kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

জাতীয় ফল প্রদর্শনী ও বৃক্ষরোপণ পক্ষ শুরু

বিষমুক্ত ফলের জম্পেশ মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিষমুক্ত ফলের জম্পেশ মেলা

কোনো স্টলে ডেউয়া, লটকন, কাউফল, সফেদা, জামরুল, আঁশফল কিংবা আমড়ার সমাহার; আবার অন্য স্টলে তালের চিনি, কাঁঠালের পাকোড়া-পায়েস, ডাবের পুডিং, পাকা কলার বড়া-চপ, কাঁচা কাঁঠালের সাসলিক; আবার কোথাও ডালিম, কামরাঙা, উইতে, এলাচি লেবু, সাতকরা, তৈকর, আলুবোখারা, হানিকুইন, চাপালিশ (বুনো কাঁঠাল) কিংবা বাহারি জাতের আমের সংগ্রহশালা—রবিবার শুরু হওয়া জাতীয় ফল প্রদর্শনী ও বৃক্ষরোপণ পক্ষের প্রথম দিনে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের চাহিদার কেন্দ্রে ছিল রংবেরঙের ফলফলাদির সম্ভার। আমের জন্য বিখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর, নওগাঁসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা বাগানের ভেজালহীন আমের রসাস্বাদনে আগ্রহী দর্শনার্থীদের সে কী আম কেনার ধুম! সারা দিন প্রদর্শনীতে ঘুরে ও ফল কিনে যেন ‘রথ দেখা ও কলা বেচা’র কাজটাও সারল অনেকে।

রাজধানীর গ্রিন রোড থেকে আসা হেনরি গোমেজ প্রিন্টিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ভেজালহীন ফল কিনতে এসেছেন জানিয়ে বললেন, ‘ফল তো সবখানেই পাওয়া যায়, তবে কোনটা ভালো আর কোনটা নির্ভেজাল তা নির্ণয় করা কঠিন। এখানে সব ফল নির্ভেজাল ও কম ক্ষতিকর—এই আস্থাতেই প্রতিবছর ফল কিনতে ও দেখতে আসি।’

তেজগাঁও কলেজের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির তিন বন্ধু জাকিয়া, রায়হান ও মুনতাহা ঘুরে ঘুরে স্টল থেকে স্টলে জানা-অজানা ফল দেখছে। কালের কণ্ঠকে তারা জানাল, ‘এখানে এসে এমন অনেক ফলের সম্পর্কে জানলাম, যা জীবনে কোনো দিন দেখিনি। কাঁঠাল দিয়েও যে এত সুন্দর রেসিপি করা যায় সেটাও প্রথম দেখলাম। অবশ্যই এগুলো রান্না করার চেষ্টা করব।’

এবারের মেলায় ভিন্ন ভিন্ন ফলের বহুমুখী ব্যবহার ও খাদ্য তৈরির রেসিপি নিয়ে হাজির কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামসুর রহমান ও রশিদুল ইসলাম জানালেন, ‘দেশের কোনো ফল যেন এই প্রদর্শনীতে বাদ না যায় সেটি যেমন দেখছি, তেমনি বিভিন্ন ফলের বহুমুখী ব্যবহারের বিষয়ে দর্শনার্থীদের ধারণা দিতে এবার রেসিপি গাইড দেওয়া হচ্ছে।’

‘পরিকল্পিত ফল চাষ জোগাবে পুষ্টিসম্মত খাবার’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জাতীয় ফল প্রদর্শনী ও বৃক্ষরোপণ পক্ষ ২০১৯’ প্রথম দিনেই জমজমাট রূপ নিয়েছে দর্শনার্থী ও ক্রেতার পদচারণে। রবিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ফার্মগেটের আ কা মু গিয়াস উদ্দিন মিল্কী অডিটরিয়ামে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় বৃক্ষরোপণ ও ফল চাষের ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই প্রদর্শনীতে এ বছর মোট ৮৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কৃষি তথ্য সার্ভিস, বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও পাইকারি ফল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশ নিচ্ছে।

প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, সরকারি বিভিন্ন স্টলে হরেক প্রজাতির ফল প্রদর্শিত হচ্ছে। বিভিন্ন জাতের আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, লিচু, আনারস ছাড়াও সেখানে স্থান পেয়েছে কাউফল, কামরাঙা, জাম, মারফা, অরবরই, খেজুর, পেয়ারা, আমড়া, বেতফল, নারিকেলি লেবু, আদাজামির, জরালেবু, লটকন, আমলকী, বেল, সুপারি, সিডলেস (বিচিহীন) লেবু, সাতকরা, রাম্বুটান, তৈকর, ড্রাগন ফল, করমচা, জাম্বুরা, ল্যাংশায়ার, কদবেল, কাঠবাদাম, ডুমুর, জামরুল, চালতা, নারকেল, আঁশফল, আঙুর, বিলাতি গাব, সফেদা, জামরুল, তাল প্রভৃতি।

অন্যদিকে বেসরকারি স্টলগুলো থেকে দর্শনার্থীরা সুনির্দিষ্ট ও সাশ্রয়ী মূল্যে রাসায়নিকমুক্ত বিভিন্ন জাতের আম, কাঁঠাল, আনারস, ড্রাগন ফল, লিচু, কলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম কিনছে। বিক্রেতাদের কেউ কেউ কৃষক; তারা নিজের বাগানের ফল বিক্রি করতে এসেছে। আবার পাইকারি ফল বিক্রেতারাও প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গার সরিষাবাড়ী থেকে আসা আম বিক্রেতা মাহিম বললেন, ‘আম্রপালি, হিমসাগর ও লেংড়া আম নিয়ে এসেছি। প্রথম দিনেই যে বিক্রি তাতে আমি সন্তুষ্ট।’

নঁওগা থেকে নিজের বাগানের আম নিয়ে আসা কৃষক দেওয়ান আব্দুল হান্নান বললেন, ‘সেই ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত আমার বাগানের আম নিয়ে এই মেলায় আসি মানুষকে ফরমালিনমুক্ত ও সুস্বাদু আম খাওয়াতে। এবার ক্ষীরসাপাত, ছাতাকুড়ি, নাগফজলি ও মনভোগ আম নিয়ে এসেছি। তবে এগুলোর মধ্যে মানুষ নাগফজলি আম বেশি কিনছে।’

তিন দিনব্যাপী ফল প্রদর্শনী শেষ হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। তবে বৃক্ষরোপণ পক্ষ চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

 

 

মন্তব্য