kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

করোনাভাইরাস ও সতর্কতা

বর্তমানে এক আতঙ্ক করোনাভাইরাস। কিন্তু কী এই করোনাভাইরাস? এই মুহূর্তে করণীয়ই বা কী। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বৈজ্ঞানিক গবেষক অধ্যাপক ডা. শরীফুল আলম জিলানী

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস ও সতর্কতা

চীনের ইউহানের একটি বাজার থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে

করোনাভাইরাস কী

ভাইরাসের অনেক গোত্রের মধ্যে করোনাভিরিডি পরিবারভুক্ত একটি ভাইরাস হলো এই করোনাভাইরাস যা সাধারণত সর্দি-জ্বর কাশি সৃষ্টি করে। চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী ইউহানের একটি বাজার থেকে এ বছরের ৭ জানুয়ারি নতুন এক প্রজাতির করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। যার নাম দেওয়া হয়েছে 2019-nCOV ev  wuhan CORONA virus ।World Health Organization (WHO)-এর মতে, নতুন প্রজাতির এই ভাইরাস, সাধারণ সর্দি-কাশি জ্বর থেকে শুরু করে শ্বাসনালি ও ফুসফুসে মারাত্মক প্রদাহ তৈরি করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

 

লক্ষণ ও উপসর্গ

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম ১০ থেকে ১৪ দিন রোগী উপসর্গহীন থাকে। যাকে আমরা বলি ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড। তারপর কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

যেমন : জ্বর ঠাণ্ডা-সর্দি প্রচণ্ড কাশি শ্বাসকষ্ট

জটিলতা

নিউমোনিয়া একিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম

 বমি ডায়রিয়া কিডনি ও লিভার ফেইলিওর এমনকি মৃত্যু

জটিলতা ছাড়াই এই রোগ ভালো হয়ে যেতে পারে। তবে জটিলতা থেকে মৃত্যুর সম্ভাবনাও বিদ্যমান। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

 

প্রতিরোধে করণীয়

ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো এই ভাইরাস সাধারণত প্রাণী থেকে মানুষ বা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। যেহেতু এই ভাইরাসের প্রতিকার নেই তাই প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা।

►        বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। বিশেষ করে বাইরে থেকে এলে বা রোগীর সংস্পর্শে এলে।

►       অযথা চোখ, মুখ, নাক, হাত দিয়ে না ঘষা।

►        বাইরে বের হলে ফেস মাস্ক পরে বের হওয়া।

►       আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরুত্বে থাকা।

►        হাঁস-মুরগি বা অন্য যেকোনো প্রাণী, বিশেষ করে যদি  রোগাক্রান্ত হয়, তাহলে দূরে থাকা।

►        প্রাণীর সংস্পর্শে এলে, পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।

 

পরিসংখ্যান যা বলে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এখনো পর্যন্ত ৮১ জনের মৃত্যু এবং প্রায় আড়াই হাজারের বেশি আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও শুধু চীনের উহানে এই ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সমগ্র চীনে তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। চীনে যাওয়া বা চীন থেকে আসা জনগণের কারণে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, আমেরিকাসহ নর্থ আমেরিকার অন্যান্য দেশেও এই ভাইরাস দ্বারা অনেকে সংক্রমিত হয়েছে এবং হচ্ছে। বাড়ছে সংক্রমিত দেশ ও মানুষের সংখ্যা। সে হিসেবে বাংলাদেশও ঝুঁকিতে আছে।

 

WHO এর বক্তব্য

২০০২ সালে বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশে ভাইরাসজনিত রোগ সার্স (SARS) ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৮১৩ জনের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত হয় প্রায় সাড়ে আট হাজার মানুষ। একই রকমভাবে ২০১২ সালে ২৭টি দেশের প্রায় আড়াই হাজার মানুষ আক্রান্ত হয় নতুন আরেক ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ মার্স (MERS) দ্বারা, যেখানে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয়।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশনের (WHO) প্রধান  ট্রেডরস আধানম গ্রেব্রেইস সাম্প্রতিককালে ছড়িয়ে পড়া এই উহান করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বলেছেন, ‘এটা চায়নার জন্য একটি জরুরি অবস্থা। তবে এটাকে মহামারি ঘোষণার সময় এখনো আসেনি।’

 

পরিশেষে

সর্দি-কাশি হলেই যে সেটা উহানের করোনাভাইরাস কেস হবে এমনটি নয়। কারণ এখন সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত সর্দি-জ্বর, ঠাণ্ডা-কাশিপ্রবণ একটি সময়। যেহেতু বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত উহান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এমন কোনো কেস রিপোর্ট হয়নি। তাই এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এই সমস্যা প্রতিকারযোগ্য নয়, তবে প্রতিরোধযোগ্য।

অনুলিখন : ডা. মোস্তাফিজুর রহমান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা