kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘ডেঙ্গুর শুরুতে দরকার সঠিক ব্যবস্থাপনা’

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



‘ডেঙ্গুর শুরুতে দরকার সঠিক ব্যবস্থাপনা’

ডেঙ্গু ভাইরাস কারো দেহে ঢোকার পর দেহের সব সিস্টেমকে অ্যাটাক করে ছবি : লুৎফর রহমান

কালের কণ্ঠ : ডেঙ্গু এনএস১ নেগেটিভ হলেও কি কারো ডেঙ্গু হতে পারে?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : ডেঙ্গু এনএস১ পজিটিভ পেলে আমরা ধরেই নিই, এটা ডেঙ্গু। কিন্তু কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ। এটা নির্ভর করে তিনি এনএস১ পরীক্ষাটা জ্বর আসার কততম দিনে করিয়েছেন। সাধারণত জ্বর শুরু হওয়ার তিন দিন পর্যন্ত এই ভাইরাস রক্তে পজিটিভ থাকে। এরপর স্বাভাবিকভাবেই সেটা নেগেটিভ হয়ে যায়। তখন ওই ভাইরাসের উপস্থিতি রক্তে থাকে না। এ জন্য চতুর্থ দিন বা পঞ্চম দিন এনএস১ পরীক্ষা করালে কোনো লাভ হবে না।

 

কালের কণ্ঠ : ডেঙ্গুর ধরন নির্ণয় করা বা সেরোটাইপ নির্ণয় করা আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? তাতে কি রোগীদের পরবর্তী সময়ে বিশেষ কোনো উপকার হয়?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য এনএস১ পরীক্ষাই যথেষ্ট। এরপর আর সেরোটাইপ নির্ণয়ের অপেক্ষায় থাকার দরকার নেই এবং রোগীর চিকিৎসার জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। এপিডেমিওলজিক্যাল প্যাটার্ন বোঝার জন্য ডেঙ্গুর সেরোটাইপ নির্ণয় করা যেতেই পারে। অর্থাৎ এবার রোগীদের মধ্যে কোন সেরোটাইপ বেশি পাওয়া যাচ্ছে সেটা। রোগতত্ত্ববিদদের প্রয়োজনে অনেক সময় এসব তথ্য হয়তো কাজে লাগে।

 

কালের কণ্ঠ : ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সিবিসি পরীক্ষা কতটা জরুরি? এটা কি ডেঙ্গু শনাক্ত করতে ভূমিকা রাখে?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : যেকোনো ভাইরাসের আক্রমণ হলে সাধারণত রক্তের প্লাটিলেট কাউন্ট কমতে থাকে। শরীর থেকে প্লাটিলেট তৈরি হওয়ায় সেটি পূরণও হয়ে যায়। শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ কমে গেলে তাকে ‘লিউকোপেনিয়া’ বলে। ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে প্লাটিলেট বেশি কমে গেলে রক্তক্ষরণ বা হেমোরেজ হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যায়। প্লাটিলেট গণনা এবং রক্তের ক্ষয়জনিত হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বা রক্তাল্পতা, হেমোটোক্রিট এবং লাল রক্তকণিকার পরিমাণ (আরবিসি) জানতে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) পরীক্ষাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সিবিসির রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা মারাত্মক ডেঙ্গু হচ্ছে কি না সেটা বুঝতে পারেন এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেন। তাই ডেঙ্গু হলে অন্যান্য পরীক্ষার পাশাপাশি এই পরীক্ষাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

 

কালের কণ্ঠ : কারো হালকা জ্বরের সঙ্গে বমি বা পাতলা পায়খানাও হচ্ছে। এমতাবস্থায় কি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : কারো শুধু জ্বর থাকলে এবং পাতলা পায়খানা নেই, বমি নেই, সে মুখে খেতে পারছে—এ রকম হলে হাসপাতালে ভর্তি না হলেও চলবে। বাসায় রেখেই তখন তাকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু জ্বরের সঙ্গে পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা, বমি হলে—অর্থাৎ বিভিন্ন ওয়ার্নিং সাইন দেখা দিলে, হাসপাতালে ভর্তি করাই শ্রেয়। ডেঙ্গুর তিনটি ভাগ। কোনো ওয়ার্নিং সাইন ছাড়াই ডেঙ্গু হয়, আবার ডেঙ্গু উইথ ওয়ার্নিং সাইনও হতে পারে।

