kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

পুরান ঢাকায় কারাগারের পুকুরে তরুণীর লাশ

মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের পুকুর থেকে মঙ্গলবার রাতে এক ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম আজমেরী বাহার (২৬)। গভীর রাতে একটি সুরক্ষিত এলাকায় তাঁর প্রবেশ ও মৃত্যু নিয়ে গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর স্বজনরা জানিয়েছে, বাসায় রাগ করে রাত ১০টার দিকে বের হওয়ার দুই ঘণ্টার মাথায় তারা মৃত্যুর খবর পায়। এই মৃত্যুকে ঘিরে সংশ্লিষ্টরা দুটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। তা হচ্ছে—কী করে এই তরুণী রাতের বেলা কারাগারের মতো সংরক্ষিত একটি এলাকার ভেতরের পুকুরে গেলেন? তাঁকে সেখানে নিয়ে কেউ কি হত্যা করেছে? এর মধ্যে তরুণী পুকুরে গিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন—এমন ধারণাও করা হচ্ছে।

চকবাজার থানার ওসি শামীম আল রশীদ জানান, খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে গিয়ে তরুণীর লাশ পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। যে পুকুরে লাশ পাওয়া গেছে তার ঘাটেই তাঁর একটি ব্যাগ পাওয়া যায়। সেটিতে মোবাইল ফোনও ছিল। মোবাইল ফোনের সূত্রে তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁর পরিবার থেকে জানানো হয়েছে—আজমেরী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। কী কারণে কিভাবে এ ঘটনাটি ঘটল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জানতে চাইলে আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা কালের কণ্ঠকে বলেন, লাশ উদ্ধারের ঘটনা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। পুলিশকে তদন্তকাজে সহায়তা করতে কারা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারারক্ষীরা জানান, পুকুরের পাশে যে দুটো গেট রয়েছে দুটো গেটেই কারারক্ষীরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু কারাগারটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর থেকে রক্ষীদের ডিউটি থাকলেও তা ঢিলেঢালাভাবে পালন করা হয়। এক কারারক্ষী জানান, মেয়েটি যখন পানিতে পড়ে যায় তখন আশপাশে থাকা লোকজন ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনেছে। পানিতে ঝাঁপাঝাঁপির শব্দও পাওয়া গেছে। কিন্তু ওই সময় ভয়ে এগোতে সাহস করেনি কেউ। পরে এক কারারক্ষী কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে দেখতে পান ঘাট থেকে ১৫-২০ হাত দূরে একটি লাশ ভেসে আছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা গিয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপতাল মর্গে পাঠায়। জানা গেছে, ওই তরুণী পুরান ঢাকায় নিজেদের ছয়তলা ভবনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাস করতেন। তাঁর বাবার নাম বাহার উদ্দিন। তাঁরা সাত বোন ও এক ভাই। বোনদের মাঝে আজমেরী ছিলেন পঞ্চম। গতকাল দুপুরে পুরান ঢাকার আবুল হাসনাত রোডের ১১২/৩ নম্বর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির গ্যারেজে আজমেরীর লাশ। লাশ দেখে পরিবারের সদস্যসহ আত্মীয়স্বজন কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাঁর চাচা জিয়া উদ্দিন জানান, আজমেরী ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর কিছুটা মানসিক সমস্যা ছিল। তাঁকে চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। এর মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটল।

মন্তব্য