kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন আহমদ ছফা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন আহমদ ছফা

বহুমাত্রিক লেখক আহমদ ছফাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে আলোচকরা বলেন, আহমদ ছফা একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক। এ ছাড়া বুদ্ধিজীবী ও দার্শনিক হিসেবেও পরিচিত। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে যেসব মহান পুরুষ নবজাগরণের অগ্রদূত হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন, তাঁদের মধ্যে আহমদ ছফা ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন ডিরোজিওর অনুরাগী ভাবশিষ্য। দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন তাঁর দার্শনিক গুরু। তিনি তাঁর লেখনী ও রাজনৈতিক আদর্শ দিয়ে মানুষকে সাম্যের সমাজ গড়ে দেওয়ার দর্শনের দীক্ষা নিয়েছিলেন বামপন্থী রাজনীতিক-লেখকদের কাছ থেকে। মানুষের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়েই তাকে লালন ও ধারণ করার চেষ্টা করেছেন। সব সময়ই তিনি অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন।

গতকাল রবিবার জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত ‘আহমদ ছফা : মানবিক ও দার্শনিক চিন্তার অগ্রপুরুষ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন অতিথিরা। বিকেলে জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি অসীম সাহা। প্রধান বক্তা ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্বজিৎ ঘোষ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন লোকসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ। স্বাগত বক্তব্য দেন জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কিপার ড. শিহাব শাহরিয়ার।

বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, কালের এক বহুমাত্রিক মানুষ আহমদ ছফা। অসম্ভব প্রতিভাবান মানুষ ছিলেন তিনি। শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের তিনি ‘অ’ ‘আ’ শেখাতেন। কোনো প্রতিদান ছাড়াই নিজেকে সবার মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। তিনি সব সময় অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন। সমাজের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে আলোকিত দেশ গড়ার স্বপ্ন  দেখতেন।

আহমদ ছফার বিভিন্ন বিখ্যাত গানের কথা তুলে ধরে ফকির আলমগীর বলেন, তিনি অসংখ্য গান লিখেছেন। আহমদ ছফার স্মরণে তাঁর বিখ্যাত গান ‘ঘর করলাম না, সংসার করলাম না’ গানটির কিছু অংশ গেয়ে শোনান এই শিল্পী।

কবি অসীম সাহা বলেন, মানবিকতার কাছে দায়বদ্ধ লেখক হিসেবে আহমদ ছফা তাঁর বিভিন্ন উপন্যাসের চরিত্র চিত্রণে বেছে নিয়েছেন গ্রামীণ পটভূমিকে। জীবিত থাকাকালে আহমদ ছফার প্রথাবিরোধিতা, স্পষ্টবাদিতা এবং নিজস্ব দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য অনেকের কাছেই ছিলেন বিশেষভাবে আলোচিত ও বিতর্কিত। তাঁর মতো সাহসী লেখক ও বুদ্ধিজীবী এ সমাজে সত্যিই বিরল। ব্যক্তিজীবনে যেমন, তেমনি লেখকজীবনে।

জমজমাট আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব

জমে উঠেছে শিল্পকলা একাডেমির আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব। নানা দেশের ভাষার ও সংস্কৃতির নাটক দেখতে ভিড় করছে রাজধানীর নাট্যমোদিরা। জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে চলছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ নাট্যোৎসব। স্বাগতিক বাংলাদেশের পাশাপাশি উৎসবে অংশ নিচ্ছে ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও নেপালের নাট্যদল।

গতকাল ছিল উৎসবের চতুর্থ দিন। এ দিন মঞ্চস্থ হয় চীনের জোহো থিয়েটারের নাটক ‘এফ সিকে’। ২০০৯ সালে চীনের উহানে প্রতিষ্ঠিত জোহো থিয়েটার ইতিমধ্যেই অপেশাদার নাট্যচর্চার অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণে কাজ করায় প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফলে নাট্যদলটির নাট্য প্রযোজনাটি দেখতে ভিড় জমিয়েছিল ঢাকার নাট্যপ্রেমীরা। সম্পূর্ণ চীনা ভাষায় মঞ্চস্থ নাটকটি লিখেছেন ইম্প্রোভাইজড এবং নির্দেশনা দিয়েছেন জিয়ান ফেই ল্যাং।

আজ সোমবার মঞ্চস্থ করবে নেপালের মান্ডালা থিয়েটার ‘ঝিয়ালঞ্চা’, আগামীকাল মঙ্গলবার ভিয়েতনামের লে নক থিয়েটার ‘কিম তু’ এবং বুধবার সমাপনী দিনে রাশিয়ার নিকোলাই জাইকভ থিয়েটার ‘লাইট পাপেট শো’। প্রতিটি নাটকই নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য