kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

চাঁদনীচক, নিউ মার্কেটে নারী ক্রেতার ভিড়

নওশাদ জামিল   

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাঁদনীচক, নিউ মার্কেটে নারী ক্রেতার ভিড়

পছন্দের পোশাকে নিজেকে সাজাতে নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচকে ভিড় এখন নানা বয়সের মানুষের। ছবিটি গতকাল নিউ মার্কেট থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রচণ্ড গরম, প্রচণ্ড যানজট—ক্রেতা-দর্শনার্থীরা যেন দিশাহারা। ঈদের কেনাকাটার জন্য গরম ও যানজটের বাধা উপেক্ষা করে ক্রেতারা ছুটছে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। পছন্দের পোশাকে নিজেকে সাজাতে নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচকে ভিড় এখন নানা বয়সের মানুষের, বিশেষ করে নারীদের, তরুণীদের। ঈদ ঘিরে নারী ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে বিক্রেতারাও এনেছে নানা ডিজাইনের সব বয়সীদের পোশাক।

গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে তৈরি করা এসব পোশাকের দামও রাখা হয়েছে ক্রেতার সাধ্যের মধ্যেই। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে সমাজের নানা শ্রেণির মানুষ কেনাকাটা করতে আসছে নিউ মার্কেট এলাকায়। প্রধানত নারী ও শিশুদের পোশাকের জন্য এ এলাকার দোকানগুলো বিখ্যাত। এ জন্য এখানে নারী ক্রেতার উপস্থিতি বেশি।

গতকাল সোমবার বিকেল ও সন্ধ্যায় নিউ মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক ক্রেতার উপস্থিতিতে জমজমাট গোটা এলাকা। চাঁদনীচক, গাউছিয়া ও নিউ মার্কেটের অবস্থান পাশাপাশি হওয়ায় ক্রেতারা ঘুরেফিরে দরদাম করে কেনার সুযোগ পায়। যারা একটু ঘুরে ঘুরে কিনতে পছন্দ করে, তাদের কাছে নিউ মার্কেট এলাকার বিপণিবিতানগুলো অনেক আকর্ষণীয়। এখানকার বিপণিবিতান ঘুরে দেখা যায়, শাড়ি, থ্রিপিস, শার্ট-পাঞ্জাবি, জুতা-স্যান্ডেল, কসমেটিকস, অর্নামেন্টস, দর্জিবাড়ি—সব কিছুই আছে এ এলাকায়। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে এখানে তত ভিড় বাড়ছে তরুণীদের। পাশাপাশি ভিড় বাড়ছে তরুণদেরও।

চাঁদনীচকের হিয়া ফ্যাশনের সামনে দেখা মোহাম্মদপুর থেকে আসা দুই তরুণী তারিন ও শম্পার সঙ্গে। কথা প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, ‘এখানে এসেছি গজ কাপড় কিনতে। এখানে দরদাম করে কেনা যায় এবং অনেক ধরনের কাপড় পাওয়া যায়। তা ছাড়া থ্রিপিসের জন্য চাঁদনীচকের তুলনা হয় না। সব ধরনের থ্রিপিস চাঁদনীচক থেকে কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।’

নিউ মার্কেট এলাকায় যেমন প্রচুর দোকান রয়েছে, তেমনি গোটা এলাকার ফুটপাতে রয়েছে অসংখ্য ভাসমান দোকান। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের অসংখ্য মানুষ ফুটপাত থেকে ঈদের পোশাক কিনছে। নিউ মার্কেটের ফুটপাতে শিশু ও মেয়েদের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকার আবদুল হাকিম। এখানে পোশাক-পরিচ্ছদ যে দামে বিক্রি হয়, তা অন্যান্য বড় শপিং মলে বিক্রি হয় দ্বিগুণ দামে। হাকিম বলেন, ‘মার্কেটের দোকানের ভাড়া গুনতে হয় অনেক বেশি। ফুটপাত তো আর তেমন নয়। তা ছাড়া আমরা সরাসরি বিভিন্ন গার্মেন্ট থেকে মালামালের লট কিনে আনি। ফলে আমরা কম দামে কিনতে পারি। তাই বিক্রিও করি কম দামে।’ কেনাবেচা বেশ ভালো হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।

ফুটপাতে ছেলেদের শার্ট বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, জিন্স প্যান্ট ৩৫০ থেকে ৭৫০, টি-শার্ট ২৫০ থেকে ৪০০, মেয়েদের থ্রিপিস ৪৫০ থেকে এক হাজার ২০০, শাড়ি ৪৫০ থেকে এক হাজার, শিশুদের থ্রি-কোয়ার্টার জিন্স প্যান্ট ৩০০, গেঞ্জির সেট ২০০ থেকে ৫০০, ফ্রক ও টপস ২৫০ থেকে ৫০০, শাড়ি ৫০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। নিউ মার্কেটের আশপাশে অনেকেই ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করছে। তারা মেয়েদের বিভিন্ন সাজানি ও ঘরের ছোটখাটো আসবাবপত্র বিক্রি করছে। হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিক্রি আগের চেয়ে দিন দিন বাড়ছে। ক্রেতা-দর্শনার্থীও বাড়ছে।

ফুটপাত থেকে ভেতরে মার্কেটের দোকানগুলোতে ঢুকে দেখা যায়, সেখানে পোশাকের দাম একটু বেশি। তবে ক্রেতার অভাব নেই। ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়ে জমজমাট গোটা নিউ মার্কেট এলাকা। শাড়ি কিনতে আসা গৃহিণী আয়েশা আক্তার প্রান্তি বলেন, ‘দুটি শাড়ি কিনেছি। এখন ছুটছি শাড়িতে ব্লক প্রিন্ট করাতে। নিউ মার্কেটে শাড়ি ও থ্রিপিসে ব্লক প্রিন্ট করা যায়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা