kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপের ফল

এবার দক্ষিণ ঢাকায় এডিস মশার বিস্তার বেশি

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দক্ষিণের ৪০ নম্বর ওয়ার্ড, উত্তরের ৩৫ নম্বর

তৌফিক মারুফ   

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার দক্ষিণ ঢাকায় এডিস মশার বিস্তার বেশি

ঢাকা উত্তরের তুলনায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এডিস মশার ঘাঁটি বা প্রজননক্ষেত্র বেশি পাওয়া গেছে। চলতি মাসের শুরুতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে করা এক জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা কালের কণ্ঠকে এ জরিপের কথা নিশ্চিত করেছেন। এরই মধ্যে ওই জরিপের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এমনকি তা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের একটি বৈঠকও হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। ওই বৈঠকে এই জরিপের ফল সামনে নিয়ে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই জরিপের ফল অনুসারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব সূচক (বিআই) সর্বোচ্চ ৮০ পাওয়া গেছে ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে (শরত্গুপ্ত রোড, গেণ্ডারিয়া); যে ওয়ার্ডের আওতায় রয়েছে পুরান দয়াগঞ্জ, নারিন্দা, স্বামীবাগ, গেণ্ডারিয়াসহ আশপাশের এলাকা। আর এই এলাকাই এবার বৃহত্তর ঢাকা মহানগরীর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হয়েছে। এর পরই বিআই ৭০ পাওয়া গেছে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে, ৪০ পাওয়া গেছে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে, ৩০ পাওয়া গেছে ৪ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং ২০ পাওয়া গেছে ৬ নম্বর (দক্ষিণ মুগদাপাড়া ও বাসাবো), ৭ নম্বর (মানিকনগর বিশ্বরোড), ১৪ নম্বর (শেরেবাংলা রোড ও হাজারীবাগ), ১৯ নম্বর (মগবাজার ও রমনা), ২০ নম্বর (সেগুনবাগিচা), ২১ নম্বর (শাহবাগ), ২২ নম্বর (হাজারীবাগ), ৪৩ নম্বর (ফরাসগঞ্জ), ৪৭ নম্বর (গেণ্ডারিয়া, শ্যামপুর, উত্তর যাত্রাবাড়ী) ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে (তেজগাঁও)। সেখানে লার্ভার ঘনত্ব সূচক (বিআই) সর্বোচ্চ ৪০ পাওয়া গেছে। এর পরই বিআই ৩০ পাওয়া গেছে ১ নম্বর (তুরাগ), ৪ নম্বর (পল্লবী) ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে (বনানী, গুলশান, বারিধারা) এবং ২০ পাওয়া গেছে ১৬ নম্বর (কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া), ২২ নম্বর (রামপুরা) ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে (বাড্ডা)। রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ডেপুটি প্রগ্রাম ম্যানেজার (ডিপিএম) ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জরিপকাজটি গত ৩-১২ মে পর্যন্ত দুই সিটি করপোরেশনের ৯৭ ওয়ার্ডের ১০০টি স্থানে পরিচালিত হয়েছে। আমরা এ কার্যক্রমের আওতায় ৯৯৮টি বাড়ি পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ করেছি।’ তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যেসব এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব পরিমাপে ব্যবহৃত সূচক বেশি দেখা গেছে ওই সব এলাকার নির্মাণাধীন ভবনের মেঝেতে জমানো পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিক ড্রাম, প্লাস্টিক বালতি, পানির চৌবাচ্চা ও ফুলের টবে এডিস মশার প্রজনন বা বংশবিস্তার বেশি দেখা গেছে।

এই কর্মকর্তা জানান, বড় মশার ঘনত্ব নির্ণয়ে এবারই প্রথম বিশেষ প্রযুক্তির ফাঁদ (বিজি সেন্টিনেল ট্র্যাপ-২) ব্যবহার করা হয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯টি ওয়ার্ডে ১৪১টি ফাঁদ বসানো হয়। এতে দেখা যায় কিউলেক্স মশার আধিক্য, প্রতিটি ট্র্যাপে এডিস মশা পাওয়া যায় শূন্য দশমিক ৫৫টি এবং কিউলেক্স মশা পাওয়া যায় গড়ে ৪৬ দশমিক ৭টি।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে আমরা গত কয়েক বছর ধরেই নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। এর ধারাবাহিকতায় এবারও মশা পরিস্থিতি দেখতে এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে সিটি করপোরেশন থেকে লার্ভিসাইড ও এডালটিসাইড ছিটানো হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা