kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ডিএমপির অভিযান

রান্নাঘরে তালা লাগিয়েও রক্ষা পায়নি প্রিন্স হোটেল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রান্নাঘরে তালা লাগিয়েও রক্ষা পায়নি প্রিন্স হোটেল

চাকচিক্যময় পরিবেশে ভোক্তাদের পরিবেশন করা হচ্ছে হরেক রকমের খাবার। স্বাদ আর পরিবেশের কারণে ক্রেতাদের থাকে উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু সেসব খাবার যেখানে প্রস্তুত হচ্ছে সেখানকার পরিবেশ দেখলে হোঁচট খেতে হচ্ছে সবাইকে। রাজধানীর বিভিন্ন নামকরা হোটেল ও রেস্টুরেন্টে নিত্যদিন খাবার প্রস্তুত হচ্ছে নোংরা ও অস্বস্তিকর পরিবেশে। রান্নাঘরে অভিযান চালালেই মিলছে এমন ভয়ংকর চিত্র। মিরপুরে অবস্থিত প্রিন্স হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গতকাল রবিবার অভিযান চালিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে জরিমানা করা হয়েছে তিন লাখ টাকা।

ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে গতকাল দুপুরে একটি টিম পৌঁছে মিরপুর এলাকায়। ডিবি ও ক্রাইম বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত পুলিশের টিমটি মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অভিযান শুরু করে। প্রিন্স হোটেলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে স্টাফরা চারতলায় রান্নাঘরে তালা দিয়ে সটকে পড়ে। পরে তালা ভেঙে দেখা যায় চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। নোংরা মেঝেতে পলিথিন বিছিয়ে মসলা বাটা হচ্ছে। সেখান দিয়েই স্টাফরা হাঁটাহাঁটি করে। মাছি ঘুরছে চারদিকে। ফ্রিজে পাওয়া যায় বিস্তর মুরগির মজুদ, যা জবাইয়ের পর পালকসহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ফ্রিজ তল্লাশি করে বাসি-পচা নানা খাবার পাওয়া যায় সেখানে। ‘কড়া করে’ ভাজা হলে এসবের গন্ধ থাকে না বলে জানায় স্টাফরা।

অভিযানকালে প্রিন্স হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিককে না পাওয়া গেলেও ম্যানেজার উপস্থিত হন। তিনি নানা বিচ্যুতির কথা স্বীকার করে নেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পচা-বাসি খাবার রাখা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অভিযোগে প্রিন্স হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেন।

এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত মিরপুর ২ নম্বর সেকশন এলাকায় গিয়ে মায়ের দোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে নোংরা পরিবেশ দেখতে পান। এ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় ৪০ হাজার টাকা। একই এলাকার পূর্ণিমা রেস্টুরেন্টকে জরিমানা করা হয় ২৫ হাজার টাকা।

ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘যেখানেই অভিযান হচ্ছে, সেখানেই মিলছে নোংরা পরিবেশ। জরিমানার পাশাপাশি হোটেল মালিক ও স্টাফদের সতর্ক করা হচ্ছে। ভোক্তাদের চাপের মুখে পড়লে হয়তো কিছুটা পরিবেশ উন্নত হবে। খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও পচা-বাসি খাবার পরিবেশন প্রতিরোধে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।’

মন্তব্য