kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

ন্যাশ দিবসের আলোচনা

প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে ফাস্টফুড ও ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে ফাস্টফুড ও ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার

তামাকের মতোই নীরব প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে ফাস্টফুড। দেশে ব্যাপকভাবে এর বিস্তারে স্বাস্থ্যহানি ঘটছে মানুষের। বাড়ছে লিভারের নানা রোগ। পাশাপাশি ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারও লিভারের সর্বনাশ ডেকে আনছে। তাই তামাকের মতোই ফাস্টফুডের ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতামূলক জরুরি পদক্ষেপ ও ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং খাদ্যে ভেজাল—বিষাক্ত উপাদান বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক ন্যাশ দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এ তাগিদ দেওয়া হয়।

একুশে পদকপ্রাপ্ত শহীদ জায়া ও ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভারের অনারারি চেয়ারম্যান শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবেক স্বাস্থ্যসচিব মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, গাজী টিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজাসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)।

প্রবন্ধে জানানো হয়, নন-অ্যালকোহলিক স্টেয়েটোহেপাটাইটিস-ন্যাশ প্রধানত অস্বাস্থ্যকর খাদ্য, ক্ষতিকর খাদ্যাভাস ও অপর্যাপ্ত শারীরিক শ্রমের কারণে হয়ে থাকে। এ রোগে লিভারে চর্বি জমে তার কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। সঠিক সময়ে এর প্রতিরোধ না করলে ধীরে ধীরে যা লিভার সিরোসিস এমনকি লিভার ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় সাধারণ মানুষ এ রোগের প্রতিরোধ বা প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন নয়। ফলে এখনই এ রোগ সম্পর্কে জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব না হলে অদূর ভবিষ্যতে এ দেশের মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এর মধ্যে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার অন্যতম।

বিশিষ্টজনরা বলেন, শুধু অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসই নয়, দেশে ওষুধের যেভাবে যথেচ্ছ ব্যবহার ঘটছে তা থেকেও লিভার ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই সরকারের উচিত এ ক্ষেত্রে আইনগতভাবে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া। নয়তো বিপদ আরো বাড়বে। একইভাবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ভেজাল ও বিষাক্ত উপাদানসম্পন্ন খাদ্য বন্ধেও আরো জোরালো ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা