kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

সংস্কারে নতুন রূপ তুরাগে উচ্ছেদের পর চলছে খনন

তৃতীয় পর্যায়ের উচ্ছেদ অভিযানের ফলে বিস্তর এলাকা এখন দখলমুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংস্কারে নতুন রূপ তুরাগে উচ্ছেদের পর চলছে খনন

তুরাগ নদের দুই তীরে উচ্ছেদ অভিযানের পর চলছে সংস্কারকাজ, নতুন রূপ পাচ্ছে তুরাগ। ছবিটি গতকাল বসিলা এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দখল-দূষণে অস্তিত্বের সংকটে থাকা তুরাগ নদে চলছে সংস্কার। রাজধানীর কোলঘেঁষে বয়ে চলা এই নদের বিভিন্ন স্থানে এখনো রয়েছে ‘গলা চিপে ধরার মতো’ দখলি চিহ্ন। সরু নালা পেরিয়ে প্রবাহ এগোতে পারছে না সামনে। তবে অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে দ্রুতলয়ে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দুই তীরে উচ্ছেদ অভিযানের পর শুরু হয়েছে খননকাজ। আর সংস্কারযজ্ঞের সুবাদে নতুন রূপ পাচ্ছে তুরাগ। নানা বাধা পেরিয়ে তুরাগের প্রাণ ফেরাতে এখন চলছে মরিয়া প্রচেষ্টা।

তুরাগের এপারে মোহাম্মদপুর, বসিলা, মিরপুর, উত্তরাসহ রাজধানীর কিয়দংশ। ওপারে সাভারের বড়দেশিসহ বিস্তর এলাকা। সেখানে দুই তীর দখল করে নির্মাণ হয়েছিল বসতবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। কোথাও বা নদীর পুরোটাই দখলে নিয়ে হয়েছিল আবাসন গড়ার ভরাটকাজ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) বছরের শুরুতে তুরাগের দুই তীরে চালিয়েছে উচ্ছেদ অভিযান। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দখলি জমিতে নির্মাণ করা কয়েক হাজার স্থাপনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের আগে শেষ করা তৃতীয় পর্যায়ের উচ্ছেদ অভিযানের ফলে বিস্তর এলাকা এখন দখলমুক্ত। সেখানে এক্সকাভেটরসহ নৌযান নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিআইডাব্লিউটিএর কর্মীরা দিনভর চালাচ্ছেন সংস্কার কার্যক্রম। ভরাট অপসারণের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। তবে যন্ত্র ও জনবলসংকটে খননকাজ শেষ করতে বেগ পেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এর পরও এক মাসের মধ্যে তুরাগ ফিরে পাবে পুরনো প্রবাহ—এমন আশাবাদের কথা জানালেন কর্মকর্তারা।  বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘সরকার ও আদালতের নির্দেশনা নিয়ে নদীতীরের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত আছে। ঈদের আগে যেটুকু কাজ সমাপ্ত করা যায়নি, তা সহসাই শেষ করা হবে। চতুর্থ পর্যায়ের অভিযান শুরু হবে আগামী সপ্তাহে। নদীতীর দখলমুক্ত করার পর এখন ড্রেজিংসহ অন্য কাজ চলছে। রাজধানীর চারদিক ঘিরে থাকা নদী সচল করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে পুনর্দখলসহ কোনো বাধা বরদাশত করা হবে না।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কামারাঙ্গীর চর খোলামোড়া এলাকা থেকে ২ জুলাই ফের শুরু হবে নদীতীরে উচ্ছেদ অভিযান। ঢাকার বাইরে বুড়িগঙ্গার অর্ধেক অংশ রয়েছে ফতুল্লার দিকে। চতুর্থ পর্যায়ের এ অভিযানে দুই তীরের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এ সময়ে চলবে আগে ভেঙে দেওয়া স্থাপানার বর্জ্য অপসারণ।

এদিকে তুরাগ চ্যানেলের প্রায় ১৩ একর এলাকা দখল করে গড়ে ওঠা আমিন মমিন হাউজিংসহ বসিলাসংলগ্ন স্থানে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলছে খননকাজ। সেখানে হামলা-মামলাসহ নানা জটিলতা তৈরি হলেও কাজ থেমে থাকেনি। দৈর্ঘ্যে প্রায় তিন হাজার ও প্রস্থে ২৫০ ফুট নদী দখল করে গড়ে ওঠা আমি মোমিন হাউজিংটি তুরাগের একটি চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে কয়েক দফা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আলোচিত এ চ্যানেল উদ্ধার ও ভরাট অপসারণে ১২টি এক্সকাভেটর কাজ শুরু করে। মাটি অপসারণে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত করা হয়। সেখানে প্রায় আট লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করতে হবে বলে জানা যায়। প্রায় ৪০ ফুট গভীর করে মাটি কাটতে হচ্ছে প্রবাহ সচল করতে। দিন-রাত চলমান এ কাজ আগামী মাসের শুরুতেই সমাপ্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

তুরাগের প্রবাহ সচল প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা জানান, দখল উচ্ছেদের পর এখন দূষণমুক্ত করতে চলছে প্রচেষ্টা। দখল ও দূষণে তুরাগের তলদেশে প্রচুর বর্জ্য জমা হয়েছে, যা অপসারণ করতে গিয়ে মেশিন বিকল হচ্ছে প্রায়ই। এর পরও ৮০ শতাংশ কাজ এগিয়ে গেছে। বর্তমানে নদী থেকে বর্জ্য উত্তোলনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে মিরপুর পালপাড়া, দিয়াবাড়ীতে খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর রামচন্দ্রপুর এলাকায় নদী ও খালের অংশ খনন করা হবে। নদীর প্রবাহকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরানোর পর শুরু হবে পৃথক প্রকল্পের কাজ। তখন নদীতীরে ওয়াকওয়েসহ বিনোদন স্পট তৈরির কাজ হবে। প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে সীমানা পিলার স্থাপনসহ বেশ কিছু কাজ শুরু হয়েছে। নদীগুলো পরিচ্ছন্ন-প্রবহমান করতে ও তীরভূমিতে স্বাস্থ্যকর নান্দনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। নদীতীরে ওয়াকওয়ে, জেটি, ইকো পার্ক নির্মাণ, স্থায়ী সীমানা পিলার স্থাপন, নদীর গভীরতা-প্রশস্ততা বৃদ্ধিকরণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সচেষ্ট সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য