kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

আল-হাদিস

মুসলমানদের অধিকার

   

৯ মে, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুজনের মাঝে অনুমতিবিহীন বসা : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, দুই ব্যক্তির মাঝখানে তাদের অনুমতি ছাড়া যেন বসা না হয়। (আবু দাউদ)

মেহমানের ইজ্জত করা : হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও আখিরাতের দিনের ওপর ইমান রাখে, তার উচিত যেন আপন মেহমানের একরাম করে। তিনি এ কথা তিনবার ইরশাদ করলেন। এক ব্যক্তি আরজ করল, ইয়া রাসুল্লাল্লাহ, মেহমানের একরাম কী? তিনি ইরশাদ করলেন, (মেহমানের একরাম) তিনদিন। তিনদিন পর যদি মেহমান থাকে তবে মেহমানকে খাওয়ানো মেজবানের পক্ষ থেকে এহসান (অনুগ্রহ) হবে। অর্থাৎ তিনদিন পর খানা না খাওয়ানো অভদ্রতার অন্তর্ভুক্ত নয়। (মুসনাদে আহমাদ)

হজরত মিকদাম আবু কারিমা (রা.) রেওয়ায়েত করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো গোত্রে কারো কাছে) মেহমান হলো এবং সকাল পর্যন্ত ওই মেহমান (খানা থেকে) বঞ্চিত থাকল অর্থাৎ তার মেজবান রাতে মেহমানের মেহমানদারি করেনি, এমতাবস্থায় তার সাহায্য করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। এমনকি সে মেজবানদের সম্পদ ও শস্য থেকে নিজ রাতের মেহমানদারির পরিমাণ উসুল করে নেবে। (আবু দাউদ)

ফায়দা : এটা ওই অবস্থায় যখন মেহমানের কাছে খানাপিনার ব্যবস্থা না থাকে এবং সে বাধ্য হয়। আর যদি এ অবস্থা না হয়, তবে ভদ্রতা হিসেবে মেহমানদারি করা মেহমানের হক। (মাজাহেরে হক)

আপ্যায়িত বস্তুকে স্বল্পজ্ঞান করা : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওবায়েদ ইবনে উমায়ের (রহ.) বলেন, হজরত জাবের (রা.) নবী করিম (সা.)-এর সাহাবিদের এক জামাতের সঙ্গে আমার কাছে তাশরিফ আনলেন। হজরত জাবের (রা.) সাথিদের সামনে রুটি ও সিরকা পেশ করলেন এবং বললেন, এটা খাও, কেননা আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)কে এই ইরশাদ করতে শুনেছি, সিরকা উত্তম সালন। মানুষের জন্য ধ্বংস যে, তার কয়েকজন ভাই তার কাছে আসে, আর সে ঘরে যা আছে তা তাদের সামনে পেশ করাকে কম মনে করে এবং লোকদের জন্য ধ্বংস যে, তাদের সামনে যা পেশ করা হয়, তারা তাকে তুচ্ছ ও কম মনে করে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, মানুষের খারাবির জন্য এটা যথেষ্ট যে যা তার সম্মুখে পেশ করা হয়, সে তাকে কম মনে করে। (মুসনাদে আহমাদ, তাবারানি, আবু ইয়ালা মাজমায়ে যাওয়ায়েদ)

রোগীকে দেখতে যাওয়ার ফজিলত

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ লোককে দেখার জন্য অথবা আপন মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যায় তখন একজন ফেরশতা ডেকে বলে, তুমি বরকতময়, তোমার চলা বরকতময় আর তুমি জান্নাতে ঠিকানা বানিয়ে নিয়েছ। (তিরমিজি)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আজাদকৃত গোলাম হজরত সওবান (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায়, সে জান্নাতের খোরফার ভেতরে থাকে। জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! জান্নাতের খোরফা কি? ইরশাদ করলেন, জান্নাত থেকে আহরিত ফল। (মুসলিম)

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ভালোভাবে ওজু করে, এরপর সওয়াবের আশা নিয়ে আপন মুসলমান অসুস্থ ভাইকে দেখতে যায়। তাকে দোজখ থেকে সত্তর খরিফ দূর করে দেওয়া হয়। হজরত সাবেত বানানী (রহ.) বলেন, আমি হজরত আনাস (রা.)কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবু হামযা! খরিফ কাকে বলে? তিনি বললেন, বছরকে বলে। অর্থাৎ সত্তর বছরের দূরত্ব পরিমাণ দোজখ হতে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। (আবু দাউদ)



সাতদিনের সেরা