kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

ডিএনসিসির রাজস্ব বাড়লেও অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

শাখাওয়াত হোসাইন   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিএনসিসির রাজস্ব বাড়লেও অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

বিগত যেকোনো অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) রাজস্ব আয় বাড়লেও অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। সংস্থাটির ঠিক করা লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চলতি অর্থবছরে ২০৫ কোটি ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ২১০ টাকা কম আদায় হয়েছে। তবে বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির রাজস্ব আয় বেড়েছে ১১৪ কোটি ৫১ লাখ আট হাজার ৪৬৯ টাকা।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, হোল্ডিং ট্যাক্স, বাজার সালামি, দোকান ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স, রিকশা লাইসেন্স, প্রমোদ কর, সম্পত্তি হস্তান্তর কর, ক্ষতিপূরণ এবং নগর কর—এই ৯টি খাত থেকে রাজস্ব আয় হয় সিটি করপোরেশনের। প্রতিটি খাতেই বিগত সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে রাজস্ব বেড়েছে। তবে কোনো খাতেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সংস্থাটি। চলতি অর্থবছরে ৪০০ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৭২ কোটি ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৯ টাকা। বাজার সালামি বাবদ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায়ের চিত্র হতাশাজনক। এই খাতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা। কিন্তু আয় হয়েছে মাত্র এক কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৫৮ টাকা। দোকান ভাড়া বাবদ ১০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ছয় কোটি ২০ লাখ ১৪ হাজার ৭১৫ টাকা। অন্যদিকে ট্রেড লাইসেন্স খাতে ৬০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৪ কোটি ৭৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৩৮ টাকা। রিকশার ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখা হলেও রাজস্বের এই খাতে এক কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ডিএনসিসির। কিন্তু রিকশার লাইসেন্স নবায়ন বাবদ আদায় হয়েছে ১২ লাখ ৫৬ লাখ টাকা। আড়াই কোটি টাকা প্রমোদ কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে এক কোটি ৭১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪২ টাকা। ডিএনসিসির রাজস্ব আদায়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত সম্পত্তি হস্তান্তর কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্র ছিল ২০০ কোটি টাকা। কিন্তু এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৮৩ কোটি ২৭ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮৮ টাকা। ক্ষতিপূরণ এবং নগর কর খাতে দুই কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এক টাকাও রাজস্ব আসেনি। তবে বছর শেষে সরকার এই খাতে এক কোটি টাকা করে দুই কোটি টাকা ডিএনসিসিকে পরিশোধ করবে বলে জানা গেছে।

ডিএনসিসি কর্মকর্তাদের দাবি, রাজস্ব আদায়ের হিসাবটি মে মাসে করা হয়েছে। জুনের শেষ নাগাদ আরো ১০০ কোটি টাকার মতো আদায় হবে। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওনা রয়েছে। তা ছাড়া বেসরকারি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজস্বসংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মূলত এ জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন, ‘ডিএনসিসি চলতি অর্থবছরে নতুন মার্কেট নির্মাণ ও হস্তান্তর করতে পারেনি। এ ছাড়া নির্মাণ করা বেশ কয়েকটি মার্কেট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে রাজস্ব পাওনা রয়েছে। মূলত পাওনা রাজস্বের কারণেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা