kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

সরেজমিন মিরপুর রোড

পরিবহন সংকটে নগরবাসী তীব্র যানজট

সিগন্যালে সিগন্যালে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি!

জহিরুল ইসলাম   

২৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিবহন সংকটে নগরবাসী তীব্র যানজট

কলাবাগান যাওয়ার জন্য আজিমপুর এলাকায় এতিমখানার সামনে প্রায় এক ঘণ্টার মতো দাঁড়িয়েছিলেন কলাবাগান ক্যাপিটাল মার্কেটের দোকানি এ বি এম আব্দুল লতিফ। কয়েকজন রিকশাচালককে বললেও কেউ রাজি হচ্ছিল না। কারণ হিসেবে রহমান নামে এক রিকশাচালক বলেন, ‘এইহানে গাড়ি না থাকলে কী হইছে, সামনে যাওনের সুযোগ নাই। পুরা রাস্তায় গাড়ি আটকাইয়া আছে। আমি অনেক কষ্টে বাইর হইয়া আইছি।’

গতকাল শনিবার সকাল থেকে বাস-মিনিবাস খুবই কম দেখা যায় মিরপুর রোডে। যেসব বাস রাস্তায় নামে তারও বেশির ভাগই যানজটের কারণে আটকা পড়ে থাকে। তাতে গণপরিবহনের সংকট আরো বাড়ে। যারা বাসে উঠতে সক্ষম হয় তাদের যানজটে বসে থাকতে হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আজিমপুর থেকে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত যেতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। নিউ মার্কেট থেকে এলিফেন্ট রোড, কলাবাগান হয়ে আসাদগেট পর্যন্ত মিরপুর সড়কেও দেখা যায় তীব্র যানজট।

তবে যানজট আর গণপরিবহনের সংকট নিয়ে ট্রাফিক পুলিশ আর চালকদের বক্তব্যে পাওয়া যায় ভিন্নতা। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা দাবি করেন, ঈদ সামনে থাকায় নিউ মার্কেট, এলিফেন্ট রোড, ধানমণ্ডি এলাকার বেশির ভাগ মার্কেটে ছোট গাড়ি ও মানুষের চাপ বেশি। অন্যদিকে চালকরা বলেন, প্রতিটি সিগন্যালে ট্রাফিক পুলিশ কারণে অকারণে চেক করার নামে টাকা নিচ্ছে। এ কারণে অনেক বাস-মিনিবাস রাস্তায় নামেনি।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আজিমপুর এতিমখানার সামনে গিয়ে মিরপুরগামী সেফিট, মিরপুর লিংক, ঢাকা মেট্রো, আশীর্বাদ পরিবহনের কোনো বাসেরই দেখা মেলেনি। এক ঘণ্টার মতো অপেক্ষার পর মিরপুর লিংকের একটি বাস মিললেও ওঠার মতো অবস্থা ছিল না। যারা উঠলেন তারাও বেশি সময় বাসের মধ্যে বসে থাকতে পারলেন না। ততক্ষণে বিভিন্ন সড়কের একাধিক বাসে রাস্তায় যানজট লেগে যায়। একপর্যায়ে দেখা যায়, আজিমপুর মোড় দিয়ে গুলিস্তান-ধামরাইগামী একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-জ ১৪২৫০৪) থামিয়ে কাগজ দেখাতে বলেন ট্রাফিক পুলিশ আওয়াল। চালক কাগজ বের করে দিলে আওয়াল বলেন, ‘সামনে যা।’ সামনে গিয়ে চালক নেমে ৫০ টাকা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে বেশ কয়েকটি বাস থেকে টাকা নিয়ে ছাড়তে দেখা যায়। ঠিকানা পরিবহনের শ্যামলীগামী একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫৪১৫৮) চালক বলেন, ‘কী করব, ট্রাফিক পুলিশ ধরলে কাগজ দেখিয়েও লাভ হয় না। টাকা দেওন লাগে।’

ট্রাফিক পুলিশের এমন ভূমিকায়ও বাসে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। নীলক্ষেত সিগন্যাল, এলিফ্যান্ট রোডসহ কয়েকটি সিগন্যাল পার হয়ে কলাবাগান পর্যন্ত যেতেই লেগে যায় আড়াই ঘণ্টা।

মন্তব্য