kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা

ছাতা-জায়নামাজ ছাড়া আর কিছু নেওয়া যাবে না ঈদগাহ মাঠে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা

অন্যান্যবারের মতো এবারের ঈদেও ফাঁকা রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তার আয়োজন করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইসহ যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর থাকবে বলে বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা জায়নামাজ ও ছাতা ব্যতীত কোনো কিছু সঙ্গে আনতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। প্রত্যেক মুসল্লিকে তিন ধাপে তল্লাশি শেষে ঈদগাহে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঈদের ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তায় দশ সহস্রাধিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য রাজধানীর নিরাপত্তায় তৎপর থাকবে। এ ছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। ঈদের জামাত ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। পুলিশ ও র‌্যাবের পোশাকধারী সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্যরাও তৎপর থাকবে। পুরো নগরী থাকবে গোয়েন্দা নজরদারিতে। ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো জঙ্গি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যেন তৎপরতা চালাতে না পারে সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বেশি সাজাগ রয়েছে। সব সদস্যকে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঢাকা মহানগরীর গুলশানের কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে এরই মধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চৌকির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঈদকে ঘিরে ঢাকাজুড়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে কয়েক পর্বের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। রমজানে প্রথম পর্ব শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। রমজানে এখনো রাজধানীতে উল্লেখযোগ্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি। আশা করছি ঈদের নামাজও হবে শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর। ঈদ পরবর্তী সময়েও ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতি রয়েছে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে ঈদ উৎসবটি নিরাপদ করার ব্যবস্থা করা হবে। দেশজুড়ে র‌্যাবের সর্বোচ্চ উপস্থিতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হচ্ছে। জাতীয় ঈদগাহসহ রাজধানীতে পাঁচ শতাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানী ছাড়াও শোলাকিয়া, দিনাজপুরসহ সব কটি বড় ঈদ জামাতে নিরাপত্তা কাভার করা হবে।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন ডিএমপি কমিশনারের : গতকাল সকাল ১১টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শনে যান ডিএমপি কমিশনার। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ কেন্দ্র করে আমরা কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছি। নিরাপত্তায় থাকবে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ। প্রস্তুত থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড। ঈদগাহে প্রবেশের পূর্বে প্রত্যেক মুসল্লিকে তিন ধাপে তল্লাশির মাধ্যমে ঈদগাহে ঢুকতে দেওয়া হবে। একই নিরাপত্তাব্যবস্থা আমরা নিয়েছি বায়তুল মোকাররম মসজিদেও। শিক্ষা ভবন, মৎস্য ভবন ও প্রেস ক্লাবের সামনে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে সবাইকে তল্লাশির মাধ্যমে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। এ এলাকায় কেউ গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। এর পরের ধাপে মূল গেটে এবং ঈদগাহের ভিআইপি জোনের আগে আরো দুই দফা আর্চওয়ের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। এ ছাড়া ডিএমপির ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে ঈদগাহ মাঠ সুইপিং করা হবে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। জাতীয় ঈদগাহ এবং বায়তুল মোকাররমে স্থাপিত অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো রিয়েল টাইম মনিটরিং করা হবে।’

নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে কমিশনার বলেন, ঈদ জামাতে অংশগ্রহণের জন্য আগত মুসল্লিরা জায়নামাজ এবং প্রয়োজনে ছাতা ছাড়া অন্য কিছু আনবেন না। ঈদগাহে প্রবেশের আগে সবাইকে তল্লাশি করা হবে, এ জন্য গেটে দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হলেও সবাই ধৈর্য সহকারে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। তিনি আরো বলেন, ঈদে কিংবা ঈদ জামাতে সুস্পষ্ট কোনো নিরাপত্তার হুমকি নেই। তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যথেষ্ট সতর্ক থাকার কারণ রয়েছে।

মন্তব্য