kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

আপনার প্রশ্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

মেডিসিন-বিষয়ক বাছাই প্রশ্ন

পরামর্শ দিয়েছেন
অধ্যাপক ডা. মো. ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী
সাবেক অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মেডিসিন-বিষয়ক বাছাই প্রশ্ন

সমস্যা : আমার বয়স ১৭, উচ্চতা পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। উচ্চ মাধ্যমিক লেভেলে পড়াশোনা করছি। ইদানীং পড়াশোনা করতে বসলেই প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করে। ব্যথাটা মাথার ঠিক মধ্যখানে থাকে। চিকিৎসক দেখিয়ে অনেক ওষুধ খেয়েছি কিন্তু কাজ হচ্ছে না। সামনে পরীক্ষা, তাই বেশ দুশ্চিন্তায় আছি। পরামর্শ দিলে বাধিত হব।

অপি রহমান

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা।

পরামর্শ : পড়ালেখার সময় মাথা ব্যথা করা—এটা চোখের সমস্যার কারণে ঘটে থাকতে পারে। তাই কোনো ধরনের ওষুধ খাবার আগে তুমি একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নাও। চোখের সমস্যা পাওয়া গেলে তার চিকিৎসা করাতে হবে। আর চোখে কোনো সমস্যা না পাওয়া গেলে মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে তাঁরাও পরামর্শ দেবেন।

তোমার মধ্যে একটা কনসাস বা সাব-কনসাস মাইন্ডে কিছু অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগ কাজ করে থাকতে পারে। অ্যাংজাইটিতে দেহের অ্যাকটিভিটিটা একটু বেশি থাকে। এর ফলে মাথা ব্যথা হতে পারে। আপাতত তুমি প্রোপানল-জাতীয় ওষুধ খেতে পারো। সঙ্গে অ্যাংজাইটি রিলিভার হিসেবে ক্রোমাজিপাম বা ডায়জিপাম-জাতীয় কোনো ওষুধ খেতে পারো।

 

সমস্যা : আমার বয়স ৪২। উচ্চতা পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি। আমার আগে ওজন ছিল ৭৪ কেজি। গত ঈদের পর থেকে খেয়াল করছি ওজন বেড়েই চলেছে। এখন ওজন ৭৯ কেজি। কার্বোহাইড্রেট খাবারও বেশি খাওয়া হচ্ছে। পরামর্শ দেবেন আমার কী করণীয়।

নয়ন, সুইহারী, দিনাজপুর।

পরামর্শ : গত দু-তিন মাসে যদি দেখা যায়, হঠাৎ আপনার ওজন পাঁচ-সাত কেজির মতো বেড়ে গেছে, তাহলে পরীক্ষা করে দেখতে হবে অন্য কোনো রোগের কারণে তা হয়েছে কি না। হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণেও অল্প সময়ে ওজন বেড়ে যেতে পারে। এ জন্য রক্তের টিএসএইচ এবং কর্টিসোল পরীক্ষা করে চিকিৎসক দেখাতে পারেন। এতে সমস্যা শনাক্ত না হলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। এখন হয়তো বসা কাজ বেশি হচ্ছে, ডায়েট কন্ট্রোল হয়তো ছেড়ে দিয়েছেন—তখন এসব বিষয়ে নজর দিতে হবে। কায়িক পরিশ্রম বাড়িয়ে দিতে হবে বা ক্যালরি বার্ন করাতে হবে। আপনি ক্যালরিসমৃদ্ধ, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাটজাতীয় খাবার কমিয়ে দিন। প্রতিদিন ৩০-৪০ মিনিট একটু জোরে হাঁটুন, যাতে শরীর থেকে ঘাম বের হয়।

 

সমস্যা : আমার বয়স ৬০, ওজন ৫৫ কেজি। আমার হাত-পা ঝিনঝিন করে, মাথা গরম থাকে, রাতে ঘুমও হয় না ঠিকমতো। আমার জন্য পরামর্শ দেবেন।

শেফালী বেগম, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা।

পরামর্শ : এসব ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকেই হয়তো উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন কিন্তু তিনি নিজেও জানেন না। তাই রক্তচাপ মেপে দেখুন এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। উচ্চ রক্তচাপ কোনো সাধারণ রোগ নয়। এটি কিন্তু নীরব ঘাতক। উচ্চ রক্তচাপের ৫০ শতাংশ রোগীর কোনো অভিযোগ থাকে না কিন্তু রক্তচাপ মাপলে দেখা যাবে তাঁরা রক্তচাপে ভুগছেন। এভাবে উচ্চ রক্তচাপ থাকায় অনবরত রক্তনালির কিন্তু ক্ষতি হয়েই যাচ্ছে। সুতরাং ট্রিটমেন্ট নিতে হবে এবং সেটা ওষুধের দ্বারা অথবা জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমেও হতে পারে। মোট কথা যেকোনোভাবেই হোক উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

 

সমস্যা : আমার বয়স ৬৫, ওজন ৬১ কেজি। আমি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের রোগী। এসবের ওষুধও নিয়মিত খাচ্ছি। খেয়াল করছি, ইদানীং আমার রক্তচাপ বেশ নিয়ন্ত্রণে আছে। আমি কি এখন রক্তচাপের ওষুধ নিয়মিত চালিয়ে যাব, নাকি বন্ধ করে দেব?

আনোয়ারা, আকুয়া উত্তরপাড়া, ময়মনসিংহ।

পরামর্শ : রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে মানে হলো ওষুধ খেয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আছে। এখন ওষুধ ছেড়ে দিলে দেখা যাবে আস্তে আস্তে রক্তচাপ আবারও বেড়ে যাচ্ছে। তাই এ অবস্থায় কখনো ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। বিশেষ করে বিটা ব্লকারজাতীয় ওষুধ হুট করে বন্ধ করা যায় না। আপনি রক্তচাপ নিয়মিত চেক আপে রেখে ওষুধের ডোজটা কিছু সময়ের জন্য কমিয়ে দিতে পারেন। যদি দুটি ওষুধ খেতে হয় সে ক্ষেত্রে একটি খেতে পারেন। যদি একটি খান, তাহলে অর্ধেক খেতে পারেন। কিন্তু ওষুধ বাদ দেওয়া যাবে না।

 

সমস্যা : আমার বয়স ৪৫। উচ্চতা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি, ওজন ৭৫ কেজি। ইদানীং আমার রাতের বেলায় ভালো ঘুম হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, রাত ৩টার পর ঘুম আসছে এবং সকাল ১১টা পর্যন্ত ঘুম ভাঙছে না। আমার অবশ্য নেটে আসক্তি আছে এবং ফেসবুক, ইউটিউবে অনেক রাত পর্যন্ত সময় কাটিয়ে দিই। এ ধরনের ঘুমের ক্ষেত্রে শারীরিক কোনো জটিলতা হচ্ছে কি না?

মানিক মিয়া, যশোর।

পরামর্শ : এসব অভ্যাসের ফলে দেহের ভেতর বায়োলজিক্যাল ও হরমোনাল পরিবর্তন আসতে পারে, যা কোনোভাবেই সুখকর নয়। এটা সুস্থ জীবন গঠনেও বাধা। মনে রাখবেন, রাতের বেলা হলো ঘুমানোর সময়। এই সময় বডিমেকিং হরমোন অ্যাড্রিনোকোর্টিকোট্রপিক হরমোন (এসটিএইচ), কর্টিসোল গভীর রাতে ঘুমের সময় শরীরের গ্রন্থি থেকে বেশি পরিমাণে বের হয়। আপনি যদি এই সময় না ঘুমান, তাহলে ওই হরমোন বের হতে বাধা পাবে। তখন শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি দেখা দেবে এবং আপনিও রোগাক্রান্ত হয়ে যাবেন। সুতরাং কাজ যা করবেন তা দিনের বেলায় সেরে নিয়ে রাতটা ঘুমের জন্য বরাদ্দ রাখুন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা