kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নবজাতকের যত্ন

অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবজাতকের যত্ন

পাঁচ বছরের কম বয়সী যত শিশু মারা যায়, তার মধ্যে ৬১ শতাংশই মারা যায় জন্মের প্রথম মাসে এবং মোট নবজাতকের মৃত্যুর অর্ধেকই ঘটে জন্মের প্রথম দিনে। এর বড় কারণ নবজাতকের যথাযথ যত্ন না নেওয়া। তাই এ ব্যাপারে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

 

নিরাপদ প্রসবের জন্য

❏ নিরাপদ ও পরিষ্কারভাবে নাড়ি বাঁধা ও কাটার জন্য চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া উচিত।

❏ শ্বাস-প্রশ্বাস যাচাই এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

❏ জন্মের পর বারবার স্পর্শের মাধ্যমে উদ্দীপ্ত করা উচিত। এতে স্নায়ুতন্ত্র ঠিক থাকে, স্লিপ এপনিয়াসহ মারাত্মক কিছু অসুখ থেকে রক্ষা পায়।

❏ কম ওজন এবং অপরিণত নবজাতকের বিশেষ বাড়তি যত্ন নেওয়া দরকার।

 

নাড়ির সঠিক যত্ন

জীবাণুমুক্ত ব্লেড দিয়ে নাড়ি বাঁধা ও কাটার পরপরই নাভির কাটা অংশে ৭.১% ক্লোরোহেক্সিডিন দ্রবণ লাগাতে হবে। নাড়ি বাঁধতেও হবে জীবাণুমুক্ত সুতা দিয়ে। পরবর্তী সময়ে নাভি উন্মুক্ত রাখতে হবে আর কোনো কিছুই লাগানো ঠিক হবে না।

 

সঠিক তাপমাত্রায় রাখা

❏ জন্মের পরপরই নবজাতকের তাপমাত্রা কমে যায় বলে তাকে উষ্ণ রাখা প্রয়োজন। এ জন্য জন্মের পরপরই পরিষ্কার ও শুকনো নরম সুতি কাপড় দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নবজাতকের শরীর মুছে শুষ্ক করতে হবে, ভেজা কাপড়টা সরিয়ে আরেকটি পরিষ্কার শুকনো কাপড় বা কম্বল দিয়ে মা ও শিশুকে ঢেকে দিতে হবে। মাথা টুপি বা কাপড় দিয়ে ঢেকে তাকে মায়ের বুকের ত্বকের সংস্পর্শে রাখতে হবে।

❏ জন্মের পর তিন দিন পর্যন্ত গোসল না করানোই ভালো। অনেকেই ভুল করে গোসল করিয়ে নিউমোনিয়াসহ নানা অসুখবিসুখ ডেকে আনেন।

 

বুকের দুধ খাওয়ানো

❏ জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই নবজাতককে মায়ের বুকের শালদুধ খাওয়াতে হবে। শালদুধে অধিক পরিমাণে অ্যান্টিবডি থাকে, যা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

❏ শিশুকে ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। অন্য কোনো খাবার, এমনকি এক ফোঁটা পানি খাওয়ানোরও প্রয়োজন নেই।

 

কিছু বিপদচিহ্ন

জন্মের প্রথম ২৮ দিন পর্যন্ত কিছু শারীরিক সমস্যা বা অসুস্থতায় নবজাতকের খুব বেশি মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। এগুলো হচ্ছে—

❏ মায়ের দুধ খেতে না পারা বা না চোষা।

❏ খিঁচুনি।

❏ শান্ত অবস্থায় দ্রুত শ্বাস নেওয়া (মিনিটে ৬০ বার বা তার চেয়ে বেশি)।

❏ বুকের খাঁচার নিচের অংশ মারাত্মকভাবে দেবে যাওয়া।

❏ শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া বা জ্বর (৩৭.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কম)।

❏ নেতিয়ে পড়া বা স্বাভাবিকের চেয়ে কম নড়াচড়া করা (উদ্দীপ্ত করা ছাড়া শিশু নড়াচড়া করে না অথবা একেবারেই নড়াচড়া করে না)।

❏ নাভি পাকা ও চারপাশ লাল বর্ণ ধারণ ইত্যাদি

 

করণীয়

❏ নবজাতকের উল্লিখিত যেকোনো একটি বিপদচিহ্ন থাকলে চিকিৎসার জন্য দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।

❏ ২০০০ গ্রামের কম জন্ম-ওজনের নবজাতককে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

 

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা