kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

মুক্তিযোদ্ধা তালিকার বিতর্ক নিরসনে কমিশন গঠনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রণয়ন নিয়ে চলা বিভিন্ন বিতর্কের অবসান করতে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশনের দাবি জানিয়েছে ‘একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা’ নামের সংগঠন। তারা বলছে, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে ধরনের অপ্রত্যাশিত বিতর্ক চলছে তা নিরসনে এমন একটি কমিশন গঠনই হবে উপযুক্ত পদক্ষেপ। ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’র প্রকৃত তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিও উঠিয়েছে তারা।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা’ আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সঠিক ও চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব দাবি তোলা হয়। 

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন ‘একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা’র সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ। কমিশন গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, কমিশনের মূল কাজ হবে ১৯৭২ সালের সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’দের সঠিক ও চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন ও তা প্রকাশের ব্যবস্থা। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান তালিকাগুলোর মধ্যে যাঁরা ভুয়া তথা অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যেসব প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কোনো কারণে এখনো তালিকাভুক্ত হননি বা হতে পারেননি, তাঁদের প্রমাণগুলো ভালোভাবে যাচাই ও অনুসন্ধান করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া। একাত্তরে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সহায়তাকারী স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটির সদস্য ও যুদ্ধাপরাধীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন, প্রকাশ ও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

কমিশন গঠনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি তারিক আলী বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে যাতে কমিশনটি কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিইনি। কারণ যুদ্ধ করেছি প্রাণের তাগিদে।’

২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর গঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের এই সংগঠনটি মুক্তিযোদ্ধোদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে কাজ করছে। তারা বলছে, সংবিধানের প্রস্তাবনায় দুটি জায়গায় কয়েকটি শব্দ সংযোজন করেই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়টির সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব।

সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, সদিচ্ছা, আন্তরিকতা আর যথাযথ অঙ্গীকার নিয়ে অগ্রসর হলে সম্ভাব্য অল্প সময়ের মধ্যেই সব মহলে গ্রহণযোগ্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ও চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন সম্ভব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো. রুস্তম আলী মোল্লা।

মন্তব্য