kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

রোজকার ভুল

হূদরোগ এবং এর চিকিৎসা নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে মানুষের মধ্যে। অথচ এসবের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এমন কিছু ভুল ব্যাপারে সঠিক ধারণা দিয়েছেন ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের চিফ কার্ডিয়াক সার্জন ডা. লুৎফর রহমান

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোজকার ভুল

ভুল : করোনারি এনজিওগ্রাম মানে বড় কোনো অপারেশন।

অনেকের মনে এই ভয় থাকে যে করোনারি এনজিওগ্রাম (সিএজি) হয়তো বা বড় ধরনের কোনো অপারেশন। ফলে তাদের হার্টে সমস্যা অনুভূত হলেও এনজিওগ্রাম করাতে চায় না। আসলে ধারণাটা সত্য নয়।

এনজিওগ্রাম যখন করানো হয় তখন একটা স্যালাইন দেওয়া হয় কোমরের রক্তনালি বা রেডিয়াল আর্টারিতে। এরপর ছোট একটা ডাই ইঞ্জেকশন দিয়ে হার্টের এক্স-রে করা হয়। স্যালাইন যেভাবে দেওয়া হয় ঠিক সেভাবে ক্যাথেটারের মাধ্যমে হার্টের রক্তনালিতে এই ডাই ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করা হয়। এতে হার্টের রক্তনালির শিরা-উপশিরাগুলো কী অবস্থায় আছে, বিশেষ করে কোথাও ব্লক বা বাধা পাচ্ছে কি না, তা জানা যায়। যদি ব্লক পাওয়া যায় তাত্ক্ষণিকভাবে স্টেন্ট বা রিং পরিয়ে সেই ব্লকটাকে সরিয়েও দেওয়া যায়। এনজিওগ্রাম করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। এর জন্য রোগীকে পুরোপুরি অজ্ঞান করতেও হয় না। লোকাল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়, রোগী সজাগ থাকে এবং কোনো ধরনের ব্যথা অনুভব করে না।

তাই এনজিওগ্রামে ভয়ের কিছু নেই এবং যেকোনো বয়সেই তা করা যায়। অভিজ্ঞ হাতে বা অভিজ্ঞ সেন্টারে এনজিওগ্রাম করলে এর কোনো ঝুঁকিও নেই।

 

ভুল : বাইপাস সার্জারির পর কর্মক্ষমতা কমে যায়।

এনজিওগ্রাম করার পর কারো রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়লে এবং অন্য কোনো চিকিৎসা কার্যকর মনে না হলে সাধারণত তখনই আমরা বাইপাস সার্জারি করি। কিন্তু অনেকে মনে করে, বাইপাস সার্জারি করালে পরবর্তী সময়ে বেশি কর্মক্ষম থাকা যায় না। তাই বাইপাস সার্জারি করাতেও তারা তেমন আগ্রহ দেখায় না। তাদের ধারণা, এনজিওপ্লাস্টি করালে, স্টেন্ট বা রিং লাগালে সে বাইপাস সার্জারি করা রোগীর চেয়ে  বেশি কর্মক্ষম বা শক্তিশালী থাকবে। আসলে এটা অত্যন্ত ভুল বা ভ্রান্ত একটা ধারণা।

বাইপাস সার্জারি বা রিং লাগানোর সঙ্গে শরীরের কর্মক্ষমতার কোনো সম্পর্ক নেই। রোগীর দরকার মূলত হূিপণ্ডে রক্ত চলাচল করা। হার্টের পুরনো ব্লকটাকে রিপিয়ার করা বা স্টেন্টিং করা হবে, নাকি বাইপাস করে রক্ত চলাচলের নতুন একটা রাস্তা তৈরি করা হবে—এর সঙ্গে কর্মক্ষমতার কোনো সম্পর্ক নেই। পুরনো সেতু দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল করানো যায়; কিন্তু নতুন বাইপাস রাস্তা করে দিলে ভারী যানবাহনও চলাচল করতে পারবে। হার্টের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমন। বাইপাস সার্জারি করলে বরং হার্টে পুরোদমেই রক্ত চলাচল করতে পারে বা পাম্প করতে পারবে। তাই তার কর্মশক্তি কমে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

 

ভুল : চিকিৎসার পর নিয়ম মানার দরকার নেই।

এনজিওপ্লাস্টি বা রিং পরানো এবং বাইপাস সার্জারির পরবর্তী জীবনে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করে কিছু নিয়ম-কানুনের মধ্যে চলতে হয়। অথচ অনেকে মনে করে, যেহেতু তার রিং লাগানো বা বাইপাস সার্জারি হয়েছে, তাই আগের মতোই জীবনধারণ করা যাবে। এমনটি হলে তা হবে ভুল।

বরং হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সে যেভাবে সাবধানতা অবলম্বন করত, ঠিক একই নিয়মে তাকে চলা উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ওষুধ নিয়মিত খেতে হবে এবং কিছু সাধারণ বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে। রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিশেষ করে ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্যসম্মত ও চর্বিমুক্ত খাদ্যাভ্যাস, কম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ, অবিসিটি নিয়ন্ত্রণ, প্রতিদিন আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা ব্যায়াম, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, টেনশনযুক্ত জীবন পরিহার অন্যতম। শুধু সার্জারি-পরবর্তী নয়, বরং একজন মানুষকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলেও এসব নিয়ম-কানুন মেনে চলা উচিত। যদি না করে, তবে ওই বাইপাস করা রক্তনালিও ব্লকড হয়ে যেতে পারে।

মন্তব্য