kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ভেজালবিরোধী অভিযান

হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে ময়লা, গন্ধে টেকা দায়

পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে ময়লা, গন্ধে টেকা দায়

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গতকাল রাজধানীর ফকিরাপুল ও মতিঝিল এলাকায় হোটেলগুলোতে অভিযান চালিয়ে পচা-বাসি-ভেজাল খাবার পাওয়ায় পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

চাকচিক্যময় হোটেলের রান্নাঘর পূতিগন্ধময়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনার মধ্যে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু খাবার। টেবিলে পরিবেশন করা মুখরোচক খাবার আসলে কিভাবে তৈরি হচ্ছে তা থেকে যায় অন্তরালে। ভেজালবিরোধী অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেট এলেই গোমর ফাঁস হয়ে যায়। জেল জরিমানার ধাক্কা সামাল দিয়ে ব্যবসায়ীরা একই অপরাধ করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। গতকাল বুধবার ভেজালবিরোধী এক অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে জরিমানা গুনেছে আরামবাগের ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ, ফকিরাপুলের এশিয়া গার্ডেন রেস্তোরাঁ, নিউ আল ইমাম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ও দি গাউছিয়া হোটেল। মেয়াদোত্তীর্ণ মালামাল বিক্রির দায়ে জরিমানা গুনেছে শান্তিনগরের মুদি দোকান মেসার্স আব্দুল কুদ্দুস ভূঞা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভেজালবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত এবারে রমজান মাসে জোরদার করেছে অভিযান। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খাবার হোটেল ও চেইন শপ, মুদি দোকানে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। ফকিরাপুল, আরামবাগ ও শান্তিনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয় পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে, যার চারটিই শাস্তির মুখে পড়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে।

অভিযানকালে ফকিরাপুলের এশিয়া গার্ডেন রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় বাসি খাবার। রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে, নোংরায় ভরা। এ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় ৫০ হাজার টাকা। একই এলাকার দি গাউছিয়া হোটেল ও নিউ আল ইমাম হোটেলে মেলে প্রায় অভিন্ন চিত্র। তাদের জরিমানা করা হয় ৩০ হাজার টাকা করে। দি গাউছিয়া হোটেলে ফ্রেমে বাঁধাই করা আছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া ‘এ’ মানের সার্টিফিকেট। চলতি বছর ২০ জানুয়ারি ইস্যু করা এ সনদ বাইরে থাকলেও ভেতরের অবস্থা একেবারেই নাজুক। ময়লার ঝুড়িতে খাবার রাখা। রক্ত জমাট নোংরা ফ্রিজ থেকে উদ্ধার করা মাংসে পচন ধরেছে আগেই। ড্রেনের ওপরেই থালা-বাসন ধোয়ার কাজ করে কর্মীরা। রান্নার জিনিসপত্র পরিষ্কার করা হয় সেখানেই।

ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত যখন আরামবাগের ঘরোয়া হোটেলে পৌঁছেন তখন কর্মীদের ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট রান্নাঘর ও মালামাল রাখার ফ্রিজ তল্লাশি করেন। পুরো রান্নাঘর ময়লা-আবর্জনায় ভরা। ম্যাজিস্ট্রেট এ প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

অভিযানের শেষ ভাগে শান্তিনগর বাজারে মেসার্স আব্দুল কুদ্দুস ভূঞা নামে এক মুদি দোকানে হানা দেয়। সেখানে সারি সারি পণ্য রাখা থাকলেও মূল্যতালিকা নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ বেশ কিছু মালামাল পাওয়া যায় এ প্রতিষ্ঠানে। ব্যবসায়ীকে সতর্ক করার পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা