kalerkantho

ঘুম না হলেই ঘুমের ওষুধ নয়

ডা. রাজিবুল ইসলাম   

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুম না হলেই  ঘুমের ওষুধ নয়

অনেকের ঘুম কম হওয়া বা না হওয়ার সমস্যা থাকে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই হরহামেশা খেয়ে যেতে থাকেন ঘুমের ওষুধ। কিন্তু প্রতিনিয়ত ঘুমের ওষুধ খেতে থাকলে হতে পারে মারাত্মক বিপদ।

            কমবেশি সব ঘুমের ওষুধেই নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে তোলা তার মধ্যে অন্যতম। ঘুমের ওষুধের প্রভাব সরাসরি থ্যালামাসে পড়ে। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুকে নিস্তেজ করে। ঘুম আনার এই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন অনুসরণ করলে স্মৃতিশক্তিরও সমস্যা হতে পারে।

            দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের ওষুধে অভ্যস্তদের শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা কমে যায়। শুধু তা-ই নয়, এ অভ্যাস ক্লান্তি ও অবসাদ ডেকে আনে।

            কারো হাড়ের সমস্যা থাকলে ঘুমের ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। এটি স্নায়ুর সমস্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্যালসিয়াম কমিয়ে হাড়কেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

            প্রতিদিন ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস সরাসরি ক্ষতি করে হার্টের। এতে হূত্স্পন্দনের গতি কমে যায়। পাশাপাশি হার্টের কপাটিকাগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।

            ঘুমের ওষুধের অন্যতম কাজ হলো প্রতিদিন স্নায়ুর কার্যকারিতাকে শিথিল করে ঘুম নিয়ে আসা। তবে কেউ যদি দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের ওষুধ খেয়েই যেতে থাকে, তবে নানা স্নায়বিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

            একবারে বেশি ঘুমের ওষুধ খাওয়া হলে তা লিভার ও কিডনির গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। আর দীর্ঘদিনের অভ্যাস খুব ধীরে ক্ষতি করবে।

            ঘুমের ওষুধ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে দুর্বল করে হ্যালুসিনেশন এবং বিভ্রান্তির মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।

            অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করলে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, মাথার যন্ত্রণা বাড়াতে পারে।

            গর্ভবতী মায়েদের মাত্রারিক্ত ঘুমের ওষুধ সন্তানকে বিকলাঙ্গ করতে পারে।

            দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করলে এর প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। পরে গ্রহণ না করতে চাইলে উইথড্রল সিমটম দেখা যায়। তখন অস্থিরতা ও অনিদ্রা থেকে খিঁচুনিসহ মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

করণীয়

ঘুমের ট্যাবলেট সাময়িকভাবে নেওয়া যেতে পারে; কিন্তু স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। ওষুধ দিয়ে লক্ষণটা কমানো যায়; কিন্তু অনিদ্রার আসল কারণ দূর করা যায় না।

মনে রাখতে হবে, ঘুম কেড়ে নেওয়ার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—অস্থিরতা বা অকারণে এলোমেলো চিন্তা করা, স্ট্রেস, শারীরিক বা মানসিক চাপ এবং বাস্তব কিছু সমস্যা। তাই মনকে শান্ত আর হাসিখুশি রেখে এ সমস্যাগুলো সমাধান করে এড়িয়ে চলুন ঘুমের ওষুধ। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। 

 

লেখক : মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

মন্তব্য