 

কালের কণ্ঠ : ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার প্রথম দিনই হাসপাতালে ভর্তি হলো। এরপর তিন দিনের মাথায় সেই রোগী মারা গেছে, এমন বিয়োগান্ত ঘটনাও ঘটেছে এবার। কেন এসব হচ্ছে?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : ডেঙ্গু হওয়ার পর দেহে ইমিউনোলজিক্যাল ম্যাকানিজম কাজ করে। সেই ইমিউনোলজিক্যাল ফ্যাক্টর কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। কারো ক্ষেত্রে বেশি, কারো ক্ষেত্রে কম। এ জন্য দেখা যায়, কিছু রোগী দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে চলে যায়। অনেক সময় দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তির আগে হয়তো সে সঠিক ফ্লুইড পায়নি। আগে থেকেই সঠিক চিকিৎসা ও ব্যবস্থা নিলে হয়তো অতটা খারাপ হতো না। আমাদের হাসপাতালেও দেখেছি, ফ্লুইড রিপ্লেসমেন্টসহ সঠিক ব্যবস্থাপনা দিয়ে অনেক খারাপ রোগীও ভালো হয়ে গেছে। ডেঙ্গু চিকিৎসার ক্ষেত্রে ন্যাশনাল প্রটোকল বা গাইডলাইন রয়েছে, যা মানা উচিত।

 

কালের কণ্ঠ : একজন ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেটের পরিমাণ ঠিক কোন পর্যায়ে নেমে এলে তাকে আশঙ্কাজনক বলা যাবে?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : চিকিৎসকরা এ ব্যাপারটিতে মানুষকে সচেতন করায় এবার এই প্লাটিলেট আতঙ্কটি আমরা অনেক কমিয়ে আনতে পেরেছি। রোগীদের ধারণা, রক্তের প্লাটিলেট কমে গেলেই বোধ হয় প্লাটিলেট দিতে হবে। আসলে কিন্তু তা নয়। ডেঙ্গু হলে প্লাটিলেট কমে, তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে প্লাটিলেট লাগে না। আমরা খেয়াল করি, রোগীর দাঁতের গোড়া দিয়ে, নাক দিয়ে, পায়খানা-প্রস্রাবের সঙ্গে কোনো রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না, নারীদের মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না ইত্যাদি। এ রকম রক্তক্ষরণ থাকলে এবং প্লাটিলেটের মাত্রা কম থাকলে তখনই প্লাটিলেটের বিষয়টি ভাবা হয়। সাধারণত ২০ হাজারের নিচে  নেমে গেলে রিস্ক থাকে বেশি। তবে রক্তক্ষরণ হোক বা না হোক, প্লাটিলেটের পরিমাণ ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলে কিন্তু প্লাটিলেট লাগবে। এটা সবার বেলায় প্রযোজ্য।

 

কালের কণ্ঠ : ইদানীং দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও ডেঙ্গু রোগীর রক্তের প্লাটিলেট বেশ কমে যাচ্ছে। আপনারা ডেঙ্গুর জন্য যে সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট দিচ্ছেন, সেই চিকিৎসায় কি প্লাটিলেটের সমতা বজায় থাকছে?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : প্লাটিলেটের ‘হাফ লাইফ’ আছে। ডেঙ্গু বা অন্য কোনো ভাইরাস ইনফেকশনে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে গেলেও শরীর থেকে আপনা-আপনি প্লাটিলেট তৈরি হয়। প্রথম কয়েক দিন কম প্লাটিলেট নিয়েও রোগী যদি টিকে থাকে, পরবর্তী সময় দেহ থেকেই আপনা-আপনি প্লাটিলেট তৈরি হয় এবং ঘাটতি পূরণ হয়ে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।

 

কালের কণ্ঠ : হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পরও ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু-পরবর্তী সময় আসলে কী কী করা উচিত?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পরও ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে—এ রকম বিষয় আসলে আমার জানা নেই। থাকলেও এবার সে সংখ্যাটা বোধ হয় খুবই কম। রোগীর যদি কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা জ্বর না থাকে, ভাইটাল সাইন—বিশেষ করে তার যদি রক্তচাপ ঠিক থাকে, ইউরিন আউটপুট ঠিক থাকে, সে যদি মুখে খেতে পারে—এ রকম অনেক বিষয় দেখে আমরা হাসপাতাল থেকে রোগীকে ছুটি দিই।

ডেঙ্গুর ন্যাশনাল গাইডলাইনেও এ কথাগুলো বলা আছে যে হাসপাতাল থেকে তাকে কখন রিলিজ দেওয়া যাবে। তা ছাড়া প্রত্যেক জটিল রোগীকে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে ডিসচার্জ ক্রাইটেরিয়া মেইনটেইন করেই রিলিজ দেওয়া হয়। এবার চিকিৎসকদেরও আমরা এসব বিষয়ে বেশ প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই হাসপাতাল থেকে চলে গেলে এমন হতে পারে। আবার বাড়িতে গিয়েও কিছু নিয়ম-কানুন না মানা যেমন : ব্যথার ওষুধ খাওয়া ইত্যাদির কারণেও হয়তো দুর্ঘটনা ঘটেছে।

 

কালের কণ্ঠ : কেউ ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করছে কি না তা জানতে রুটিন টেস্টের মতো ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন বা অ্যান্টিবডি পরীক্ষার দরকার আছে কি না?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : ডেঙ্গুর সিজন আসলে শুরু হয় মে-জুন-জুলাই মাস থেকে। এই সময় থেমে থেমে বৃষ্টি হয় বলে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে এবং ডিম থেকে লার্ভা হয়। এই লার্ভাই বংশবৃদ্ধির কারণ। তবে ডেঙ্গুর অ্যান্টিজেন পরীক্ষা আগেভাগে করে কোনো লাভ নেই। যখনই এই ভাইরাস শরীরে ঢুকবে, তখনই শনাক্ত করা যাবে কারো ডেঙ্গু হয়েছে কি না।

 

কালের কণ্ঠ : অন্য আরো কী কী পরীক্ষা আছে, যা ডেঙ্গু রোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : ডেঙ্গু ভাইরাস কারো দেহে ঢোকার পর দেহের সব সিস্টেমকে অ্যাটাক করে। লিভার আক্রান্ত হয়েছে কি না এ জন্য লিভারের এনজাইম, এসজিপিটি, এএলটি ইত্যাদি, কিডনি ফাংশন দেখার জন্য সিরাম ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি পরীক্ষা করা ভালো। এতে রোগীর প্রগনোসিস বোঝা যায়, যাতে বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় বা সিভিয়ার ডেঙ্গু ঠেকানো যায়।

 

কালের কণ্ঠ : কারো এনএস১ পরীক্ষায় ডেঙ্গু নেগেটিভ পাওয়া গেল। কিন্তু আইজিজি, আইজিএম পজিটিভ পাওয়া গেল—সে ক্ষেত্রে কী বোঝায়?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : এটাকে আমরা ডেঙ্গুই বলব। কিন্তু এনএস১ পরীক্ষাটা কোন দিন করা হয়েছে, সেটা আগে দেখতে হবে। তা ছাড়া সব ল্যাবের রিপোর্টও কিন্তু এক নয়। আইজিএম পজিটিভ থাকা মানে বোঝায়, একুইট ইনফেকশন বা এবারের ডেঙ্গুতে সে আক্রান্ত হয়েছে। আর আইজিজি হলো প্রিভিয়াস ডেঙ্গু বা আগে তার কখনো ডেঙ্গু হয়েছিল।

 

কালের কণ্ঠ : ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার কত দিন পর রক্তদান করা যাবে?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : ডেঙ্গু হওয়ার পর কারো রক্তদানের স্পেসিফিক কোনো সময় বেঁধে দেওয়া নেই। আরো নিশ্চিত হতে চাইলে ডিএনএ টেস্ট করে তার রিপোর্ট নেগেটিভ হলে রক্ত দিতে পারবে। কিন্তু এই পরীক্ষাটি বেশ ব্যয়বহুল।

