kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

বিজিএমইএ ভবন

ঠিকাদার ঠিক হলেও ভাঙা শুরুর দিনক্ষণ নিয়ে দ্বিধা

শাখাওয়াত হোসাইন   

১৮ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঠিকাদার ঠিক হলেও ভাঙা শুরুর দিনক্ষণ নিয়ে দ্বিধা

হাতিরঝিলে অবৈধভাবে নির্মিত বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে ঠিকাদার ঠিক করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান ঠিক হলেও চূড়ান্ত চুক্তিপত্র হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তি শেষে কবে নাগাদ ভবনটি ভাঙা শুরু হবে তা নিয়ে এখনো দ্বিধায় সংস্থাটির কর্মকর্তারা। রাজউক কর্মকর্তারা বলছেন, সর্বোচ্চ দর উল্লেখ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দুই বেইসমেন্টসহ পনেরতলা ভবনটি ভাঙতে দরপত্রে অংশ নেওয়া পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স সর্বোচ্চ দর উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি রাজউককে এক কোটি ৭০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে ভবন ভাঙার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বোচ্চ দরদাতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় গত ৩০ এপ্রিল সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্সকে কাজ দিতে সুপারিশ করে নিলাম মূল্যায়ন কমিটি। তবে চূড়ান্ত চুক্তি করে কবে নাগাদ ভবন ভাঙার কাজ শুরু হবে সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রাজউক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিলাম মূল্যায়ন কমিটি প্রতিষ্ঠান যাচাইয়ে কাজ করছে। ভবন ভাঙার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মালামাল সরানোর সক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে।’

রাজউক সূত্র জানায়, সনাতন পদ্ধতিতেই ভাঙা হবে বিজিএমইএ ভবন। ভবন ভাঙতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজউককে এক কোটি ৭০ লাখ টাকা দেবে। এর বিনিময়ে ভবনে থাকা লোহা, কাচ, ইট, গ্রিল, বৈদ্যুতিক তার, সিলিংসহ মূল্যবান সব সরঞ্জাম নিয়ে নেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনার পর গত ১৭ এপ্রিল উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৪ এপ্রিলে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আবেদন জমা পড়ে। সেগুলো হলো সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স, ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজ, চন্দ্রপুরী এন্টারপ্রাইজ, ডি অ্যান্ড এস এন্টারপ্রাইজ এবং সামিরা এন্টারপ্রাইজ। চন্দ্রপুরী এন্টারপ্রাইজ ছাড়া বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানই ভবন ভাঙার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে দরপত্রে উল্লেখ করে।

রাজউক কর্মকর্তারা জানান, দরপত্রে অংশ নেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই সনাতন পদ্ধতিতে ভবন ভাঙার আগ্রহ দেখায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনের মূল্যবান সরঞ্জাম নিয়ে নেবে। ভবন ভাঙার পর বর্জ্য স্ব-উদ্যোগে সরাবে। ভবন ভাঙতে গিয়ে যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির দায়িত্বও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিজিএমইএ ভবনের ভেতরে কত টাকার জিনিসপত্র রয়েছে সে বিষয়ে কোনো ধরনের মূল্যায়ন করা হয়নি। তবে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্সের সঙ্গেই চুক্তি হতে পারে।’

রাজউক চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘বিজিএমই ভবন ভাঙতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঠিক করবে উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ শাখা। ভবন ভাঙার কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে সে বিষয়টিও ওই শাখা ঠিক করবে।’

মন্তব্য