kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

আষাঢ়ে আকাশে আনন্দাশ্রু

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে প্রাণ যখন ওষ্ঠাগত, তখন তাকে শান্ত করে ষড়ঋতুর অন্যতম সৌন্দর্যমণ্ডিত ও প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর বর্ষা

নওশাদ জামিল   

১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আষাঢ়ে আকাশে আনন্দাশ্রু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজিত বর্ষা উৎসবের একটি পরিবেশনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সেই ভোর থেকেই মুখ ভার ছিল আষাঢ়ের আকাশের। কী অপূর্ব রং ও রূপ তার! ধূসর-কালো মেঘে ঢাকা চারদিক। সকালের দিকে কয়েক ফোঁটা জলও ঝরল। আনন্দে যেন কেঁদে উঠল মানুষ ও প্রকৃতি। আনন্দাশ্রুতে বর্ষাবরণে মেতে ওঠে রাজধানীবাসী।

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে প্রাণ যখন ওষ্ঠাগত, তখন ঝিরঝির বারিধারায় তাকে শান্ত করে ষড়ঋতুর অন্যতম সৌন্দর্যমণ্ডিত ও প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর বর্ষা। বাঙালির প্রাণের এই ঋতুকে স্বাগত জানাতে প্রতিবছরের মতো এবারও উদীচী আয়োজন করে বর্ষা উৎসব। একই সময়ে বর্ষা উৎসব আয়োজন করে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। গতকাল শনিবার সকালে আষাঢ়ের প্রথম দিনে বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজনে বর্ষাবরণে শুরু হয় সুরের বন্দনা। পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

গতকাল বৃষ্টিস্নাত সকাল ৭টায় বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে শিল্পী ইবাদুল হক সৈকতের সেতারে ‘মেঘমল্লা রাগ’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজিত বর্ষা উৎসব। উৎসব চলাকালে এক পশলা বৃষ্টি অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসে বর্ষার প্রকৃত আমেজ।

এরপর একে একে পরিবেশিত হয় দলীয় নৃত্য, দলীয় ও একক সংগীত ও আবৃত্তি। দলীয় সংগীত পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ, বহ্নিশিখা, স্বভূমি, ভাওয়াইয়া সংগীত সংগঠন এবং উদীচী বাড্ডা, কাফরুল, মিরপুর, গেণ্ডারিয়া, সাভার শাখা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করেন উদীচী পরিচালিত শিল্পকলা বিদ্যালয় বিশ্ববীণার বেহালা শিল্পীরা। একক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সেঁজুতি বড়ুয়া, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, নাহিয়ান দুরদানা সুচী, মায়েশা সুলতানা উর্বী, মুনমুন খান, রবিউল হাসান, মারুফ ইসলাম ও অনিকেত আচার্য। নৃত্য পরিবেশন করে অনিক বোসের পরিচালনায় স্পন্দন, স্বপ্নবীণা শিল্পকলা বিদ্যালয় ও উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ।

অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি পর্যায়ে বর্ষাকথন পাঠ করেন উদীচী ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান। এ সময় বর্ষাকে নিবেদন করে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিদ্দিক রানা ও উদীচী ঢাকা মহানগরের সভাপতি নিবাস দে। উপস্থিত ছিলেন বর্ষা উৎসব আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক তমিজউদ্দিন ও সদস্যসচিব কংকন নাগ। এ সময় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যৌথ পরিবার, মা, মাটি, মানুষ সবই হরিয়ে যচ্ছে বলে জানান উপস্থিত কৃষক হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রণকারী শিল্পীদের বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা দেওয়া হয়।

একই সময়ে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজন করে বর্ষা উৎসব। শুরুতে সংগীত সংগঠন সুরবিহার সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করে রবীন্দ্রসংগীত ‘বাদল বাউল বাজায় বাজায় রে’। সুরতীর্থ পরিবেশন করে রবীন্দ্রসংগীত ‘ধরণীর গগনের মিলনের ছন্দ’, স্বভূমি লেখক শিল্পীকেন্দ্র পরিবেশন করে লোকসংগীত ‘কলকল ছলছল নদী করে টলমল’। বহ্নিশিখা পরিবেশন করে নজরুলসংগীত ‘মেঘেরও ডমরু ঘন বাজে’।

সম্মেলক গীত পরিবেশনের পর বকুলতলার মঞ্চে হয় বর্ষাকথন পর্ব। এ পর্বের অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি নিগার চৌধুরী, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট।

উৎসবে বক্তারা বলেন, ‘প্রত্যেক ঋতুর নিজস্ব রূপ, রং আছে। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম সে রংগুলো জানুক। প্রকৃতি আমাদের সতর্ক করছে, আমাকে গ্রহণ করো শুদ্ধভাবে। প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচব। নতুন প্রজন্মকে আমরা এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।’

দ্বিতীয় পর্বে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যজন, বাফা, নৃত্যাক্ষ, স্পন্দন। একক সংগীত পর্বে ছিলেন শিল্পী শামা, সঞ্জয় কবিরাজ, প্রিয়াংকা গোপ। আবৃত্তি শোনান শিল্পী নায়লা তারান্নুম কাকলী ও মাসকুর-এ-সাত্তার।

মন্তব্য