রক্তে ভাইরাসটা বেশিদিন থাকে না। ওই যে আমরা বলি, এক থেকে তিন দিন। এরপর সে জায়গামতো চলে যায় আর কি। রক্তনালির বিভিন্ন টিস্যুতে গিয়ে ব্লাড ভেসেলগুলোকে, প্লাটিলেটকে ড্যামেজ করতে পারে, লিভারে সমস্যা করতে পারে ইত্যাদি। আইজিএম সাধারণত চার থেকে ছয় সপ্তাহ এবং আইজিজি কয়েক বছর পর্যন্ত দেহে থাকতে পারে।

 

কালের কণ্ঠ : জ্বর সেরে যাওয়ার পরও কি মাঝে মাঝে রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজন আছে?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : সব রোগীর ক্ষেত্রে এটা অবশ্য লাগে না। রোগীরা যখন বেশ স্বাভাবিক হয়, তখনই আমরা ছুটি দিয়ে দিই। কিছু রোগী আছে, যাদের অন্য সমস্যা থাকে, তাদের অল্পতেই সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় তাদের পুরোপুরি সুস্থ করে হাসপাতাল থেকে ছাড়া যায় না। হয়তো বা তারা নিজেরাও ছুটি নিয়ে যেতে চায়। এ ধরনের কিছু রোগীর বেলায় পরামর্শ হলো, ডেঙ্গুর জন্য কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার নোই। কিন্তু অন্য কোনো সমস্যা, বিশেষ করে কিডনি, লিভার, হার্ট ডিজিজ ইত্যাদি থাকলে সেগুলোর রুটিন চেক আপ করিয়ে চিকিৎসককে দেখাতে পারেন।

 

কালের কণ্ঠ : ডেঙ্গুর চিকিৎসা মেডিসিন, রক্তরোগ, হৃদরোগ, লিভার, কিডনি বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি চিকিৎসকদের কি সমন্বিতভাবে হওয়া দরকার?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : বেশির ভাগ ডেঙ্গু রোগীকে মেডিসিনের চিকিৎসকরা এবং শিশুদের জন্য শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসা দেন। কিন্তু কিছু রোগী আছে, যাদের চিকিৎসাটা সমন্বিত হওয়া লাগে। এটা অবশ্য রোগীর কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করে। যেমন—গর্ভবতী নারী, হার্টের রোগী, এনকেফালাইটিস ইত্যাদির ক্ষেত্রে সমন্বিত চিকিৎসা দরকার হয়।

 

কালের কণ্ঠ : বিশ্বে প্রথমবারের মতো গত ১ মে ডেংভেক্সিয়া নামে ডেঙ্গুর একটি ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। এর গুরুত্ব কতটুকু?

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : ডেঙ্গুর জন্য এখন ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে এবং বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা ফলাফল নাকি ভালোই পাচ্ছে। তবে ভ্যাকসিনটা দেওয়ার আগে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। যেসব রোগীর ডেঙ্গু ইনফেকশন হয়েছে, ওই সময় যদি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, তাহলে তা কিন্তু সিভিয়ার ডেঙ্গুতে পরিণত হতে পারে। এটা দেওয়ার আগে পরীক্ষা করে নিতে হবে যে কারো ডেঙ্গু ইনফেকশন আছে কি না। ইনফেকশন থাকলে দেওয়া যাবে না। তবে এই ভ্যাকসিনটা যাদের একবার ডেঙ্গু হয়েছে অথবা যাদের হয়নি, তাদের দেওয়া যায়। 

 

কালের কণ্ঠ : এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি। আপনার এ বিষয়ে সার্বিক অভিজ্ঞতা বলুন।

ডা. এ এইচ এম ফিরোজ : ডেঙ্গু আগেও ছিল, তবে এবারের প্রকোপ অনেক বেশি। এবার সমন্বিতভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং অন্যান্য দেশের চেয়ে এ দেশে মৃত্যুহার অনেক কম। এ ব্যাপারে চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগের সবার বেশ প্রচেষ্টা ছিল। ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য আমাদেরও ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল। অতিরিক্ত চিকিৎসক, নার্স এনে খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতিও সামলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক। তবে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশামুক্ত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

সাক্ষাৎকার : আতাউর রহমান কাবুল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা