ধ পরিবার। সাধারণ সর্দি, কাশি, হাঁচি থেকে শুরু করে প্রাণঘাতী সার্স, মার্স ইত্যাদি ভাইরাস এ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। তবে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর সংস্পর্শ ছাড়া এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম।

 

করোনাভাইরাস কেন এত মারাত্মক?

গত ডিসেম্বরে চীনের উহানে শনাক্ত হওয়া নভেল করোনাভাইরাসটি নতুন এবং প্রাণঘাতী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এরই মধ্যে এ ব্যাপারে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এই ভাইরাসের চরিত্র ‘দুর্বোধ্য’। সংক্রমিত কোনো মানুষ কয়েক দিন পর্যন্ত কোনো ধরনের উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। এ ভাইরাসগোষ্ঠীর কিছু সদস্য সহজেই ছড়িয়ে পড়ে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে, আবার কিছু ভাইরাস এমনও আছে যেগুলো ছড়ায় না। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর হার মোট আক্রান্তের প্রায় ২ শতাংশ।

 

কতটা ছোঁয়াচে এই করোনাভাইরাস?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, করোনার বেসিক রিপ্রডাকশন নাম্বারের ব্যাপ্তি হলো ১.৪ থেকে ২.৫, যার মানে এটি সার্সের মতোই এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার চেয়ে বেশি ছোঁয়াচে। তবে এখন পর্যন্ত সংক্রমণের মাত্রা এবং মৃত্যুর হার অপেক্ষাকৃত মৃদু বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বেইজিংয়ের চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের একটি দল বলছে, এ সংখ্যা হওয়া উচিত ৪.০৮।

 

নতুন ভাইরাসের ক্ষেত্রে বরাবরই আতঙ্ক কেন?

পৃথিবীতে যখন নতুন ধরনের কোনো ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে, তখন ওই ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের দেহে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠতে বা ‘ইমিউনিটি সিস্টেম ডেভেলপ করতে কিছুটা সময় লাগে। কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি বা টিকা আবিষ্কার হতেও সময় লাগে। নভেল করোনার বেলায়ও তা-ই। ফলে আশঙ্কা থাকে জটিল ধরনের মহামারির, যেমনটি হয়েছিল মার্স কিংবা সার্সের ক্ষেত্রে।

 

জটিলতা কিভাবে তৈরি হয়?

গবেষণা বলছে, নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ প্রথমে হানা দেয় দেহের লোয়ার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্টে। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়ার উপসর্গ, যেমন—শ্বাসকষ্ট, কাশি, কফ জমা ইত্যাদি। এ ছাড়া অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস সিনড্রম, সেপ্টিক শক, রেসপিরেটরি ফেইলিওর এবং অন্যান্য অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

 

করোনাভাইরাসে কারো সংক্রমণ হলেই কি মৃত্যু ঘটবে?

নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ ভাইরাস সমষ্টির একটি নতুন রূপ। এটির বিরুদ্ধে এখনো কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, নানা উপসর্গের চিকিৎসা সম্ভব। এ জন্য কিছু সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়। আর এই চিকিৎসা হয় আইসোলেটেড পদ্ধতিতে এবং আক্রান্তের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে। তবে আক্রান্ত হলেই যে মারা যাবে তা নয়। এবার চীনে আক্রান্তদের বেশির ভাগই চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছে।

 

আমাদের তাহলে ভয়টা কিসের?

মনে প্রশ্ন আসতে পারে, করোনাভাইরাস তো বাংলাদেশের সমস্যা নয়। তাহলে এত ভয় কেন? কিন্তু এটা আশঙ্কার বিষয় যে চীনে শনাক্ত হওয়া সাম্প্রতিক করোনাভাইরাস এরই মধ্যে দুই ডজনের বেশি দেশে ছড়িয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের যোগাযোগ বেশ ভালো। প্রতিদিন অনেক মানুষের যাতায়াত চলছে। কিন্তু কার মধ্যে করোনাভাইরাসের জীবাণু রয়েছে তা কিন্তু কেউ জানে না। তাই এটা আশঙ্কা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে বাংলাদেশের মানুষও এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। এ জন্যই মূলত সবার সতর্কতা গ্রহণ করা উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা