kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

জাদুঘর দিবসে সেমিনার

জাদুঘর ও নলিনীকান্ত ভট্টশালী অবিচ্ছেদ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জাদুঘর ও নলিনীকান্ত ভট্টশালী অবিচ্ছেদ্য

বিশ্ব জাদুঘর দিবস উপলক্ষে গতকাল জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত ‘নলিনীকান্ত ভট্টশালী : বাংলার প্রত্ন গবেষণায় একনিষ্ঠ সাধক’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নলিনীকান্ত ভট্টশালী ছিলেন একজন ইতিহাসবেত্তা, প্রত্নতত্ত্ববিদ, মুদ্রাবিজ্ঞানী, লিপিবিশারদ ও প্রাচীন বিষয়াবলি সম্পর্কে পণ্ডিত। প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির বহু অস্পষ্টতা অপসারণে তাঁর বিশাল অবদান রয়েছে। ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর জাদুঘরের চৌহদ্দির মধ্যেই কেটেছে তাঁর সারা জীবন। এর গঠন পর্যায়ে ঢাকা জাদুঘর ও ভট্টশালী ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। আজকের জাতীয় জাদুঘরের ভ্রূণশিশু ছিল ঢাকা জাদুঘর।

‘নলিনীকান্ত ভট্টশালী : বাংলার প্রত্ন গবেষণায় একনিষ্ঠ সাধক’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে এ তথ্য উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনেওয়াজ।

গতকাল শনিবার বিশ্ব জাদুঘর দিবস উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় জাদুঘর। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান। স্বাগত ভাষণ দেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট ফোকলোরবিদ অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সোনিয়া নিশাত আমিন ও লেখক আলী ইমাম।

এ কে এম শাহনেওয়াজ বলেন, প্রত্নবস্তু সংগ্রহ, শ্রেণীকরণ, এসবের ঐতিহাসিকতা নিশ্চিতকরণ ও শৈলী বিচারের গুরুদায়িত্ব নিয়ে নলিনীকান্ত ভট্টশালী উত্তরসূরিদের এগিয়ে চলার সোপান তৈরি করে দিয়েছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ও প্রবন্ধগুলো এরই স্বাক্ষর বহন করছে। প্রত্ন গবেষক এই ক্ষণজন্মা মানুষটির জীবন তর্পণ ও কর্ম সংরক্ষণের মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে প্রজন্ম প্রণোদিত হবে।

মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘তাঁর (নলিনীকান্ত) দীর্ঘ ৩৩ বছরের কর্মজীবনের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি জাদুঘরের বিশাল সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। আমাদের উচিত নলিনীকান্ত ভট্টশালীর আদর্শ-নীতি নিয়ে, জাদুঘর নিয়ে কাজ করা, গবেষণা করা এবং জাদুঘরকে আরো সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করা।’

শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘জাদুঘরের প্রতিটি নিদর্শন অত্যন্ত সুন্দর ও সুপরিকল্পিতভাবে প্রদর্শন করা। জাদুঘর পরিদর্শন করলে আমরা জানতে পারি আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে এবং আমাদের ভেতর আরো জানার আগ্রহ তৈরি হয়।’

হাশেম খান বলেন, জাদুঘরের উন্নয়নে নলিনীকান্ত ভট্টশালী যে অবদান রেখে গেছেন, তা অপরিসীম।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা