kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

প্রস্তাবিত বাজেটের প্রভাব

খাওয়ার খরচ বাড়ছে

শওকত আলী   

২৫ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খাওয়ার খরচ বাড়ছে

আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেট প্রস্তাবে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের ওপর বাড়তি করারোপের কারণে ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। খাওয়ার বিভিন্ন পণ্যের বাড়তি দামের কারণে ব্যয় বাড়ছে সংসারের। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।

বাজেট প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সয়াবিন, পাম, সরিষা ও সূর্যমুখীর তেলে স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা তুলে নেওয়া হয়েছে। উৎপাদক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ভ্যাট অব্যাহতি তুলে নেওয়ার কারণে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে আড়াই টাকা পর্যন্ত দাম বাড়বে। যদিও খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাজেট প্রস্তাবের পরপরই প্রতি লিটারে দুই টাকা বেড়ে ৮০-৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চিনি আমদানিতে র সুগারের (অপরিশোধিত চিনি) ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টনে দুই হাজার টাকা এবং পরিশোধিত চিনির ক্ষেত্রে সাড়ে চার হাজার টাকা হারে নির্ধারিত শুল্ক এবং ২০ শতাংশ হারে রেগুলেটরি ডিউটি বিদ্যমান ছিল। আগামী অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় চিনি শিল্পের সুরক্ষার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অপরিশোধিত প্রতি টন চিনির আমদানিতে নির্ধারিত শুল্ক বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা এবং পরিশোধিত চিনির ক্ষেত্রে নির্ধারিত শুল্ক বাড়িয়ে ছয় হাজার টাকা এবং এর সঙ্গে বিদ্যমান রেগুলেটরি ডিউটি ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্যাকেটের চিনির দাম না বাড়লেও খোলা চিনির দাম প্রতি কেজিতে দুই-তিন টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৫২-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ৫০-৫২ টাকায় কেনা যেত।

সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিত সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিনি ও সয়াবিন তেলের ওপর যেভাবে কর প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে দাম বাড়বেই। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে আড়াই টাকা এবং প্রতি কেজি চিনিতে চার টাকা পর্যন্ত দাম বাড়বে। আর এই দাম ভোক্তাকেই দিতে হবে।’

সরিষার তেলে রেয়াতি হারে ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রতি কেজি সরিষার তেলের দাম অন্তত ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়বে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, সরিষার তেলের উৎপাদক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ারের প্রতি লিটার সরিষার তেল উৎপাদনে খরচ হতো ২০৪ টাকা, যা এখন হবে ২১৪ টাকা। 

শুধু সয়াবিন তেলই নয়, হলুদ, মরিচ, ধনিয়াসহ সব মসলাজাতীয় পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রতি কেজি হলুদের গুঁড়ায় সাত টাকা, মরিচের গুঁড়ায় ৯ টাকা এবং ধনিয়ার গুঁড়ায় পাঁচ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়বে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাজেটের কারণে প্রতি কেজি গুঁড়া দুধের দাম কমপক্ষে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাবে।

মিডিয়াকম লিমিটেডের সিএফও আব্দুল্লাহ আল জাবেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে মসলা চাষে উৎসাহ প্রদানে সরকার ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়, যাতে বেশি মসলা দেশেই উৎপাদিত হয়। এদিকে আমরা যারা মসলা প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করছি সেখানে আবার ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভোক্তা যে প্যাকেটের মসলা কিনবে তার দাম বাড়বে।’

মালিবাগে বসবাসকারী বেসরকারি চাকরিজীবী আমানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পত্রিকায় দেখেছি বাজেটের কারণে তেল, চিনি, গুঁড়া দুধ, মসলার দাম বাড়বে। এতে তো সংসারের খরচ বেড়ে যাবে।’ মিরপুর ১২ নম্বরের গৃহিণী শায়লা শারমীন বলেন, ‘আমার ছোট বাচ্চার জন্য গুঁড়া দুধ কিনতে হয়। এর দাম বেড়েছে। তেল, মসলার দামও বাড়বে শুনেছি। এতে তো বাড়তি খরচ হবেই।’

ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভোগ্য পণ্যের দাম বাড়ে এমন করহার পরিবর্তন করা উচিত। কারণ বাজেটে ভোক্তার ব্যয় বাড়বে না এমন আশ্বাসই দিয়েছে সরকার। তেল, চিনি, গুঁড়া দুধ, মসলা—এগুলোর যাতে দাম না বাড়ে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

মন্তব্য